দি আনহার্ড ট্রুথ : বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দারিদ্র্য ও মানবাধিকার নিয়ে বিতর্কে পরিবর্তন আনা উচিৎ
১৫ অক্টোবর ২০০৯
আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ‘দারিদ্র্য নির্মূলে আন্তর্জাতিক দিবস’ পালনের প্রাক্কালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, তারা যেন দারিদ্র্য বিয়ষটিকে মোকাবেলার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণের পরিবর্তে মানবাধিকার সমস্যাগুলো দূর করার দিকে নজর দেয় কারণ মানবাধিকারের লংঘন মানুষকে দরিদ্র করেছে এবং তাদেরকে দরিদ্র থাকতে বাধ্য করছে।
এ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আইরিন খান বলেন, ‘দারিদ্র্য হলো বিশ্বের নিকৃষ্টতম মানবাধিকার সঙ্কট।’
তিনি আরো বলেন, ‘বৈষম্য, রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক নির্যাতন, দুর্নীতি, অনিরাপত্তা ও সহিংসতা দারিদ্র্যের এমন কতগুলো বৈশিষ্ট্য যা বস্তুগত সম্পদের অভাবের মতোই। এই ধরনের মানবাধিকারের সমস্যাগুলো শুধুমাত্র মানুষের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুধুমাত্র বস্তুগত সুবিধা প্রদান বৈষম্যের অবসানের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, কিংবা নিরাপত্তা বাড়াতে পারে না কিংবা যে মানুষগুলো দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে তাদের দাবী জানানোর সক্ষমতা তৈরি করতে পারে না। কৃষিতে বিনিয়োগ হয়তো দরিদ্র কৃষকের শস্য উৎপাদন বাড়ায় কিন্তু এটি একজন বিবেকহীন ভূমিমালিকের জমিতে কৃষকের কাজের নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ওই বিদ্যালয়ে ছেলেশিশুদের মতোই মেয়েশিশুদের পড়ার সমান সুযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।’
‘এমন অনেক দেশ আছে যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খুবই উচ্চ কিন্তু সেখানে জননীতি প্রণয়নে জনগণের জানার ও মত প্রকাশের অধিকার উপেক্ষিত হয়; তাদের নিজেদের মতামত জানানোর অধিকার ও জানার অধিকার খর্বিত হয়। দরিদ্র মানুষেরা প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে ও তাদের অধিকার উপেক্ষিত হয়।’
‘একটি সফল দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল অবশ্যই দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন ঘটাবে যাতে করে তারা তাদের অধিকার দাবী করতে পারবেন, ফলে তারা তাদের নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং নীতি-নির্ধারকদের জবাবদিহি করতে পারবেন।’
আইরিন খান তার লেখা নতুন বই ‘দি আনহার্ড ট্রুথ: পোভার্টি এন্ড হিউম্যান রাইটস’ (অশ্রুতপূর্ব সত্যি: দারিদ্র্য ও মানবাধিকার) এর প্রকাশনা উৎসবে নিউইয়র্কে বলেন যে, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যে দরকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ যেমন, স্বাস্থ্যযত্ন, শিক্ষা ও বসবাস অধিকারসহ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারসমূহের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।
‘আমরা যদি দারিদ্র্য বিমোচন করতে চাই তবে মানবাধিকারের প্রতি আনুক্রমিক কিংবা খন্ডিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা যাবে না। অংশগ্রহণের অধিকারের দাবী জানানো মানুষের মৌলিক চাহিদা, যেমন খাদ্য, স্বাস্থ্য ও আবাসনের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের লক্ষ্যে সম্পদের যোগান দেয়ার মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করা বৈষম্যের অবসানের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাতৃমৃত্যু হ্রাসের জন্যে আহ্বান জানানো শুধুমাত্র উন্নততর স্বাস্থ্যযত্নের জন্যে নয় নারীর মর্যাদা উন্নয়নের জন্যেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
দশটি অধ্যায়ে লিখিত বইটিতে নানান বিষয় তুলে ধরা হয়েছে যেমন মুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ, বৈষম্য, দারিদ্র্যের ফাঁদ, মাতৃমৃত্যু, বস্তি, করপোরেট দায়বদ্ধতা ও আইনগত ক্ষমতায়ন। দি আনহার্ড ট্রুথ নামের বইটিতে বিশ্বের দরিদ্র মানুষের জন্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও তাদের ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়েছে এবং মানুষের সমস্যাগুলোকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে যা সাধারণত কতগুলো পরিসংখ্যান দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
আনহার্ড ট্রুথ বইটি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বব্যাপী নতুন প্রচারণা মর্যাদার দাবীকে নতুন পর্যায়ে উপনীত করেছে। এই প্রচারণা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং দারিদ্র্যকে গভীরতর করতে ভূমিকা পালনকারী মানবাধিকার লংঘনের বিষয়গুলো সকলের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
আইরিন খান বলেন, ‘দারিদ্র্যের অবসান ঘটানোর চেষ্টা এই প্রজন্মের জন্যে সবচেয়ে বড় সংগ্রাম। এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো যদি আমরা স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সমতার বিষয়টি আমাদের কাজের কেন্দ্রে রাখতে পারি।’
আরো পড়ুন:
