‘দি ওয়্যার’ ফেব্রুয়ারি ২০০৭

‘দি ওয়্যার’

 

ফেব্রুয়ারি ২০০৭, বর্ষ ৩৭, নং ০১, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সূচি: NWS 21/001/2007

 

বাংলাদেশ: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে

 

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে এ ধরনের কাজ করা অনেক কঠিন হতো’- সুমি খান

 

চৌত্রিশ বছর বয়সী সাংবাদিক সুমি খান স্থানীয় এবং জাতীয় সাময়িকীগুলোতে কাজ করেন৷ তিনি চট্টগ্রামে থাকেন৷ গত দুই বছরে অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার কারণে তিনি আক্রমণের শিকার হয়েছেন, এমনকি হত্যার হুমকিও পেয়েছেন৷ ২০০৪ সালে তিনি দুর্বত্তদের আক্রমণে ছুরিকাহত হন৷ কিন্তু আক্রমণকারীরা এখনো স্বাধীনভাবেই ঘোরাফিরা করছে৷

 

সুমি খান সাধারণত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং ধর্মীয় গ্রুপগুলোর আক্রমণ এবং জোতদার ও ভূমিদস্যুদের অপহরণ ও ভূমি জবরদখলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন লিখে থাকেন৷

 

২০০৫ সালের ১২ মার্চ সুমি খান লিখিতভাবে মৃত্যুর হুমকি পান, তাকে বলা হয় ইসলামী দলগুলোর বিরুদ্ধে তার লেখাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে৷ তার সতীর্থ চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা স্থানীয় ইসলামী দলগুলোর কাছ থেকে একই ধরনের মৃত্যুর হুমকি পান ৷

 

২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সুমি খান ও চট্টগ্রামের আরো অনেক সাংবাদিক এবং সেসঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত পুলিশ বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও মেজিস্ট্রেটগণ হত্যার হুমকি পেতে থাকেন৷ হুমকিদাতারা সাংবাদিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চিঠির মাধ্যমে হুমকি দেয়া অব্যাহত রাখে৷ ধারণা করা হয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলতে কতিপয় ইসলামপন্থী দলের প্রচারণার অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামপন্থী দল জমাতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর পক্ষ থেকে এই ধরনের চিঠি দেয়ার কাজটি করা হয়েছে৷

 

সরকার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পুলিশ প্রহরা বসায় এবং সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্যদের গ্রেফতার করে৷ যদিও, সরকার সুমি খানসহ আরো যেসব সাংবাদিক ইসলামিক দলগুলোর কার্যকলাপ নিয়ে লিখেছেন তাদের হত্যার হুমকির ঘটনা তদন্তে কিংবা ভবিষ্যতের আক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হন৷ সুমি খান এরপরও অজানা জায়গা থেকে হুমকি পেতে থাকেন এবং সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের ঘটনা দেশজুড়ে অব্যাহত থাকে৷

 

আসুন আমরা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই যাতে সুমি খানের হত্যার হুমকি ও আক্রমণের একটি সম্পূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত বিচারের ব্যবস্থা করা হয়৷

 

আপনার আবেদন পাঠান: জনাব ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, রাষ্ট্রপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ

 

সম্বোধন: মহামান্য প্রধান উপদেষ্টা

জরুরি ব্যবস্থাগ্রহণ