ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশী দমন-পীড়ন উপেক্ষা করছেন
১৯ জুন ২০০৯
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী ইরানের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ক্ষুব্ধ জনগণের উপর পুলিশী নির্যাতনের বিষয়টি যেন দেখতে পাননি, এযেন জনগণের উপর পুলিশী নির্যাতন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।
গত শুক্রবার জুমা নামাজে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক টেলিভিশন ভাষণে আয়তুল্লাহ খামেনী নির্বাচনের সূত্র ধরে রাস্তায় বিক্ষোভ করা থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ মিলিশিয়াসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জনগণের উপর বল প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকা ও আইন মেনে চলার কথা না বলে বরং ক্ষুব্ধ মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন, এরপরও যদি কেউ বিক্ষোভ দেখাতে রাস্তায় নেমে আসে তবে তার ফলাফলের জন্যে বিক্ষোভকারী নিজেই দায়ী থাকবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির উপ-পরিচালক হাসিবা হার্জ সারাউ বলেন, ‘আমরা আয়াতুল্লাহ খামেনীর বক্তব্যে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। কারণ তিনি যা বলেছেন তাতে মনে হচ্ছে তিনি ক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার চর্চাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সবুজ সংকেত দিচ্ছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরো অনেক সংখ্যক মানুষ যদি প্রতিবাদ করে রাস্তায় নেমে আসে, আমরা আশঙ্কা করছি যে, তারা ব্যাপকভাবে ইচ্ছাস্বাধীন গ্রেফতারের মুখোমুখি হবে এবং অত্যধিক বল প্রয়োগের শিকার হবে, যেমনটা তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হয়েছেন। তাছাড়া আগামী ২০ জুন শনিবার তেহরানে অনুষ্ঠিতব্য বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতিও দেয়া হয়নি।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনোত্তরকালে গত কয়েক দিনে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও ফলাফলের নিন্দা করে হাজার হাজার মানুষ পুরো ইরান জুড়ে মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
বেশিরভাগ বিক্ষোভ প্রদর্শন ছিলো অহিংস্র ধরনের। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পাথর ছোড়া এবং জ্বালানো পোড়ানো হয়েছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্যে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী অত্যধিক বল প্রয়োগ করেছে এবং কাঠের মুগুর দিয়ে জনগণকে পিটিয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্ততপক্ষে ১০টি হত্যার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে, এর মধ্যে সরকারি গণমাধ্যমে আটটি হত্যার কথা স্বীকার করা হয়েছে। তেহরানের একটি ছাত্রাবাসে আক্রমণের ঘটনায় কমপক্ষে চারজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে সেটি দেখার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের উচিৎ সকল হত্যার ঘটনা ত্বরিতগতিতে তদন্ত করে দেখা।
আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইরান এই সনদে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যগণ শুধুমাত্র একান্ত প্রয়োজনে তাদের দায়িত্ব পালনের জন্যে যতটুকু দরকার ঠিক ততোটুকু বল প্রয়োগ করতে পারেন।
তারা কোনোমতেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন না যতোক্ষণ পর্যন্ত না সেটি একদমই অপরিহার্য হয় এবং শুধুমাত্র জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনেই এটি করা যেতে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যক্তিদের উচিৎ হবে বল প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা, যাতে করে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত হওয়ার ঘটনা কমিয়ে আনা যায় এবং মানুষের জীবনের প্রতি তাদেরকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং জনগণের জীবন রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে হবে।
হাসিবা হার্জ সারাউ বলেন, ‘রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি যখন নিরাপত্তার দায়িত্ব নিরাপত্তা বাহিনীর উপর না দিয়ে এই দায়িত্ব শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর ছেড়ে দেন তখন সেটি তাদের দায়িত্ব পালনের বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটায় এবং এটি আইন প্রয়োগকারীদের ক্ষমতার অপব্যবহারের লাইসেন্সসম একটি বিষয়ে পরিণত হয়।’
আরো পড়ুন:
ইরানী কতৃপক্ষ অবশ্যই বিতর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে ও এর প্রতিপালন করবে (সংবাদ, ১৮ জুন ২০০৯) Iranian authorities must respect and nurture debate (News, 18 June 2009)
ইরানে নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঘটনায় গ্রেফতার ও হত্যা বেড়েছে (সংবাদ, ১৭ জুন ২০০৯) Arrests and killings rise as election protests grip Iran (News, 17 June 2009)
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মধ্য দিয়ে ইরানে নতুন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শুরু (সংবাদ, ১৫ জুন ২০০৯) Violence against demonstrators marks new presidential term in Iran (News, 15 June 2009)
অশান্ত পরিবেশ আর চলমান মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (সংবাদ, ৫ জুন ২০০৯) Iran's presidential election amid unrest and ongoing human rights violations (News, 5 June 2009)
Delicious
Digg
Facebook
Technorati