ইন্টারন্যাশনাল এক্সিউটিভ কমিটি
ইন্টারন্যাশনাল এক্সিউটিভ কমিটি
ইন্টারন্যাশনাল এক্সিউটিভ কমিটি (আইইসি) নয় জন সদস্য নিয়ে গঠিত৷ তারা প্রত্যেকেই এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদস্য এবং তারা দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক কাউন্সিল সভায় নির্বাচিত হন৷
এই কমিটির সদস্যরা দুই বছর মেয়াদের জন্যে নির্বাচিত হন এবং তাঁরা পরপর সর্বোচ্চ তিন মেয়াদের জন্যে পুননির্বাচিত হতে পারেন৷
আইইসি-তে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কোনো একটি জাতীয় কমিটি থেকে একজনের বেশি সদস্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন না৷ কিংবা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কোনো কমিটি নেই এমন কোনো দেশ বা অঞ্চল বা রাজ্য থেকে একজনের বেশি সদস্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন না৷
আইইসি বছরে কমপক্ষে দুইবার সভায় মিলিত হবে এবং বাস্তবে দেখা যায় তারা বছরে চারবার পর্যন্ত সভায় মিলিত হয়৷
আইইসি-র ভূমিকা হলো এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেয়া৷ তাদের প্রধান কাজগুলো এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সংবিধান দ্বারা সুনির্দিষ্ট করা রয়েছে৷ এর অন্তভুক্ত রয়েছে:
আন্দোলন এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সংবিধিবদ্ধ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া নিশ্চিত করা
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কোনো শাখা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং অন্যান্য কমিটিসমূহ গঠনের বিষয়ে সম্মতি প্রদান
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শাখাসমূহ, সাংগঠনিক কাঠামোসমূহ ও অন্যান্য কমিটিগুলোর কার্যাবলীর উপর প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক কাউন্সিল সভায় তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তসমূহ নেয়া
মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত করা৷
আইইসি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবকে নিয়োগ দেন ও তার কাজ পরিচালনায় দিকনির্দেশনা দেন৷ মহাসচিব সংস্থার আন্তর্জাতিক আন্দোলনের নিত্য নৈমিত্তিক কাজগুলোর জন্যে দায়িত্বশীল৷ তিনি আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন৷ এছাড়াও তিনি সংস্থার প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক সচিবালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দাযিত্ব পালন করেন৷
আইইসি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাজের বিস্তৃত পরিসর তুলে ধরে নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে কাজের অগ্রাধিকার, বিবেচ্য বিষয়াদি এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক প্রতিবেদন ও বাজেট বিবরণী থাকে৷
আইইসি ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিলের কাছে দায়বদ্ধ থাকে৷ প্রতি দুই বছরের মেয়াদ শেষে আইইসি কউন্সিলের কাছে তাদের গৃহীত কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণী জমা দেয় এবং আমাদের ভবিষ্যত কাজকে প্রভাবিত করবে এমন বিষয়গুলোর উপর তাদের সুপারিশ পেশ করে৷
আইরিন খান
মহাসচিব
আইরিন খান ২০০১ সাল থেকে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন৷ তিনি সংস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের সঙ্গে আভ্যন্তরীণ সংস্কার যা আমাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনাগুলোতে আরো নমনীয়ভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দিতে সহায়তা করছে৷ তিনি নারীর মানবাধিকার ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ইস্যুগুলো নিয়ে সোচ্চার৷ আইরিন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন৷ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল স্কুল ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব মেনচেস্টার থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন৷ তিনি ২০০৬ সালের সিডনী শান্তি পুরস্কার বিজয়ী৷ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে যোগ দেয়ার আগে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনে ২১ বছর কাজ করেছেন৷