১৫ এপ্রিল ২০০৮
২০০৭ সালে কমপক্ষে ১,২০০ লোকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং গোপনে, চীন, মঙ্গোলিয়া ও ভিয়েতনাম সহ অন্যান্য দেশে আরো অনেক বেশি লোক রাষ্ট্র কতৃক নিহত হয়েছে৷
এই সংখ্যাগুলো এসেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক পরিসংখ্যান ২০০৭ সালে মৃত্যুদন্ডের রায় এবং কার্যকরীকরণ থেকে, যা মঙ্গলবারে ইস্যু করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে যে ২৪টি দেশে কমপক্ষে ১,২৫২ ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং ৫১টি দেশে কমপক্ষে ৩,৩৪৭ ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে৷ সারাবিশ্বজুড়ে ২৭,৫০০ জন পর্যন্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডের সারিতে রয়েছেন বলে অনুমান করা হয়৷
এই সংখ্যাগুলো আরো দেখায় যে কয়েকটি দেশে মৃত্যুদন্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ইরান কমপক্ষে ৩১৭ জন ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে, সৌদি আরব ১৪৩ ও পাকিস্তান ১৩৫ জন - যা ২০০৬ সালে ছিল যথাক্রমে ১৭৭, ৩৯ ও ৮২ জন৷
মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার সকল জ্ঞাত ঘটনার শতকরা অষ্টাশি ভাগ ঘটেছে পাঁচটি দেশেঃ চীন, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রে৷ মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব, তারপর রয়েছে ইরান ও লিবিয়া৷ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল চীনে কমপক্ষে ৪৭০টি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার ঘটনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে - যা সার্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি৷ তবে, সংগঠনটি বলেছে যে চীনের ক্ষেত্রে প্রকৃত সংখ্যা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি৷
চীন, যাকে প্রতিবেদনটি বিশ্বের শীর্ষ মৃত্যুদন্ড কার্যকরকারী বলে অবহিত করেছে, মৃত্যুদন্ডকে রাষ্ট্রীয় গোপনতা হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করে৷ বিশ্ব ও অলিম্পিকের অতিথিদেরকে অনুমানের মধ্যে রেখে, শুধুমাত্র চীনা কর্তৃপক্ষই জানে যে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের মাধ্যমে হত্যা করা ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা কত৷
“মৃত্যুদন্ডের গোপনীয় ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ করতে হবেঃ মৃত্যুদন্ডকে ঘিরে থাকা গোপনীয়তার পর্দা অবশ্যই অপসারণ করতে হবে৷ অনেক সরকার দাবি করে যে জনসমর্থন নিয়েই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়৷ তাই মানুষের জানার অধিকার রয়েছে যে তাদের নামে কী করা হয়েছে,” বলেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷
২০০৭ সালে, অনেক দেশ এমন অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা অব্যাহত রেখেছে যেগুলো সাধারণভাবে অপরাধমূলক বলে বিবেচনা করা হয় না, অথবা অন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা করা হয়েছে৷ এগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
• জাফর কিয়ানি, দুই সন্তানের পিতা, ব্যভিচারের জন্য ইরানে জুলাই মাসে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়৷
• একজন ৭৫ বছর বয়সী উত্তর কোরিয়ান কারখানা ম্যানেজারকে তার পারিবারিক পটভূমি ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থতা, কারখানায় তার নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ, এর ম্যানেজার হিসেবে তার ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ফোন কল করার কারণে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করা হয়৷
• মোস্তফা ইব্রাহীম, একজন মিশরীয় নাগরিক, জাদুবিদ্যা অনুশীলনের জন্য নভেম্বরে সৌদি আরবে শিরোচ্ছেদ করা হয়৷
• প্রাণঘাতী ইনজেকশনের সাংবিধানিক গ্রহণযোগ্যতার উপর ভিত্তি করে একটি আপিল নথিভুক্ত করার জন্য একটি স্টেট আদালত অতিরিক্ত ১৫ মিনিট খোলা রাখতে অস্বীকার করার পর, ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে, মাইকেল রিচার্ড-এর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়৷ কম্পিউটারের সমস্যার কারণে রিচার্ডের আইনজীবী আপিলটি যথাসময়ে নথিভুক্ত করতে ব্যর্থ হন; সমস্যাগুলো তারা ইতিমধ্যেই আদালতের গোচরে এনেছিলেন৷ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট তারপর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা বন্ধ করতে অস্বীকার করে৷ তবে, ওই দিন আরো আগে, এটি কেনটাকির একটি মামলায় প্রাণঘাতী ইনজেকশনের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে সম্মত হয়, একটি সিদ্ধান্ত যা সারা দেশ জুড়ে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার অন্য সকল ঘটনা কার্যত মুলতবি করে৷ এই বছর পরের দিকে সুপ্রীম কোর্টের রায় আশা করা হচ্ছে৷
তিনটি দেশ - ইরান, সৌদি আরব ও ইয়েমেন - অপরাধ করার কারণে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী৷
যদিও, ২০০৭ সালে আবার মৃত্যুদন্ড সম্পর্কে ভালো খবরও ছিল৷ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মৃত্যুদন্ডের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য ভোট দিয়েছে - ১০৪ বনাম ৫৪, ২৯ ভোটদানে বিরত ছিল৷
“মানুষের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা বন্ধ করার জন্য সবগুলো দেশকে আহ্বান জানানোর জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে৷ ডিসেম্বরে এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়েছে এমন সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে যা দেখায় যে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদন্ডের বিলোপ সম্ভব,” বলেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷
“রাষ্ট্র কর্তৃক জীবন সংহার হচ্ছে সরকার গ্রহণ করতে পারে এমন কঠোরতম ব্যবস্থাগুলোর একটি৷ জাতিসংঘে গৃহীত প্রতিশ্রুতি অনুসরণ করা এবং চিরতরে মৃত্যুদন্ড বিলোপ করার জন্য আমরা সকল সরকারকে সনির্বন্ধ আহ্বান জানাচ্ছি৷”

Delicious
Digg
Facebook
Technorati