পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচিৎ মেহসুদ উপজাতিদের হয়রানি বন্ধ করা

২২ অক্টোবর ২০০৯

দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে পাকিস্তানী তালেবানদের উপর সেদেশের সরকারের সাম্প্রতিকতম আক্রমণ পরিচালনার কারণে পালিয়ে যাওয়া মেহসুদ গোত্রের বেসামরিক নাগরিকদের পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর হয়রানি বন্ধ করা উচিৎ বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছে যে, পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী মেহসুদ গোত্রের সদস্যদের সংঘাতপূর্ণ এলাকা  ছেড়ে প্রধান সড়কগুলোতে চলাচলে বাধা দিচ্ছে, এদের কেউ কেউ পাকিস্তানী তালেবানদের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

ট্যাঙ্ক শহরের বাইরে অবস্থানকারী মেহসুদ গোত্রের এক ব্যক্তি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছেন যে, সেনাবাহিনী গত সপ্তাহে তার এলাকায় বোমা বর্ষণ করায় তিনি পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।’

তিনি জানান যে, পালানোর সময় তারা অন্য আরো পাঁচটি পরিবারের একটি দলের সঙ্গে যোগ দেয়। ওই দলে ২০ জন পুরুষ, ১৫ জন শিশু ও ১৭-১৮ জন নারী এবং তাদের জিনিসপত্র ছিলো। তারা সবাই গাধায় চড়ে পালাচ্ছিল। তারা ট্যাঙ্ক শহরে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছাতে পারা নিয়ে শঙ্কিত কারণ ওই পথে মেহসুদ গোত্রের লোকদের চলাচলের উপর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে বলেন যে,

‘আমাদের ওই রাস্তাগুলো ব্যবহারের অনুমতি নেই, সেনাবাহিনী মেহসুদ গোত্রের ‍কাউকেই ওই রাস্তাতে চলাচলের অনুমতি দেয় না কিংবা সেটি তারা ব্যবহার করুক তা চায় না। --- আমরা যখন ‍বাড়ি ছেড়ে আসি তখন আমরা সঙ্গে কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম। সেই খাবার প্রথম দুদিনেই শেষ হয়ে গিয়েছে এবং এরপর খাওয়ার মতো আর কিছুই আমাদের সঙ্গে ছিলো না এবং অন্য যা কিছু আমাদের সঙ্গে ছিলো সেগুলো আমরা আমাদের সন্তানদের দিয়েছি, আর এসময়ে আমরা নিজেরা চা আর পানি ছাড়া অন্য কিছু খাইনি। আমরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছি। যেহেতু আমরা সড়কপথে চলাচল করতে পারছি না সেকারণে পাহাড়-পর্বত ধরে হেটে যাচ্ছি --- আমরা দুই দুইবার পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম।’

‘মুর্তুজা এলাকায় পৌঁছার পর আমরা একটি পিকআপ ভাড়া করি এবং সড়কপথে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই কারণ আমাদের সঙ্গের নারী ও শিশুরা অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলো এবং তাদের পক্ষে আরো হাটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিলো, কিন্তু পিকআপে কোর শহরের কাছাকাছি পৌঁছার পর সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্টে আমাদেরকে থামানো হলো। তারা আমাদের কাছে কেন আমরা সড়কপথে যাচ্ছি সেকথা জানতে চাইলো, এরপর তারা আমাদেরকে জানালো যে মেহসুদদের রাস্তায় চলাচল করার অনুমতি নেই। তারা আমাদেরকে রাস্তা ছেড়ে পিছু হটতে বাধ্য করলো এবং আমাদের গাড়ির চালককে নির্যাতনও করলো। যদিও গাড়িচালক মেহসুদ ছিলেন না, সে ছিলো মারওয়াত গোত্রের লোক। সৈন্যেরা প্রথমে তাকে পেটালো এবং তারপর তাকে বললো যে সে যেন মেহসুদ গোত্রের লোকদের তার ‍গাড়িতে আর না চড়ায়।’

আরো পড়ুন:
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচিৎ মেহসুদ উপজাতিদের হয়রানি বন্ধ করা (সংবাদ, ২২ অক্টোবর, ২০০৯)