বৈশ্বিক অস্ত্র চুক্তির জন্য বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি

৩০ অক্টোবর ২০০৯

জাতিসংঘে কয়েক বছর ধরে আলোচনা ও বিতর্কের পর আজ, ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক সরকার - সর্বমোট ১৫৩টি - একটি “শক্তিশালী ও দৃঢ়” অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি (আর্মস্ ট্রেড ট্রিটি, এটিটি) প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচলিত অস্ত্রের আন্তর্জাতিক স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণের জন্য “সর্বোচ্চ সাধারণ মানদণ্ড” সহ একটি সময়সূচিতে সম্মত হয়েছে৷ প্রচলিত অস্ত্রের বাণিজ্যের জন্য বর্তমানে কোনো বৈশ্বিক চুক্তি নেই৷

Voting board in the chamber of the UN General Assembly's First Committee.

বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র ব্যবসায়ীদের অধিকাংশ - যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি সহ - সবাই এখন জাতিসংঘের প্রক্রিয়াকে সমর্থন জোগাবে৷ ঊনিশটি রাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল কিন্তু সবাই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা হয়৷ জিম্বাবুয়ে ছিল বিপক্ষে ভোটদানকারী একমাত্র দেশ৷

প্রস্তাবটির ওপর বিতর্ক চলাকালে, অনেক দেশ নির্দ্বিধায় তাদের মতামত দিয়েছে এবং চুক্তিটি যাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন সহ, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে হয় তার ওপর জোর দিয়েছে৷

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচারাভিযান - ১০০টির বেশি দেশের শত শত বেসরকারি সংগঠনের জোট, যা এটিটি’র পক্ষে প্রচারাভিযান চালিয়েছিল - আজ জাতিসংঘে এই ঐতিহাসিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সত্যিকারঅর্থে কার্যকর একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য সবগুলো দেশকে আহ্বান জানিয়েছে৷ তারা সতর্ক করেছে যে সরকারগুলোকে এই গতিবেগ বজায় রাখতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে চূড়ান্ত চুক্তিটিতে বৈশ্বিক অস্ত্রবাণিজ্যের জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থাকে৷

আজ জাতিসংঘে এই চুক্তির অর্থ হচ্ছে জাতিসংঘে ধারাবাহিক কয়েকটি সভার মাধ্যমে চূড়ান্ত এটিটি তৈরি করা হবে যা ২০১২ সালে জাতিসংঘে একটি সম্মেলনের মাধ্যমে শেষ হবে৷

“অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির জন্য একটি ‘সোনালী আইন’ দরকার যাতে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন বা যুদ্ধাপরাধের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে এমন যে কোনো প্রস্তাবিত অস্ত্র স্থানান্তর বন্ধ করার জন্য সরকারগুলো বাধ্য থাকে,” বলেছেন ব্রায়ান উড, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রধান, “এই ধরনের একটি সোনালী আইন লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচাতে পারে এবং কয়েক কোটি লোকের জীবিকার নিরাপত্তা দিতে পারে৷”

এছাড়াও এটিটি সম্পর্কিত প্রস্তাবটি সশস্ত্র সংঘাত, জনগণের বাস্তুচ্যুতি, এবং সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদে আন্তর্জাতিক অস্ত্র স্থানান্তরের ভূমিকা তুলে ধরে, যা শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নকে বিনষ্ট করে৷

* যে দেশগুলো ভোটদানে বিরত ছিলঃ বাহরাইন, বেলারুশ, চীন, কিউবা, মিশর, ভারত, ইরান, কুয়েত, লিবিয়া, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সুদান, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন৷

আরো পড়ুনঃ
বৈশ্বিক অস্ত্র চুক্তির জন্য বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি (সংবাদ, ৩০ অক্টোবর ২০০৯)