নাইজেরিয়া সফরকালে সুদানী রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করা উচিৎ
২৩ অক্টোবর ২০০৯
গত বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছে নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি উমারু ইয়ারাদুয়া (UMARU YAR’ADUA) সুদানী রাষ্ট্রপতি ওমর আল বশিরকে নাইজেরিয়া সফরের জন্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যদিও রাষ্ট্রপতি বশিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক হুলিয়া জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ওমর আল বশিরকে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর তারিখে নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজাতে অনুষ্ঠিতব্য আফ্রিকান ইউনিয়ন পিস এন্ড সিকিউরিটি কাউন্সিল সভায় অংশ নেয়ার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এখনো অপ্রকাশিত একান্ত গোপনীয় এই আমন্ত্রণের বিষয়টি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি উমারু ইয়ারাদুয়া সুদানী রাষ্ট্রপতি ওমর আল বশিরকে নাইজেরিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার না করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আফ্রিকা বিষয়ক আইন উপদেষ্টা কোলাওয়ালে ওলানিয়ান বলেন, ‘তিনি (ওমর আল বশির) একজন আন্তর্জাতিক ফেরারি। তিনি ন্যায়বিচার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করার ও আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় তাকে নিরাপদ স্বর্গ প্রদানের যে প্রস্তাব নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে তা নাইজেরিয়ার জন্যে অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় সীমানায় প্রবেশ করামাত্র রাষ্ট্রপতি ওমর আল বশিরকে গ্রেফতার করে আইসিসি-র কাছে হস্তান্তর করার ব্যাপারে নাইজেরিয়ান সরকারের নিঃশর্ত আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ব্যত্যয় হওয়া মানে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে নাইজেরিয়ার যে বাধ্যবাধকতা আছে তার লংঘন ঘটানো এবং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধাস্বরূপ হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধে আইসিসি ২০০৯ সালের ৪ মার্চ তারিখে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করে।
নাইজেরিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তির একটি রাষ্ট্রপক্ষ এবং ব্যতিক্রম ছাড়া চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সকল রাষ্ট্র আইসিসি-র গ্রেফতার তালিকায় নাম রয়েছে এমন কাউকে গ্রেফতার করা ও তাকে আইসিসির কাছে সোপর্দ করার মাধ্যমে আইসিসি-কে সহযোগিতা করতে বাধ্য। নাইজেরিয়া যদি এটি করতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে আইসিসি এই ধরনের বাধ্যবাধকতার সুস্পষ্ট লংঘনের বিষয়টি চুক্তির ৮৭(৭) ধারা মোতাবেক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জানাতে পারে।

Delicious
Digg
Facebook
Technorati