গণপ্রজাতন্ত্রী ভারত
রাষ্ট্রপ্রধানঃ প্রতিভা পাতিল (জুলাই মাসে এপিজে আবদুল কালামের স্থলাভিষিক্ত হন)
সরকার প্রধানঃ মনমোহন সিং
মৃত্যুদন্ডঃ রেখে দেয়ার পক্ষে
জনসংখ্যাঃ ১,১৩৫.৬ মিলিয়ন
প্রত্যাশিত জীবনকালঃ ৬৩.৭ বছর
৫-বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুহার (ছেলে/মেয়ে): ৮৪/৮৮ প্রতি ১,০০০-এ
বয়স্ক সাক্ষরতাঃ শতকরা ৬১ ভাগ
দেশের বিভিন্ন অংশে বোমা হামলা ও সশস্ত্র সংঘাত শত শত মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছে৷ ভারত-পাকিস্তান আলোচনা এবং সেইসাথে কাশ্মীর ও নাগাল্যান্ডে সংঘাত নিরসনের উদ্যোগ সামান্যই অগ্রগতি লাভ করেছে৷ কয়েকটি আর্থিক খাতে দ্রুত অগ্রগতি শহুরে এলাকায় উচ্চ প্রত্যাশায় ইন্ধন যুগিয়েছে, যদিও ব্যবসা ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ভূমি ও অন্যান্য সম্পদ অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা অনেকগুলো রাজ্যে প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে৷ এর সাথে সাথে কয়েকটি প্রদেশে সশস্ত্র মাওবাদী সংগঠনগুলোর কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে৷ আদিবাসী (উপজাতি জনগোষ্ঠী), দলিত ও ক্ষুদ্র কৃষক সহ স্থানীয় সংখ্যালঘু জনগণ তাদের জীবিকার প্রতি হুমকির বিরুদ্ধে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে, এবং পুনঃমিমাংসা ও পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের অধিকার প্রত্যাখ্যান করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে৷ অনেক ধরনের মানবাধিকারের অপব্যবহারের ঘটনা সম্পর্কে রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেআইনী হত্যাকান্ড, বলপূর্বক উচ্ছেদ, পুলিশি শক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের হয়রানি৷ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ বা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিগুলো ব্যর্থ হয়েছে৷ এই ব্যর্থতা বিস্তৃত হয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ইতিমধ্যেই প্রান্তিক অবস্থায় পৌঁছানো সমাজগুলোর জন্য৷
পটভূমি
বোমা হামলায় শত শত লোক মারা গেছে, এর মধ্যে রয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানগামী ট্রেনের ৬৬ জন যাত্রী, অগাস্ট মাসে হায়দ্রাবাদে ৪২ জন এবং নভেম্বরে উত্তর প্রদেশে ১০ জন যাত্রী৷ বারবার হামলার উদ্বেগ চলমান ভারত-পাকিস্তান আলোচনাকে দৃষ্টিগ্রাহ্য করেছে, যা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভে ব্যর্থ হয়েছে৷ কাশ্মীর ও নাগাল্যান্ডে শান্তি উদ্যোগের ক্ষেত্রে সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে৷ আসামে, নতুন করে বোমা হামলা হয়েছে, এবং সেইসাথে জানুয়ারি ও নভেম্বরে উত্তরের প্রদেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের উপর প্রচন্ড হামলা চালানো হয়েছে৷
কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পুলিশ মাওবাদীদের সাথে লড়াই করার সময় কমপক্ষে ৪০০ ব্যক্তি মারা যায়৷ এই রাজ্যগুলোর স্থানীয় জনগোষ্ঠী ব্যবসায়িক প্রকল্প ও বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরির জন্য ভূমি অধিগ্রহণের চেষ্টা প্রতিহত করে৷ পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, ঝাড়খন্ড, ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, পন্ডিচেরি, মহারাষ্ট্র ও মেঘালয় সহ অনেকগুলো রাজ্যে স্থানীয় জনগণ যাদের জীবিকা উন্নত সেচ, খনি খনন, উৎপাদনমুখী শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রকল্প দ্বারা ঝুঁকিগ্রস্ত হয়েছিল তারা প্রতিবাদে লিপ্ত হয়৷ এই ধরনের প্রতিবাদের মোকাবেলা করার জন্য ক্রমবর্ধমানহারে বেআইনী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, এবং নির্যাতনের জন্য দায়মুক্তি ব্যাপকভাবে চালু ছিল৷
কিছু কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও, মহারাষ্ট্র সহ কয়েকটি প্রদেশে ঋণগ্রস্ত কৃষকদের উচ্চ আত্মহত্যার হার অব্যাহত ছিল৷ দক্ষিণ উড়িষ্যায় অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা আদিবাসী জনগণের মধ্যে কলেরার মহামারীতে ভূমিকা রেখেছিল৷
ভারতকে বেসামরিক উদ্দেশ্যে কৌশলগত পারমাণবিক সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি লাভের সুবিধা দেয়ার জন্য ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধীতার কারণে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি৷ নভেম্বর মাসে মায়ানামারে গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলনকে দমন করার পর সেখানে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করা হয়৷
ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমঝোতা’য় স্বাক্ষর করে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পুনঃনির্বাচিত হয়৷ তবে, ভারত এখনো ‘নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমঝোতা’ এবং ‘সকল অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার রক্ষা সম্পর্কিত সমঝোতা’ অনুমোদন করেনি৷ নির্যাতন ও বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ তদন্তকারীদেরকে দেশটিতে সফর করতে দেয়ার অনুরোধের জবাব এখনো দেয়া হয়নি৷ এছাড়াও ‘নির্বিচারে আটক করা সম্পর্কিত ওয়ার্কিং গ্রুপ’ এবং ‘বলপূর্বক বা অনৈচ্ছিক অন্তর্ধান সম্পর্কিত ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর জন্য আমন্ত্রণপত্র এখনো পাঠানো হয়নি৷
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার
প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ - জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ - দারিদ্রসীমার নিচে রয়ে গেছে৷ ইতিমধ্যেই প্রান্তিক অবস্থায় পৌঁছানো জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধি উপেক্ষা করা হয়েছে এবং আদিবাসীদের বাসস্থান হিসেবে বিশিষ্টভাবে চিহ্নিত সম্পদ-সমৃদ্ধ এলাকাগুলো, সংগ্রহমূলক এবং অন্যান্য শিল্পকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সাধারণভাবে সিদ্ধান্ত-গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র বাস্তুচ্যুত করার পর পুনঃমিমাংসা ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত বিষয়গুলো ছাড়া৷ তথ্য প্রাপ্তির অধিকার সম্পর্কিত আইন থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে ক্রমাগতভাবে অনীহা প্রকাশ করেছে৷
পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী - সিপিআই-এম)-এর অনুগত প্রাইভেট মিলিশিয়া ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সশস্ত্র সমর্থকরা আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করেছে৷ ঐ এলাকায় একটি শিল্প প্রকল্প স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী কৃষকদেরকে তাদের অবরোধ তুলে নিতে রাজি করাতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে৷ পরবর্তীতে অনেক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে বেআইনী হত্যাকান্ড, বলপূর্বক উচ্ছেদ, পুলিশি শক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, প্রচারমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহ করতে না দেয়া, মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের হয়রানি এবং লঙ্ঘনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার প্রদানে অস্বীকৃতি৷
জানুয়ারি ও মার্চ মাসে, ক্ষমতাসীন সিপিআই-এম এর অনুগত প্রাইভেট মিলিশিয়া বাহিনী কর্তৃক কমপক্ষে ২৫ ব্যক্তি, অধিকাংশই স্থানীয় অধিবাসী, নন্দীগ্রামে নিহত হয়, ১০০-এরও বেশি ব্যক্তি আহত হয় এবং কমপক্ষে ২০ জন নারী যৌন হামলার শিকার হয়৷
উড়িষ্যাতে, একটি ইস্পাত শিল্প প্রকল্পের কারণে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠন কর্তৃক বছর-ব্যাপী প্রতিবাদের সময় কমপক্ষে ৫০ ব্যক্তি আহত হয়৷ ২০০৬ সালে কলিঙ্গনগরে পুলিশ কর্তৃক ১২ জন আদিবাসী বিক্ষোভকারীর হত্যাকান্ডের একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো মুলতবি রয়েছে৷ স্থানীয় আদিবাসী জনগণ কর্তৃক দীর্ঘদিন প্রচারাভিযান চালানোর পর, নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নিয়ামাগিরিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একটি বহুজাতিক কোম্পানিকে খনি পরিচালনার অনুমতি প্রদানকারী প্রাদেশিক সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুল জারি করে৷
জুলাই মাসে, পুলিশ মধ্যপ্রদেশের বাদোয়ানিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে কমপক্ষে ১০ জন ব্যক্তিকে আহত করে এবং ৯২ জনকে আটক করে৷ বিক্ষোভকারীরা নর্মদা বাঁধ প্রকল্পের কারণে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতকরণের বিরুদ্ধে ছিল৷
আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা
ছত্রিশগড়ের দান্তেওয়াদা এলাকায় সশস্ত্র মাওবাদী ও সালওয়া জুদুম (একটি বেসামরিক মিলিশিয়া বাহিনী যাকে রাষ্ট্র সমর্থিত বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়) সমর্থিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল৷ উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদেরকে লক্ষ্যবস্তু করে, যার অধিকাংশই ছিল আদিবাসী জনগণ৷ উভয় পক্ষ কর্তৃক বেআইনী হত্যাকান্ড, অপহরণ, নির্যাতন ও অঙ্গচ্ছেদের খবর পাওয়া গেছে; রাষ্ট্রীয় এজেন্ট কর্তৃক যৌন নির্যাতনের ঘটনা এবং মাওবাদীদের দ্বারা সংক্ষিপ্ত বিচারের পর হত্যাকান্ডের খবর পাওয়া গেছে; এই সকল অপব্যবহারের অধিকাংশই সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হয়নি৷
প্রায় ৫০,০০০ আদিবাসী দান্তেওয়াদা এলাকা থেকে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া অব্যাহত রেখেছে, তাদের অধিকাংশই বিশেষ ক্যাম্পে বসবাস করছে৷ তাদের স্বেচ্ছায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য কোনো আন্তরিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়নি যদিও জানা গেছে যে তাদের কিছু ভূমি ব্যবসা ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রদান করা হতে পারে৷ প্রায় ১০,০০০ আদিবাসী অন্ধ্রপ্রদেশে পালিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷
১৫ই মার্চ তারিখে, কমপক্ষে ৫৫ ব্যক্তি, অধিকাংশই সালওয়া জুদুমের অন্তর্ভুক্ত, বিজাপুরের কাছে সন্দেহভাজন মাওবাদীদের একটি আক্রমণে নিহত হয়৷
৩১শে মার্চ তারিখে, সন্তোষপুরে রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী ও সালওয়া জুদুমের হাতে ১২ জন আদিবাসী নিহত হয়৷
১৪ই মে তারিখে, ‘পিপলস্ ইউনিয়ন অফ সিভিল লিবার্টিজ’-এর একজন সুপরিচিত সক্রিয় কর্মী ডা. বিনায়ক সেন, গ্রেফতার হন; তার বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের ছত্রিশগড় বিশেষ জন নিরাপত্তা আইন এবং ১৯৬৭ সালের বেআইনী কর্মকান্ড (প্রতিরোধ) আইনের সংশোধিত বিধির অধীনে অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ তার গ্রেপ্তার মানবাধিকার সংগঠন ও চিকিৎসক সমাজ কর্তৃক ব্যাপক প্রতিরোধের জন্ম দেয়৷
জুলাইয়ের ১০ তারিখে, কোন্তায় আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ২৪ জন ব্যক্তি এবং ২০ জন সন্দেহভাজন মাওবাদী নিহত হয়৷ কর্ণাটক, ঝাড়খন্ড ও অন্ধ্রপ্রদেশ সহ অন্যান্য অনেকগুলো প্রদেশ থেকে অনুরূপ মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর পাওয়া গেছে৷
জুলাইয়ের ১০ তারিখে, চিকমাগালুর জেলার আদিয়াকায় কর্ণাটক পুলিশ কর্তৃক পাঁচজন আদিবাসী সক্রিয় কর্মী নিহত হয়৷
২০ অগাস্ট তারিখে, ১১ জন আদিবাসী নারী বিশাখাপত্তম জেলার বাগপল্লীতে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়৷
২৬ অক্টোবর তারিখে, সশস্ত্র মাওবাদীরা নালোর জেলার বিদ্যানগরে একটি ভূমি মাইনের বিস্ফোরণ ঘটায় যা অন্ধ্রপ্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী এন জনার্ধন রেড্ডি ও তার স্ত্রী, এন রাজলক্ষ্ণী, একজন মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে করা হয় বলে প্রতীয়মান হয়৷ ঐ শোভাযাত্রার তিনজন ব্যক্তি নিহত হয়৷
২৭ অক্টোবর তারিখে, সশস্ত্র মাওবাদীরা চিখাদিয়াতে একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে গুলিবর্ষণ করে, ১৮ ব্যক্তিকে হত্যা করে৷
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার বা পরিবেশগত বিষয়ে প্রচারাভিযান চালানো সক্রিয় কর্মীরা অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েছেন৷
জুলাই মাসে, সরোজ মোহান্তি, একজন লেখক-কর্মী, উড়িষ্যার কাশিপুরে উটকল এলুমিনা শিল্প প্রকল্প দ্বারা আদিবাসীদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, তাকে ডাকাতি (চুরি), বেআইনী প্রবেশ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয়৷
উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে দলিত ও আদিবাসীদের সাথে কর্মরত একজন সক্রিয় কর্মী রোমা, অগাস্ট মাসে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে আটক হয়েছিলেন৷
বনভূমিতে প্রবেশের জন্য আদিবাসীদের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদানকারী নতুন আইন ব্যাপকভাবে উপেক্ষা করা হয় এবং সম্প্রদায়গুলো পুলিশি সহিংসতার শিকার হয়৷
এপ্রিল মাসে, মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায় প্রাদেশিক বন বিভাগের বলপূর্বক উচ্ছেদের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী আদিবাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মাত্রাতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে৷ সাতজন আদিবাসী আহত হয়৷
জুলাই মাসে, অন্ধ্রপ্রদেশের খাম্মাম জেলায় ভূমির অধিকারের দাবিতে প্রদর্শিত বিক্ষোভে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে সাতজন বিক্ষোভাকারী নিহত হয়৷
নিরাপত্তা ও মানবাধিকার
অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস-বিরোধী নতুন আইনের দাবি অব্যাহত রয়েছে৷ ব্যাপক প্রতিবাদ সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৫৮ বাতিল করা হয়নি৷ উত্তর প্রদেশ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই সব প্রদেশের তালিকায় যোগ দিয়েছে যারা সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বিচারে আটক করাকে অনুমোদন করে৷
শাস্তিমুক্তি
শাস্তিমুক্তি ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে৷
জম্মু ও কাশ্মীর
নির্যাতন, আটকাবস্থায় মৃত্যু, অপহরণ ও বেআইনী হত্যাকান্ডের জন্য রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের শাস্তিমুক্তি উপভোগ করা অব্যাহত ছিল৷ একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে যে গত ১৮ বছরে শুধুমাত্র বারামুল্লা জেলায় ১,০৫১ ব্যক্তি বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার হয়েছে৷ ১০ই নভেম্বর ২০০৭ পর্যন্ত কোনো অন্তর্ধানের ঘটনা ঘটেনি বলে সরকার যে দাবি করেছে তাকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো চ্যালেঞ্জ করেছে এই বলে যে ২০০৬ সাল থেকে ৬০ জন ব্যক্তির অন্তর্ধান ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৭ সালে নয় জন৷ পাঁচজন ব্যক্তি, যাদেরকে বেআইনীভাবে আটক রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল, তাদের সন্ধান পাওয়া গেছে৷ অল্প কিছু ক্ষেত্রে কয়েক বছর আগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অপরাধ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল৷
২০০১ সালের অক্টোবরে গন্ডের অধিবাসী আশরাফ আহমেদ কোকার অন্তর্ধানের সাথে জড়িত থাকার কারণে ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করার জন্য মে মাসে, জম্মু ও কাশ্মীর হাই কোর্ট প্রাদেশিক পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল৷
গুজরাট
সহিংসতার পাঁচ বছর পর, যাতে হাজার হাজার মুসলমান আক্রমণের শিকার হয় এবং ২,০০০-এরও বেশি নিহত হয়, সহিংসতার শিকার ও বেঁচে থাকা অধিকাংশ ব্যক্তিদের কাছ থেকে ন্যায়বিচারের সুকৌশলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে৷ সহিংসতার ষড়যন্ত্রকারীরা প্রচারমাধ্যমের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছে যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্যরা সহিংসতার সাথে জড়িত ছিল, কিন্তু এখনো কোনো তদন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে পরিচালনা করা হয়নি৷
গুজরাটে ৫,০০০-এরও বেশি বাস্তুচ্যুত পরিবার এখনো “অমানবিক” পরিবেশে বসবাস করছে এই মর্মে সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশের পর খুব সামান্যই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷ মুসলিম মহিলাদের হত্যাকান্ড ও যৌন হামলা সম্পর্কিত অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য মামলা এখনো সুপ্রিম কোর্টে অমীমাংসিত রয়েছে৷
মে মাসে, গুজরাট কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে ২০০৫ সালের নভেম্বরে সোহরাবউদ্দিন শেখ ও তার স্ত্রী, কায়সার বাই-এর বেআইনী হত্যাকান্ডে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা জড়িত ছিল৷ এই অগ্রগতির পর, বিগত বছরগুলোতে পুলিশ কর্তৃক হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া কমপক্ষে তিনজন ব্যক্তির আত্মীয়রা নতুন করে তদন্তের জন্য দাবি জানিয়েছে৷
পাঞ্জাব
১৯৮৪-৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে নাগরিক আন্দোলনের সময় মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা ন্যায়বিচারকে ফাঁকি দেয়া অব্যাহত রেখেছে৷ তদন্ত শুরু করার নয় বছর পরেও, ২,০৯৭ জন ব্যক্তিকে বেআইনীভাবে হত্যা করার পর পুলিশ তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য এখনো সম্পূর্ণভাবে জনগণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি ৷ একটি জেলায়, অমৃতসরে এই ধরনের হত্যাকান্ডের শিকার ১,২৯৮ জন ব্যক্তির পরিবারবর্গকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস্ কমিশন, এনএইচআরসি) ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে৷ তবে, এনএইচআরসি তাদের ধীরগতির তদন্তের জন্য সমালোচিত হয়, এবং ২০০৬ সালে ক্ষতিপূরণের দাবিগুলো পরীক্ষা করার জন্য এনএইচআরসি কর্তৃক নিযুক্ত একটি কমিশন অনেকগুলো ব্যর্থতার জন্য অক্টোবরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কর্তৃক সমালোচিত হয়৷
তিনজন ব্যক্তি, যারা নিহত হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় ছিল, তাদের নিজেদের গ্রামে হাজির হয়েছে মর্মে খবর পাওয়ার পর সরকার ১৯৯৩-৯৪ সালে পাঞ্জাবে তিনটি বেআইনী হত্যাকান্ডের তদন্ত করার জন্য মে মাসে একটি আদেশ দেয়৷
কর্ণাটক/তামিলনাড়ু
আদিবাসীদেরকে বেআইনীভাবে হত্যা করা, নির্যাতন, যৌন হামলা ও অবৈধভাবে আটক রাখার অভিযোগের এগারো বছর পর প্রথমবারের মতো চন্দন কাঠ পাচারকারীদেরকে ধরার জন্য গঠিত তামিলনাড়ু-কর্ণাটকের একটি যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ মেটানো হয়, অত্যচার সংঘটনকারী হিসেবে বর্ণিত ৩৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে এনএইচআরসি ব্যর্থ হয়৷ জানুয়ারি মাসে, অভিযোগ দায়েরকারী ১৪০ জন যারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে ৮৯ জনকে এবং তাদের পরিবারবর্গকে এনএইচআরসি মধ্যবর্তী ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেয়৷
আসাম
১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে আসাম সংযুক্ত মুক্তি মোর্চার সাথে সংশ্লিষ্ট ৩৫ জন ব্যক্তির বেআইনী হত্যাকান্ড সম্পর্কিত একটি তদন্ত কমিশন নভেম্বরে তাদের প্রাপ্ত তথ্য প্রকাশ করে৷ এটি সিদ্ধান্তে আসে যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের নির্দেশে সংগঠনটির আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা হত্যাকান্ডগুলো সংঘটিত করেছে৷ কাউকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে কিনা তা অস্পষ্ট রয়ে গেছে৷
মৃত্যুদন্ড
কমপক্ষে ১০০ জন ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে, যদিও কোনো মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়নি৷ ডিসেম্বর মাসে, মৃত্যুদন্ড মুলতবি করার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভারত ভোট দেয়৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিদর্শন/প্রতিবেদন
অগাস্ট ও নভেম্বর মাসে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা ভারত সফর করে এবং সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সাথে সাক্ষাত করে৷
পশ্চিম বাংলায় রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষিতে কার্যকর তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা করা আবশ্যক (এএসএ ২০/০২০/২০০৭)
মায়ানমারের জন্য ভারতীয় হেলিকপ্টার - নিষেধাজ্ঞার তামাসা করা? (এএসএ ২০/০১৪/২০০৭)
গুজরাট পুলিশের বেআইনী হত্যাকান্ডের একটি পন্থা - কার্যকর তদন্তের ব্যবস্থা করা জরুরিভাবে আবশ্যক (এএসএ ২০/০১১/২০০৭)
পাঁচ বছর চলছে - গুজরাটে ন্যায়বিচারের জন্য তিক্ত ও দুরূহ সংগ্রাম (এএসএ ২০/০০৭/২০০৭)