দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের ‘পরিত্যাগযোগ্য শ্রমিক’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে

২১ অক্টোবর ২০০৯

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন আইন চালু হওয়ার পরও সেখানে কর্মরত অনেক অভিবাসী শ্রমিককে পেটানো হয়, যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয় এবং কাজের শেষে মজুরি না দিয়ে ঘোরানো হয়। গত বুধবার প্রকাশিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

Visiting booth at Hwaseong detention centre, South Korea, November 2008.

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত ‘ডিসপোজেবল লেবার: রাইটস অফ মাইগ্রেন্টস ওয়ার্কার্স ইন সাউথ কোরিয়া’ শীর্ষক ৯৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কিংবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই কিভাবে দক্ষিণ কোরিয়াতে অভিবাসী শ্রমিকগণ মৃত্যুসহ বড় ধরনের শিল্প-দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে প্রায়শ ভারী যন্ত্রপাতি ও মারাত্মক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে কাজ করছে। অথচ তারা একই ধরনের কাজে নিয়োজিত দক্ষিণ কোরীয় শ্রমিকদের তুলনায় কম বেতনভাতা পেয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপ-পরিচালক রোজেন রিফ বলেন, ‘অভিবাসী শ্রমিকদের নির্যাতন ও শোষনের শিকার হওয়ার একটি বড় কারণ তারা নিয়োগকারীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছায় চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন না। এখানে কাজের অবস্থাগুলো কখনো কখনো এতোটাই নিকৃষ্ট হয়ে থাকে যে কর্মীরা চাকরি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই ধরনের ঘটনায় তারা নিয়মিত-কর্মীর আইনগত মর্যাদা হারায়। তখন তারা গ্রেফতার হওয়ার ও বিতাড়িত হওয়ার পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান।’

দক্ষিণ কোরিয়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে এশিয়ার প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি। কোরিয়ান আইনে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, মজুরি ও অন্যান্য সুবিধাদি একজন কোরিয়ান শ্রমিকের সমান।

যদিও অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে প্রণীত এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস)বাস্তবায়নের সময়কাল পাঁচ বছর হতে চললো তবুও এখনো অনেক অভিবাসী শ্রমিককে দুর্ভোগ ও নির্যাতন পোহাতে হচ্ছে।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের হিসেব অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রায় ২২০,০০০ জন অনিয়মিত অভিবাসী শ্রমিক বাস করছে।

অভিবাসী শ্রমিকরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে তাদের দুর্ভোগ ও নির্যাতিত হওয়ার কথা বর্ণনা করেছে। তারা জানিয়েছে যে, কিভাবে নিয়োগকর্তারা তাদেরকে জোরপূর্বক দীর্ঘসময় ধরে কাজ করায় ও তাদের সম্মতি ছাড়াই রাত্রিতে কাজ করতে বাধ্য করে এবং এজন্যে তাদেরকে কোনো ওভারটাইম দেয়া হয় না। এমনকি প্রায়শ তাদের বেতন পর্যন্ত আটকে রাখে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের প্রতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আহ্বান হলো:
• শ্রমিকদের কর্মস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে একথা নিশ্চিত করুন যে নিয়োগকারীগণ অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে, তাদেরকে উপযুক্ত সুরক্ষা দিচ্ছে ও তাদের অধিকারগুলো রক্ষা পাচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মস্থল নিরাপদ হবে, তারা কাজের জন্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পাবে এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত মজুরি পাবে।
• অভিবাসী সকল নারী শ্রমিকের অধিকারগুলোর সুরক্ষা করা ও তাদের অধিকারগুলো তুলে ধরা এবং যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন নির্মূল করার ব্যবস্থা নিন;
• অনিয়মিত অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষিণ কোরিয়াতে থাকার অনুমতি প্রদান করুন ও নিয়োগকারী কর্তৃক নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা যাতে ন্যায়বিচার পায় ও ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিন;
• অভিবাসীদের পাকড়াও করার সময় একথা খেয়াল রাখতে হবে যে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যেন দক্ষিণ কোরিয়ার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক তাদের নিজেদের পরিচয় অভিবাসী শ্রমিকদের কাছে প্রকাশ করে, শ্রমিকদের গ্রেফতারি পরওয়ানা দেখায়, ‍ তাদেরকে সতর্ক করে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের যে ধরনের অধিকার পাওয়ার সুযোগ আছে সেসম্পর্কে যেন তাদেরকে বিস্তারিত জানায় এবং শ্রমিকদের যখন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হবে সেসময়কালীন শ্রমিকদের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী তাদেরকে দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসা প্রদান করা হয় তা নিশ্চিত করুন।

আরো পড়ুন:
দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের ‘পরিত্যাগযোগ্য শ্রমিক’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে (সংবাদ, ২১ অক্টোবর ২০০৯)