পাকিস্তান: লাহোরের ঘটনা মনে করিয়ে দিলো বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সরকারের দিক থেকে আরো বেশি কিছু করা উচিৎ
৫ মার্চ ২০০৯
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জনসাধারণের জন্যে বিবৃতি এআই সূচী : এএসএ ৩৩/০০২/২০০৯
পাকিস্তান: লাহোরের ঘটনা মনে করিয়ে দিলো বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সরকারের দিক থেকে আরো বেশি কিছু করা উচিৎ
লাহোরে শ্রীলংকান ক্রিকেট টিমের উপর অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের আক্রমণের ঘটনায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আজ বলেছে, ‘মঙ্গলবারের এই ঘটনা দেশী-বিদেশী নাগরিকদের জীবনের অধিকার রক্ষায় পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার আরেকটি জ্বলন্ত উদাহরণ।’
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলংকান ক্রিকেট টিম এবং তাদের দেহরক্ষী পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। ওই ঘটনায় গাড়ির চালকসহ পুলিশের ছয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং শ্রীলংকান ক্রিকেট টিমের আট জন সদস্য আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ‘পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো দেশী ও বিদেশী নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া ও তাদেরকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের জীবননাশের হুমকি থেকে রক্ষা করা। খেলোয়াড়সহ যেকোনো বেসামরিক নাগরিকের উপর কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা কোনো যুক্তিতেই মেনে নেয়া যায় না।’
শ্রীলংকান ক্রিকেট টিমের উপর আক্রমণ করা হয়েছিলো সকাল ৯টায়। তারা সেসময়ে পুলিশ প্রহরায় গাদ্দাফী স্টেডিয়ামে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাচ্ছিলেন। শ্রীলংকান ক্রিকেট টিমবহনকারী গাড়ি লাহোর শহরের কেন্দ্রস্থল লিবার্টি স্কোয়ারের নিকটে পৌঁছালে ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ১৪ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রাইফেল ও গ্রেনেড নিয়ে প্রায় ২৫ মিনিট ব্যাপী এই হামলার ঘটনা ঘটায়।
আজ পর্যন্ত কেউই এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই হামলার জন্যে দায়ী তালেবান জঙ্গিদল লস্কর-ই-তৈয়বা কিংবা আল-কায়েদা।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান সরকারের প্রতি লাহোর ঘটনাসহ পূর্ববর্তী সকল বেআইনী হত্যা, সশস্ত্র ও আত্মঘাতি হামলার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সেসঙ্গে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জন্যে মৃত্যুদণ্ড ব্যতিরিকে ন্যায্য বিচারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে।
পটভূমি:
পাকিস্তানের আংশিক এলাকায় ২০০১ সাল থেকে নব্য তালেবানদের আস্তানা গড়ে উঠার কারণে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমাগতভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। পাকিস্তানী তালেবান বিদ্রোহী গ্রুপগুলো ফেডারেলি এডমিনিস্ট্রাড ট্রাইবাল এরিয়া (এফএটিএ)-গুলো এবং উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ মালাকান্দ ও সোয়াত উপত্যকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে চলছে। এই এলাকাগুলো বিদেশী ও দেশী বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর জন্যে নিজেদের পুনঃঅস্ত্রসজ্জিত করা ও নতুন করে গ্রুপ তৈরি করার জন্যে স্বর্গে পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই তারা পুরো আফগানিস্তানের সীমান্তজুড়ে আফগানী ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করে আসছে এবং একই সঙ্গে পাকিস্তাীনের সরকার ও অন্যান্য টার্গেটগুলোতে আক্রমণ চালাতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মালাকান্দ ও সোয়াত উপত্যকায় সরকার ও তালেবান জঙ্গিদের মধ্যে যে সাময়িক যুদ্ধ বিরতির চুক্তি হয়েছে সেটি শুধুমাত্র তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাময়িক বিরতি ঘটিয়েছে মাত্র।
এদিকে লাহোর ঘটনা ছাড়াও নিকট অতীতে পাকিস্তানে আরো কয়েকটি বড় ধরনের জঙ্গি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের এক জঙ্গি ঘটনায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভূট্টোকে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে এক মিছিলে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো। ওই ঘটনায় আরো ২০ জন মারা গিয়েছিলেন। এছাড়াও ইসলামাবাদে ম্যারিয়ট হোটেলে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে এক জঙ্গি আক্রমণের ঘটনায় ৫৪ জন মারা গিয়েছিলেন।
সর্বসাধারণের জন্যে ডকুমেন্ট
আরো জানতে দয়া করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনস্থ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রেস অফিসে যোগাযোগ করুন। ফোন: +৪৪২০৭৪১৩৫৫৬৬ কিংবা ই-মেইল: press@amnesty.org
আন্তর্জাতিক সচিবালয়, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ১ ইস্টন স্ট্রিট, লন্ডন ডব্লিউ সি ১ এক্স০ডিডব্লিউ, ইউকে
www.amnesty.org
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জনসাধারণের জন্যে বিবৃতি এআই সূচী : এএসএ ৩৩/০০২/২০০৯
পাকিস্তান: লাহোরের ঘটনা মনে করিয়ে দিলো বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সরকারের দিক থেকে আরো বেশি কিছু করা উচিৎ
লাহোরে শ্রীলংকান ক্রিকেট টিমের উপর অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের আক্রমণের ঘটনায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আজ বলেছে, ‘মঙ্গলবারের এই ঘটনা দেশী-বিদেশী নাগরিকদের জীবনের অধিকার রক্ষায় পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার আরেকটি জ্বলন্ত উদাহরণ।’
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলংকান ক্রিকেট টিম এবং তাদের দেহরক্ষী পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। ওই ঘটনায় গাড়ির চালকসহ পুলিশের ছয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং শ্রীলংকান ক্রিকেট টিমের আট জন সদস্য আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ‘পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো দেশী ও বিদেশী নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া ও তাদেরকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের জীবননাশের হুমকি থেকে রক্ষা করা। খেলোয়াড়সহ যেকোনো বেসামরিক নাগরিকের উপর কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা কোনো যুক্তিতেই মেনে নেয়া যায় না।’
শ্রীলংকান ক্রিকেট টিমের উপর আক্রমণ করা হয়েছিলো সকাল ৯টায়। তারা সেসময়ে পুলিশ প্রহরায় গাদ্দাফী স্টেডিয়ামে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাচ্ছিলেন। শ্রীলংকান ক্রিকেট টিমবহনকারী গাড়ি লাহোর শহরের কেন্দ্রস্থল লিবার্টি স্কোয়ারের নিকটে পৌঁছালে ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ১৪ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রাইফেল ও গ্রেনেড নিয়ে প্রায় ২৫ মিনিট ব্যাপী এই হামলার ঘটনা ঘটায়।
আজ পর্যন্ত কেউই এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই হামলার জন্যে দায়ী তালেবান জঙ্গিদল লস্কর-ই-তৈয়বা কিংবা আল-কায়েদা।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান সরকারের প্রতি লাহোর ঘটনাসহ পূর্ববর্তী সকল বেআইনী হত্যা, সশস্ত্র ও আত্মঘাতি হামলার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সেসঙ্গে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জন্যে মৃত্যুদণ্ড ব্যতিরিকে ন্যায্য বিচারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে।
পটভূমি:
পাকিস্তানের আংশিক এলাকায় ২০০১ সাল থেকে নব্য তালেবানদের আস্তানা গড়ে উঠার কারণে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমাগতভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। পাকিস্তানী তালেবান বিদ্রোহী গ্রুপগুলো ফেডারেলি এডমিনিস্ট্রাড ট্রাইবাল এরিয়া (এফএটিএ)-গুলো এবং উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ মালাকান্দ ও সোয়াত উপত্যকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে চলছে। এই এলাকাগুলো বিদেশী ও দেশী বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর জন্যে নিজেদের পুনঃঅস্ত্রসজ্জিত করা ও নতুন করে গ্রুপ তৈরি করার জন্যে স্বর্গে পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই তারা পুরো আফগানিস্তানের সীমান্তজুড়ে আফগানী ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করে আসছে এবং একই সঙ্গে পাকিস্তাীনের সরকার ও অন্যান্য টার্গেটগুলোতে আক্রমণ চালাতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মালাকান্দ ও সোয়াত উপত্যকায় সরকার ও তালেবান জঙ্গিদের মধ্যে যে সাময়িক যুদ্ধ বিরতির চুক্তি হয়েছে সেটি শুধুমাত্র তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাময়িক বিরতি ঘটিয়েছে মাত্র।
এদিকে লাহোর ঘটনা ছাড়াও নিকট অতীতে পাকিস্তানে আরো কয়েকটি বড় ধরনের জঙ্গি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের এক জঙ্গি ঘটনায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভূট্টোকে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে এক মিছিলে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো। ওই ঘটনায় আরো ২০ জন মারা গিয়েছিলেন। এছাড়াও ইসলামাবাদে ম্যারিয়ট হোটেলে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে এক জঙ্গি আক্রমণের ঘটনায় ৫৪ জন মারা গিয়েছিলেন।
সর্বসাধারণের জন্যে ডকুমেন্ট
আরো জানতে দয়া করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনস্থ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রেস অফিসে যোগাযোগ করুন। ফোন: +৪৪২০৭৪১৩৫৫৬৬ কিংবা ই-মেইল: press@amnesty.org
আন্তর্জাতিক সচিবালয়, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ১ ইস্টন স্ট্রিট, লন্ডন ডব্লিউ সি ১ এক্স০ডিডব্লিউ, ইউকে
www.amnesty.org