যুক্তরাষ্ট্রে আটকাবস্থায় অভিবাসীরা নির্জীব হয়ে যাচ্ছে

২৬ মার্চ ২০০৯

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে, যার ফলে যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাবে কিছু সংখ্যক বন্দী আত্মহত্যার চেষ্টা করে৷

গত দশকে আটক অভিবাসীদের সংখ্যা তিনগুণ হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১০,০০০ থেকে ২০০৮ সালে ৩০,০০০-এরও বেশি হয়েছে৷ বন্দীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আশ্রয়প্রার্থী, নির্যাতন ও মানব পাচারের শিকার হয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা, যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুদের পিতামাতারা৷

“এটা নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে যে মানুষকে বন্দী করে রাখা হবে,” বলেছেন সারনাটা রেনল্ডস্, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ-এর শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক নীতিমালার পরিচালক৷

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আটক রাখা যাবে, প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর যথার্থতা প্রতিপাদন করতে হবে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার অধীনে থাকতে হবে৷

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সীমান্তে ধৃত সকল ব্যক্তির বিতাড়ন প্রক্রিয়া অমীমাংসিত থাকাকালীন সময় তাদেরকে “আটক রাখতে হবে”৷ একজন ঊর্ধ্বতন অভিবাসন কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেন যে তাদের মামলা চলাকালীন সময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া যাবে কিনা৷ কার্যক্ষেত্রে অনেকেই বিচার বিভাগের পর্যালোচনা ছাড়া কয়েক মাস ধরে, এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে আটক থাকে৷

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে বিতাড়ন অমীমাংসিত থাকাকালীন সময়ে অভিবাসীদেরকে বাধ্যতামূলক আটকাবস্থায় রাখা যায়, যদি তাদেরকে কিছু নির্দিষ্ট অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গৌণ, অহিংস অপরাধ৷ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও দীর্ঘ-সময়ের স্থায়ী বাসিন্দাদেরকে এই সব অনুবিধির অধীনে অযথার্থ ভাবে বাধ্যতামূলক আটকাবস্থায় রাখা হয়, এবং তারা বিতাড়নযোগ্য নয় তা প্রমাণের আগে তাদেরকে কয়েক মাস বা কয়েক বছর ধরে কারাগারে অতিবাহিত করতে হয়েছে৷

২০০৭ সালে, আইনী পরিষেবা প্রদানকারীরা আবিষ্কার করেছেন যে ৩২২ জন পর্যন্ত ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য সম্ভাব্য আবেদনকারী ছিলেন৷

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সুপারিশ করেছে যাতে আটকাবস্থাকে সর্বশেষ উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং যাতে কংগ্রেস আইন পাস করে যা নিশ্চিত করবে যে প্রত্যেক ব্যক্তি যাতে শুনানি করতে পারেন যা আটক রাখার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবে৷ অভিবাসী বন্দীদের সকল আটক কেন্দ্রগুলোতে মানবিক আচরণ ও মানবাধিকারের প্রয়োগযোগ্য মানদণ্ড নিশ্চিত করার জন্যও এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে৷

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনটি কয়েকজন ব্যক্তির মামলাগুলোকে তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে ৩৪-বছর-বয়সী একজন তিন বাচ্চার মা৷ তিনি বলেছেন যে একটি নগণ্য চুরির অপরাধে আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল৷ প্রায় তিন সপ্তাহ আটক থাকার পর, নিজে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন৷ অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে দেখার পর, তার হাতে হাতকড়া পরায় এবং তাকে আরেকটি কারাকক্ষে স্থানান্তর করে৷

আরেকজন ব্যক্তি, একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, তার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিব্বত থেকে পালিয়ে আসেন৷ তিনি নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন, কেবল ১০ মাসের জন্য কারাগারে প্রেরিত হওয়ার জন্য৷ ২০০৭ সালে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি লাভ করেন৷