যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রয় ডেভিসের জন্যে আশার আলো দেখাচ্ছে

১৮ আগস্ট ২০০৯

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুর প্রহর গোনা বন্দী ট্রয় অ্যান্থনি ডেভিসের মামলায় নতুন করে প্রমাণভিত্তিক শুনানি গ্রহণের আদেশ দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেশের সর্বোচ্চ আদালত ৬-২ ভোটে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জর্জিয়া রাজ্য ডেভিসের মৃত্যু দণ্ডাদেশ কার্যকর করার আগে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের আরেকটি সুযোগ পাবেন।

এই রায়ের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড প্রথা বিলোপ প্রচারাভিযানের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক লরা মোয়ে বলেন, ‘আমরা জাতির সর্বোচ্চ আদালতের ‍কাছে কৃতজ্ঞ যে আদালত ট্রয় ডেভিসের বিষয়টি বিচক্ষণতার সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন করে প্রমাণভিত্তিক শুনানি অনুষ্ঠানের রায় দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অনেক বছর ধরে বলে আসছে যে এই ব্যক্তির মামলার বিষয়গুলো পুরোপুরিভাবে প্রকাশিত হওয়া দরকার। শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ দেয়া হলো। অফিসার ম্যাকফিলের হত্যার সঙ্গে ডেভিসের সম্পৃক্ততার কোনো জোরালো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারা সত্বেও তাকে অভিযুক্ত করার কাজটি সহজ ছিলো বলেই অবিবেকপ্রসূতভাবে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ পাওয়া গেলো।’

সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়েছে জেলা জজ নতুন শুনানি কার্যের সভাপতিত্ব করবেন। তিনি ‘প্রমাণাদি গ্রহণ করবেন এবং বিচার কার্য চলাকালে যে প্রমাণাদি পাবেন সেগুলো তার (ডেভিসের) নিরাপরাধতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে কিনা সেটি তিনি দেখবেন।’

ডেভিসকে ১৯৯১ সালে সাভানাহ পুলিশ কর্মকর্তা মাক এলেন ম্যাকফিলকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে কর্তৃপক্ষ ওই হত্যাকান্ডের সঙ্গে ডেভিসের যুক্ত থাকার কোনো প্রমাণ যেমন হত্যার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা শারীরিক প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন।

সরকারের নয়জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনই তাদের দেয়া সাক্ষ্য ও বিবৃতি পরবর্তীতে প্রত্যাহার করেছেন কিংবা এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের দেয়া প্রাথমিক সাক্ষ্য পরিবর্তন করেছেন। বাকি দু’জন সাক্ষীর মধ্যে একজন সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, সেই হলো আসল অপরাধী।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘হোয়ার ইজ দি জাস্টিজ ফর মি?’ (আমার ন্যায়বিচার কোথায়?’) শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ডেভিসের জন্যে ব্যাপক প্রচারাভিযান শুরু করে। সংস্থা তার জন্যে একটি নতুন শুনানি কিংবা বিচার আয়োজনের পাশাপাশি তার মুক্তির জন্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বাক্ষর ও চিঠি সংগ্রহ করে, এতে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন ও চিঠি দিয়েছেন।

আরো পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্র: সুপ্রিম কোর্ট ট্রয় ডেভিসের নির্দোষিতার দাবীর প্রমাণভিত্তিক শুনানির রায় দিয়েছে (১৭ আগস্ট ২০০৯)

যুক্তরাষ্ট্র: ‘অবিবেকপ্রসূত ও অসাংবিধানিক: ট্রয় ডেভিস দুই বছরে চারবার মৃত্যুদন্ডের মুখোমুখি হয়েছে (প্রতিবেদন, ১৯ মে ২০০৯)