পাকিস্তানকে অবশ্যই জরুরি আইনের অধীনে পদচ্যুত বিচারকদেরকে পুনর্বহাল করতে হবে

২৮ এপ্রিল ২০০৮

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক জোট কর্তৃক নির্ধারিত ৩০ এপ্রিল সর্বশেষ সময়সীমার আগে পাকিস্তান সরকার অবশ্যই উচ্চ আদালতের প্রায় ৬০ জন বিচারককে পুনর্বহাল করবে যাদেরকে প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ জরুরি আইনের অধীনে অপসারণ করেছিলেন, বলেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷

 

“একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ হচ্ছে বিচারকদেরকে পুনর্বহাল করা,” বলেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷ “মানবাধিকার সম্পর্কিত নীতিসমূহকে চ্যালেঞ্জ করা, অবমাননাকর আইনসমূহ বদলে ফেলা এবং ব্যক্তিকে মর্যাদাহানির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিচারকরা একটি অনন্য পদে রয়েছেন৷”

 

“একটি কার্যকর, স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া, পাকিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি হতাশাব্যঞ্জক অবস্থাতেই থাকবে৷”

 

“সকল পদচ্যুত বিচারককে পুনর্বহাল করা না হলে, ভবিষ্যত রাষ্ট্রপতি ও সামরিক নেতৃবৃন্দ আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে বিচারকদেরকে অপসারণ করাকে যুক্তিযুক্ত মনে করতে পারে৷”

 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কিত জাতিসংঘের মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ দেয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি প্রবর্তন করার জন্য এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান সরকার ও জাতীয় সংসদকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছে৷ বিচারকরা যাতে স্বার্থের সংঘাত, ভীতি বা অন্যায্য প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেন এবং মেয়াদকাল সম্পর্কে নিশ্চিত থাকেন তা এই পদ্ধতিতে নিশ্চিত করতে হবে৷ তাদেরকে অবশ্যই ক্ষমতাসীনদের দ্বারা পরিত্যাগযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না৷

 

২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর তারিখে, প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে তার ক্ষমতাবলে জরুরি আইন জারি করেন এবং সুপ্রীম কোর্ট ও প্রাদেশিক হাই কোর্টগুলো থেকে প্রায় ৬০ জন বিচারককে অপসারণ করেন৷ সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে থাকাকালীন আরেকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে তার থাকার যোগ্যতা নিয়ে সুপ্রীম কোর্ট তখন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল৷ অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে, আদালত শত শত “অন্তর্হিত” ব্যক্তির ঘটনা নিয়ে জোরালো অনুসন্ধান করছিল, যাদের মামলাগুলো প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের পছন্দনীয় প্রতিস্থাপিত বিচারকরা একপাশে সরিয়ে রেখেছেন৷