আফগান সরকারের উচিৎ বিশ্বাসযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা
২০ অক্টোবর ২০০৯
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত মঙ্গলবার বলেছে, আফগান সরকার ও এর আন্তর্জাতিক সমর্থকদের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা ঘোষণা করা উচিৎ।
আফগানিস্তানের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণে ব্যাপক কারচুপি ধরা পড়ায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে আগামী ৭ নভেম্বর এক ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে।
এ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক স্যাম জারিফি বলেন, ‘আফগান সরকার ও তার আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সামনে এখন একটিমাত্র পথ খোলা আছে, যার মাধ্যমে তারা সকলের সামনে প্রমাণ করতে পারে যে বিগত নির্বাচনের ভুলগুলো থেকে তারা শিখতে পেরেছে। তারা নির্বাচনী প্রচারাভিযানকে ঘিরে গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর আক্রমণসহ মানবাধিকার লংঘনের সুস্পষ্ট পূর্ব-সতর্ক সঙ্কেত উপেক্ষা করেছে এবং এর ফলে নির্বাচনে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কারচুপির ঘটনা ঘটেছে যা এখন ইলেকটোরাল কমপ্লায়েন্টস কমিশনের তদন্তে বের হয়ে এসেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনতে এবং ভোট গ্রহণকালীন ও ভোট গ্রহণের আগে ও পরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষেণ করার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দিক থেকে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ‘আগামী বছরে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা আফগানিস্তানের জন্যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সংসদ নির্বাচনে কারচুপি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি।’
গত ২০ আগস্টে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণের পর সরকারি সূত্রসমূহ ও পর্যবেক্ষকদের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায় রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই প্রদত্ত ভোটের ৫৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবী করেছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ২৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
পরবর্তীতে ভোট পুনর্গণনা করার পর দেখা গেলো হামিদ কারজাই পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ ভোট আর আবদুল্লাহ পেয়েছেন ৩২ শতাংশ ভোট।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মতান্ত্রিকতা সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের কারণে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংস্থাগুলোকে ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও সহিংসতার অন্ততপক্ষে ২০টি ঘটনার কথা জানতে পেরেছে।
আরো পড়ুন:
আফগান সরকারের উচিৎ বিশ্বাসযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা (সংবাদ, ২০ অক্টোবর ২০০৯)
প্রার্থীদের উচিৎ আফগান সাংবাদিকদের ভীতিপ্রদর্শন বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া (ফিচার, ৭ অক্টোবর ২০০৯)
মন্তব্য: মানবাধিকারের দাবী ব্যতীত আফগানিস্তানের নির্বাচনের ফলাফল অস্বচ্ছ (সংবাদ, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯)
আফগানিস্তান: পারভিজ কামবখশ এর মুক্তি আটক অন্যদের মুক্তির আশা জাগিয়ে তুলেছে (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৯)
নির্বাচনে গণমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা আফগানিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে খর্ব করেছে (সংবাদ, ১৯ আগস্ট ২০০৯)

Delicious
Digg
Facebook
Technorati