অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ, তবে উচ্চমূল্যের বিনিময়ে
১৫ অক্টোবর ২০০৯
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি (এটিটি) শুরু করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থনের ঘোষণাকে অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্বাগত জানিয়েছে। তবে দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থাই এই মর্মে সতর্ক করে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের এই সমর্থনের ঘোষণার পিছনে অত্যন্ত উচ্চমূল্যের শর্ত রয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারকের অবস্থানের এই যে পরিবর্তন সেটি দায়িত্বজ্ঞানহীন অস্ত্র হস্তান্তর প্রতিরোধে জাতিসংঘে শুরু হওয়া আনুষ্ঠানিক আলোচনার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ঘটনা। এই ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, প্রচলিত অস্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ওবামা প্রশাসন গভীরভাবে আন্তরিক।
এর আগে বুশ প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সরকার একমাত্র দেশ হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে আসছিল।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তাদের সমর্থনের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতের আলোচনাগুলোতে অবশ্যই ভেটোর ধারা অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত জুড়ে দিয়েছে; এর ফলে চূড়ান্ত সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অবশ্যই সর্বসম্মত হতে হবে।
অক্সফাম ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই শর্তারোপ চূড়ান্ত আলোচনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এমাসে নিউইয়র্কে সরকারসমূহ এক সভায় মিলিত হবে যেখানে বৈশ্বিক অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলাপ আলোচনা শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ব্রাইয়েন উড বলেন, ‘অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বলেছে যে তারা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে একটি শক্তিশালী ও জোরদার অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি চায়। কিন্তু আগামী ২০১২ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সম্মেলনে প্রতিটি দেশের চুক্তির বিরোধীতা করার সুযোগ রাখার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কারণে দায়িত্বজ্ঞানহীন অস্ত্র হস্তান্তরের এই ধরনের চুক্তি সম্পাদন দুর্বল কিংবা বিলম্বিত হবে যা বিশ্বজুড়ে অগনিত জীবনহানির কারণ।’
আরো পড়ুন:
জাতিসংঘ বৈশ্বিক অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির জন্যে মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শুনানি করেছে (ফিচার, ৮ অক্টোবর ২০০৯)
ভীতিকর বাণিজ্য বন্ধ করুন: অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে মানবাধিকারের ধারাগুলো কিভাবে একটি সত্যিকারের নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে (ব্রিফিং, ৫ অক্টোবর ২০০৯)
অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক সপ্তাহ পালনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ঘটেছে (সংবাদ, ২২ জুন ২০০৯)
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচারাভিযান ওয়েবসাইট
