পাকিস্তান প্রধান মানবাধিকার চুক্তি অনুমোদন করেছে

১৮ এপ্রিল ২০০৮

 

পাকিস্তান জাতিসংঘের একটি প্রধান মানবাধিকার চুক্তি অনুমোদন করেছে এবং অন্য দু’টিতে স্বাক্ষর করেছে৷

 

“জাতিসংঘের মানবাধিকার সম্পর্কিত সনদগুলোতে একটি রাষ্ট্রপক্ষ হওয়া পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সবার জন্য মানবাধিকারকে সম্মান, সুরক্ষা ও পালন নিশ্চিত করার একটি প্রধান পদক্ষেপ,” বলেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷

 

সংগঠনটি এই সুযোগ গ্রহণ করা এবং দেশটির বহু কাঙ্খিত মানবাধিকার সমস্যা মোকাবেলার জন্য পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে৷

 

২০০৬ সালের এপ্রিলে মানবাধিকার কাউন্সিলের নির্বাচনের জন্য এর প্রার্থীতা উপস্থাপনের সময়, পাকিস্তান মূল মানবাধিকার চুক্তিগুলো আগেভাগে অনুমোদনের জন্য নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷

 

১৭ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে, পাকিস্তান এই অঙ্গীকার রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি (ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন ইকোনমিক, সোস্যাল অ্যান্ড কালচারাল রাইটস, আইসিইএসসিআর) অনুমোদন করে, এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস, আইসিসিপিআর) এবং নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ অথবা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সমঝোতা (ইউএন কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার অ্যান্ড আদার ক্রুয়েল, ইনহিউম্যান অর ডেগ্রেডিং ট্রিটমেন্ট অর পানিশমেন্ট, ইউএনসিএটি) উভয়টিতে স্বাক্ষর করে৷

 

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বারবার, অনেক বছর ধরে, এই সকল ও অন্যান্য জাতিসংঘ মানবাধিকার চুক্তিগুলো অনুমোদনের জন্য পাকিস্তানকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছে৷

 

অবিলম্বে আইসিসিপিআর ও ইউএনসিএটি অনুমোদন এবং এই তিনটি চুক্তিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনের অংশে পরিণত করা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়ন বাস্তবায়ন করতে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে৷ এছাড়াও পাকিস্তানকে অবশ্যই অন্য সকল মানবাধিকার চুক্তি ও সেগুলোর ঐচ্ছিক খসড়া চুক্তি, এবং সেইসাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধান অনুমোদন করতে হবে, এবং নীতি ও চর্চায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলতে হবে৷

 

এছাড়াও এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার সকল ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া, অথবা তাদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা; সকল গোপন, শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক আটক বন্ধ করা; সকল নির্যাতন ও অন্যান্য নির্দয়-আচরণ বন্ধ করা এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তির সকল আইন বাতিল করা; এবং মৃত্যুদন্ডের সকল রায়ের উপর স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা ও বর্তমানে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষমান ৭০০০-এরও বেশি ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড প্রতিস্থাপন করার জন্য নতুন পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছে৷