নেপালে গৃহযুদ্ধের শিকারদের জন্য বিচার দাবি
১ মে ২০০৯
১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে নেপালের গৃহযুদ্ধের সময়, হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের হত্যাকাণ্ড, বলপূর্বক অন্তর্ধান ও নির্যাতনের প্রমাণ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংগ্রহ করেছে৷ এই সব অপরাধ এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও মাওবাদী বাহিনীগুলো৷
তবে, একটি সামগ্রিক শান্তি চুক্তি গ্রহণের দুই বছর পর, এই সব ভয়ঙ্কর অপরাধের জন্য দায়ী কাউকে, তারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বা নেপালী কম্যুনিস্ট পার্টির (মাওবাদী) সদস্য যেই হোক না কেন, এখন পর্যন্ত বিচারের সম্মুখীন করা হয়নি এবং অপরাধের শিকাররা বিচার ও ক্ষতিপূরণের জন্য এখনো অপেক্ষা করছে৷
১ মে শুক্রবার, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নেপালে ন্যায়বিচার, সত্য প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিপূরণের এক বছর-দীর্ঘ একটি জাতীয় প্রচারাভিযান শুরু করেছে৷
২০০৮-এ একটি নতুন সরকারের নির্বাচন দায়মুক্তি মোকাবেলা এবং এই সব অপরাধ যাতে নেপালে আর কখনো সংঘটিত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের একটি সুযোগ নিয়ে এসেছে৷
তবে, নতুন সরকার এই সব ক্ষেত্রগুলোতে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে মন্থর ছিল৷ তদুপরি, উদ্বেগ রয়েছে, সরকার যে ব্যবস্থাগুলো গ্রহণের পরিকল্পনা করছে - যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অপরাধীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন - সেগুলো নেপালে দায়মুক্তির অবসানের বদলে এটিকে আরো জোরদার করবে৷
পরবর্তী ১২ মাসে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অনেকগুলো বৈশ্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে অপরাধের শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার, সত্য প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নেপাল সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে৷
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নেপাল সরকারকে নিম্নলিখিতগুলোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছেঃ
• বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার ১০০০-এরও বেশি ব্যক্তির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা খুঁজে বের করার জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অন্তর্ধান কমিশন প্রতিষ্ঠা করা, দায়ী ব্যক্তিদেরকে খুঁজে বের করা এবং অপরাধের শিকার (যদি তাদেরকে জীবিত পাওয়া যায়) ও তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা৷
• সত্য খুঁজে বের করা এবং অন্যান্য ধরনের ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের (যেমন হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি) জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরকে খুঁজে বের করা এবং অপরাধের শিকারদের জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বাধীন ও কার্যকর সত্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করা৷ বিশেষ করে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সত্য কমিশনের বিলে সাধারণ ক্ষমার বর্তমান ধারার বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালাবে, এই বিলটি কিছুদিনের মধ্যেই সংসদে জমা দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ এর পরিবর্তে, ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যে কোনো অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য ফৌজদারি কর্তৃপক্ষের কাছে অবশ্যই জমা দিতে হবে৷
• সকল অপরাধের তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে জাতীয় আদালতে কার্যকরভাবে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য এবং অপরাধের শিকাররা যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া জাতীয় আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য আইন-প্রণয়ন এবং বিচার পদ্ধতির অন্যান্য সংস্কার করতে হবে৷
• তিনটি উল্লেখযোগ্য মামলার বিচার, সত্য প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে নির্যাতন এবং ২০০৪ সালে সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক ১৫-বছর-বয়সী মনিয়া সুনুওয়ার-এর হত্যাকাণ্ড৷
• নেপালে এই সব অপরাধ আর কখনো সংঘটিত হবে না তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধি, বলপূর্বক অন্তর্ধান থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমঝোতা এবং নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ অথবা শাস্তির বিরুদ্ধে সমঝোতার ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুসমর্থন করার মাধ্যমে সরকারকে তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করতে হবে।

Delicious
Digg
Facebook
Technorati