২২ এপ্রিল ২০০৮
অলিম্পিক টর্চ হিমালয় পর্বতে পৌঁছানোর সময় চীন-বিরোধী বিক্ষোভ প্রতিরোধ করার জন্য নেপাল কতৃক সহিংসতা ব্যবহারের হুমকি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক নিন্দিত হয়েছে৷
মে মাসের প্রথম দিকে অলিম্পিক টর্চ রিলে হিমালয় পর্বতে পৌঁছানোর সময় চীন-বিরোধী বিক্ষোভ প্রতিরোধ করার জন্য “গুলিবর্ষণ সহ বলপ্রয়োগ...” করার অঙ্গীকার করেছে নেপালি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ এই হুমকি তিব্বতের পক্ষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর দমন অভিযানের পর এসেছে, যা ছিল সংবিধান-বিরোধী৷ ১০ মার্চ থেকে ২,০০০-এরও বেশি ব্যক্তিকে নির্বিচারে আটক করা হয়েছে৷
নেপাল সরকার নেপালে তিব্বতীদের বিরুদ্ধে বেআইনী পুলিশি কার্যক্রম বিস্তৃত করছে এবং তাদের মুক্তির, যথাযথ বিচার এবং চলাচল করার, সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার মত মৌলিক অধিকারসমূহকে পর্যায়ক্রমে লঙ্ঘন করছে৷
“চীনে নির্বিচারে বিতাড়িত করার হুমকি সহ তিব্বতী শরণার্থী সমাজের সদস্যরা সাম্প্রতিককালে ক্রমবর্ধমানভাবে শাস্তিমূলক পুলিশি কার্যক্রমের সম্মুখীন হয়েছে যার পরিকল্পনা করা হয়েছে স্বাধীন মতামত প্রকাশে বাধা দেয়ার জন্য৷ মারাত্মক শক্তি ব্যবহারের হুমকি প্রদানকারী বিবৃতিটি একটি অগ্রহণযোগ্য তীব্রতাকে প্রকাশ করে,” বলেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷
নেপালি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের কর্মকর্তারা একেবারেই আবশ্যক না হলে, বলপ্রয়োগের আশ্রয় গ্রহণ করবে না এবং তারা যেন অহিংস উপায়ে ভীড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করার জন্য পর্যান্ত যন্ত্রপাতি সজ্জিত এবং প্রশিক্ষিত হয়৷ শুধুমাত্র সর্বশেষ হাতিয়ার হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে, যখন জনজীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হবে৷ এছাড়াও সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার সম্পর্কে এর কর্মকর্তারা কঠোর নিয়ম-নীতির অধীনে রয়েছে এবং তারা দায়বদ্ধতার কঠোর পদ্ধতি মেনে চলছে৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নেপাল সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে যাতে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা জাতিসংঘের আচরণবিধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মূলনীতি মেনে চলে বিক্ষোভ-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করে৷
আরো পড়ুন
নেপালঃ তিব্বতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং বিক্ষোভকারীদেরকে মুক্তি দিতে হবে (২৪ মার্চ ২০০৮)


Delicious
Digg
Facebook
Technorati