২৪ এপ্রিল
শনিবারে মোগাদিসুর একটি মসজিদে আক্রমণের ঘটনায় ইথিওপীয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও সোমালিয়ার ক্রান্তিকালীন জাতীয় সরকারের (ট্রানজিশনাল ফেডারেল গভর্ণমেন্ট অব সোমালিয়া, টিএফজি) সশস্ত্র বাহিনীকে বেসামরিক নাগরিকদেরকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে৷ ওই আক্রমণে একুশ জন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে এটি একটি যুদ্ধাপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে৷
মৃত একুশ জনের মধ্যে এগারো জনকে হত্যা করা হয় মসজিদের ভিতরে, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম শেখ সাঈদ ইয়াহহিয়া, শেখ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ এবং তাবলিগে ইসলামীর কয়েকজন বিদ্যার্থী৷ মসজিদের আশেপাশের এলাকায় কমপক্ষে আরো দশ জন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়৷ পরে স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের মৃতদেহগুলো মসজিদে নিয়ে আসেন৷
জানা যায় যে এই একুশ জনের মধ্যে সাত জনের মৃত্যু হয় তাদের গলা কেটে ফেলার পর, এটি এক ধরনের বিচার-বহির্ভুত হত্যাকান্ড যা সোমালিয়ায় অবস্থানকারী ইথিওপীয় বাহিনী করে থাকে৷
মসজিদটিতে আকস্মিক হামলা চালানো হয় মোগাদিসুর উত্তর-পূর্ব এলাকায় ব্যাপক সংঘাতের সময়, যখন কয়েকজন ইথিওপীয় সৈন্যকে হত্যা করা হয় বলে জানা যায়৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মসজিদের মধ্যে যে এগারো জনকে হত্যা করা হয় তারা ছিল নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তি যারা হিংসাত্মক কার্যক্রমে কোনোপ্রকার সক্রিয় অংশগ্রহণ করেনি৷ ইথিওপীয়া সরকারের একজন মুখপাত্র এইসব হত্যাকান্ডে ইথিওপীয় বাহিনীর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে৷
এছাড়াও এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বিগ্ন যে ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী আনুমানিক ৪১টি শিশুকে, আল হিদিয়া মসজিদ থেকে ইথিওপীয়ার সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে, যেখানে শিশুরা ধর্মীয় ক্লাস করছিল৷ শিশুদেরকে মোগাদিসুর পাস্তা কারখানার নিকটে অবস্থিত ইথিওপীয় সামরিক শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা যায়৷ সেখানে উপস্থিত থাকা আরো ছোট শিশুদেরকে গ্রেফতার করা হয়নি৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছে যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বলেছে এই সকল শিশুদেরকে ছাড়া হবে “তদন্ত শেষ করার পর” এবং “যদি তারা সন্ত্রাসী না হয়”৷
ইথিওপীয় সামরিক বাহিনী এবং টিএফজি বাহিনী দুই দিন ধরে তাদের বিরুদ্ধাচরণকারী সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে৷ এলমান মানবাধিকার সংস্থা এই লড়াইয়ে ৮১ জন ব্যক্তির মৃত্যু এবং একশ জনের বেশি ব্যক্তির আহত হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে৷ এদের মধ্যে কতজন বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন তা জানা যায়নি৷
মসজিদে হামলার কারণে দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় সোমালিয়ার শহরগুলোতে টিজিএফ-এর বিরুদ্ধে সশস্ত্র দলগুলো আক্রমণ বৃদ্ধি করেছে৷ বেলেদওয়েইন শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে আল-শাহাব মিলিশিয়া বাহিনীর গ্রুপের সদস্যরা ১৩ই এপ্রিল একটি হামলায় চারজন শিক্ষককে হত্যা করেছে৷ আল-শাহাবের একজন নেতা দাবি করেছেন যে শিক্ষকরা মুখোমুখি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন৷
বেসামরিক নাগরিকদেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে একটি যুদ্ধাপরাধ৷ সোমালিয়ার অনেক এলকায় সংঘটিত, এই ধরনের অপরাধ করেও শাস্তির উর্ধ্বে থাকা বন্ধ করতে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিক কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে৷ সংগঠনটি বলেছে যে ইথিওপীয় সরকার ও টিএফজি এই সকল হত্যাকান্ডের একটি স্বাধীন তদন্ত অনুষ্ঠান অবশ্যই নিশ্চিত করবে৷
“ইথিওপীয়ার যে কোনো সৈন্যকে দায়ী হিসেবে প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারের মানদন্ড অনুযায়ী মৃত্যুদন্ড ছাড়া অন্য উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করতে হবে” বলেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷
এছাড়াও দেশটিতে সশস্ত্র সংঘাতের সময় মানবাধিকারের গুরুতর অপব্যবহার ও লঙ্ঘন সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন বা অনুরূপ ব্যবস্থা গঠনের মাধ্যমে সমগ্র সোমালিয়ায় শাস্তির উর্ধ্বে থাকা বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংগঠনটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানাচ্ছে৷
Delicious
Digg
Facebook
Technorati