মানবাধিকার কাউন্সিল নির্বাচন ২০০৯

মানবাধিকার কাউন্সিল হচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান রাজনৈতিক সংস্থা৷ এই কাউন্সিলটি গঠিত হয়েছে ৪৭টি নির্বাচিত সদস্য রাষ্ট্র দ্বারা যারা মানবাধিকারের প্রবর্ধন ও সুরক্ষার জন্য অবশ্যই সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখবে৷

UN Secretary-General Ban Ki-moon unveils new ceiling of Human Rights Council, Geneva, Switzerland, 18 November

ন্যায়সঙ্গত ভৌগলিক বন্টনের ভিত্তিতে, এটি নিম্নলিখিতভাবে আঞ্চলিক গ্রুপগুলোর জন্য আসন বরাদ্দ দেয়ঃ আফ্রিকান গ্রুপ, ১৩টি আসন; এশীয় গ্রুপ, ১৩টি আসন; পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপ, ৬টি আসন; ল্যাটিন আমেরিকান ও ক্যারিবীয় গ্রুপ, ৮টি আসন; এবং পাশ্চাত্য ও অন্যান্য গ্রুপ, ৭টি আসন৷

তিন-বছর মেয়াদে কাউন্সিলে একটি আসন পেতে হলে, কোনো দেশকে সাধারণ পরিষদের ১৯২ সদস্যের মধ্যে অবশ্যই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন (৯৭টি ভোট) পেতে হবে৷ সদস্যরা একবার তাৎক্ষণিক পুন-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে৷

মানবাধিকার কাউন্সিলের যে ১৮টি সদস্যের মেয়াদ ১৯ জুন ২০০৯ তারিখে শেষ হবে তারা হচ্ছেঃ আজারবাইজান, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, কানাডা, চীন, কিউবা, জিবুতি, জার্মানি, জর্দান, মালয়েশিয়া, মরিশাস, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, রাশিয়ান ফেডারেশন, সৌদি আরব, সেনেগাল, সুইজারল্যাণ্ড ও উরুগুয়ে৷

এই বছরের নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হয়েছে ১২ মে ২০০৯ তারিখে। এটি লেখার সময়, নিচে উল্লিখিত দেশগুলো আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে বলে জানা গেছেঃ

•    আফ্রিকান গ্রুপ (৫টি শূন্য আসন): ক্যামেরুন, জিবুতি, কেনিয়া, মরিশাস, সেনেগাল
•    এশীয় গ্রুপ (৫টি শূন্য আসন): বাংলাদেশ, চীন, জর্দান, কিরগিজস্তান, সৌদি আরব
•    পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপ (২টি শূন্য আসন): আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, রাশিয়ান ফেডারেশন
•    ল্যাটিন আমেরিকান ও ক্যারিবীয় গ্রুপ (৩টি শূন্য আসন): কিউবা, মেক্সিকো, উরুগুয়ে
•    পাশ্চাত্য ও অন্যান্য গ্রুপ (৩টি শূন্য আসন): বেলজিয়াম, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সুপারিশসমূহ

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জাতিসংঘের সবগুলো সদস্য দেশকে সনির্বন্ধ আহ্বান জানাচ্ছেঃ

•    বেশি সংখ্যক প্রার্থী নিশ্চিত করার জন্য, যাতে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত শূন্য আসনের চেয়ে বেশি সংখ্যক প্রার্থী থাকে৷ ‘পরিষ্কার স্লেট’ উপস্থাপনের অনুশীলন, যেখানে প্রার্থীর সংখ্যা ঐ অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত আসন সংখ্যার ঠিক সমান হয়, অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে৷
•    এই সব নির্বাচনগুলো থেকে ভোট-বিনিময়ের রীতি পরিহার করার জন্য (এই অনুশীলনের মাধ্যমে একটি দেশ নির্বাচনে অন্য দেশের সমর্থন চায় এবং বিনিময়ে অন্য দেশটিকে জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার নির্বাচনে সমর্থন দেয়)৷
•    প্রতিটি প্রার্থীর মানবাধিকার রেকর্ড এবং মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার সতর্কতার সাথে বিবেচনা করার জন্য, যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেগুলো তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে ফুটে উঠেছে, এবং শুধুমাত্র সেই সকল প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য যারা ৬০/২৫১ নম্বর প্রস্তাবে বর্ণিত উচ্চ মানদণ্ডগুলো পূরণ করে, এমনকি যদি, কোন ক্ষেত্রে, ব্যালট খালিও রাখতে হয়৷

সাধারণ পরিষদের ৬০/২৫১ নম্বর প্রস্তাবটির শর্তসমূহ সম্পূর্ণভাবে পূরণ করার জন্য, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আসন্ন নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীতা বিবেচনা করার জন্য সবগুলো দেশকে সনির্বন্ধভাবে আহ্বান জানাচ্ছেঃ

•    মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস কর্তৃক তৈরি, মানবাধিকার কাউন্সিলের নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রস্তাবিত উপাদানসমূহ বিবেচনা করার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকারের প্রসার ও সুরক্ষার জন্য দৃঢ়, বিশ্বাসযোগ্য ও পরিমেয় অঙ্গীকার করার জন্য৷৪
•    মানবাধিকার সম্পর্কিত মূল চুক্তিগুলোর এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্পর্কিত রোম সংবিধি অনুসমর্থনের জন্য তাদের অঙ্গীকারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার জন্য, এই ধরনের চুক্তির প্রতি বাধা সৃষ্টিকারী আপত্তি প্রত্যাহারের জন্য এবং চুক্তি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা দেয়ার জন্য, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যথাসময়ে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেয়া এবং চুক্তির সংস্থার সুপারিশগুলো অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা৷
•    মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ কার্যপ্রণালীর সাথে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করার জন্য, তাদের অঙ্গীকারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার জন্য, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাদের সুপারিশগুলোর প্রতি অবিলম্বে ও সত্যিকারভাবে সাড়া দেয়া এবং সকল বিশেষ কার্যপ্রণালীর জন্য একটি স্থায়ী আমন্ত্রণ ইস্যু করা৷
•    পর্যালোচিত ও পর্যালোচনাকারী উভয় প্রকার দেশ হিসেবে, সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনাতে পূর্ণভাবে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার জন্য, প্রতিটি পর্যালোচনা যাতে জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর অভিনিবেশ করে তা নিশ্চিত করার জন্য, এবং পর্যালোচনার সময় গৃহীত সুপারিশগুলো পূর্ণভাবে ও অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য৷
•    ১২ মে ২০০৯ তারিখের নির্ধারিত নির্বাচনের কমপক্ষে ৩০ দিন আগে তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করার জন্য৷

আরো পড়ুন:

জাতিসংঘঃ মানবাধিকার কাউন্সিলের ২০০৯ সালের নির্বাচনঃ সকল প্রার্থীকে মানবাধিকারের প্রতি অবশ্যই দৃঢ় অঙ্গীকার প্রদর্শন করতে হবে (০৮ এপ্রিল ২০০৯)