জিম্বাবুয়ের ক্ষত সারাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই

১৮ জুন ২০০৯

জিম্বাবুয়ের মানবাধিকার বিষয় নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংস্থাটি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জিম্বাবুয়েতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জিম্বাবুয়ে সে দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেশটিতে চলমান কয়েক দশকের উচ্চ পর্যায়ের মানবাধিকার লংঘনের প্রেক্ষাপটে নয় মাস আগে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার অবসানের লক্ষ্যে বৈশ্বিক রাজনৈতিক চুক্তি (জিপিএ) গৃহীত হয়েছে এবং একটি সর্বদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চার মাস আগে। এরকম একটি সময়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিশন জিম্বাবুয়েতে পৌঁছায়। মিশনের লক্ষ্য হলো জিম্বাবুয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লংঘনের অবসান ও জিপিএ-র সঙ্গে মিল রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার করার ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকার যাচাই করা এবং এবিষয়ে সরকার ও আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে কাজের সুপারিশ করা যাতে করে তারা নির্দিষ্ট পথে এগিয়ে যেতে পারে।Amnesty International Secretary General Irene Khan (right), with Zimbabwean human rights activist Jestina Mukoko, 14 June 2009

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মিশন জিম্বাবুয়ের উপ-রাষ্ট্রপতি জোয়েস মুজুরু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমারসন দাম্বুডজু মনানগাগওয়া, শিক্ষা মন্ত্রী ডেভিড কোলটার্ট, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডিডিমাস মুতাসা, আইন উপমন্ত্রী জেসে মাজোমি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেমবো মোহাদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গিলিস মুতসেকওয়া, ন্যাশনাল হিলিং প্রতিমন্ত্রী শেকাই হল্যান্ড, সংসদের স্পিকার লোভেমোরে ময়ো প্রমুখের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এছাড়াও প্রতিনিধিদল গৃহায়ন মন্ত্রী ফিডেলিস মাহাসু-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্যে তার সাক্ষাৎ প্রার্থনা করলেও তিনি আমাদেরকে কোনো সময় দেননি। মহাসচিব আইরিন খান জিম্বাবুয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আগামী ২২ জুন সোমবার লন্ডনে এক সাক্ষাতকারে মিলিত হবেন।

আমরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে সরকারের খোলামেলা ও সহজ আচরণ এবং আমাদের কাজের পূর্ণ ও অবাধ স্বাধীনতা দেয়ার জন্যে সরকারকে সাধুবাদ জানাই।

আমরা সরকারি মন্ত্রী ও কর্মকর্তা ছাড়াও হারারে ও বুলাওয়েও-র সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শহর ও গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে সভা করেছি। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ অন্যান্য মানবাধিকার লংঘনের শিকার ব্যক্তিরাও রয়েছেন। আমরা বুলাওয়েও-র নিকটবর্তী একটি গ্রামীণ এলাকা, স্থানচ্যুত ব্যক্তিদের গড়ে তোলা শহুরে বস্তি ও হারারে-তে একটি প্রাইমারি স্কুল পরিদর্শন করেছি। এছাড়াও আমরা আফ্রিকান ও পশ্চিমা দেশের কূটনীতিবিদদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি।

জিম্বাবুয়ে সম্পর্কে আমরা যে তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করেছি সেসবই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সফরের আগে ব্যাপক গবেষণার মধ্য দিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিধিদলের সফর চলাকালে মিটিং ও আলোচনা সভার আগেও আমরা অনেক তথ্য জানতে পেরেছি।

আরো পড়ুন: http://www.amnesty.org/en/news-and-updates/news/without-justice-there-can-be-no-real-healing-in-zimbabwe-20090618