ভারতীয় ডাক্তার বিনায়ক সেনকে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে
২৬ মে ২০০৯
ড. বিনায়ক সেন, যিনি দুই বছর ধরে ভারতের একটি কারাগারে বিবেকের বন্দী ছিলেন, তাকে সুপ্রীম কোর্ট থেকে জামিন দেয়ার পর মঙ্গলবার মুক্তি দেয়া হয়৷
ড. সেনের জামিনে মুক্তি পাওয়াকে স্বাগত জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বাস করে যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷ ড. বিনায়ক সেনের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের আহ্বানকে পুনর্ব্যক্ত করেছে৷
ড. সেন, যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় প্রদেশ ছত্রিশগড়ের রায়পুর কারাগারে আটক ছিলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যারা তার মুক্তির জন্য প্রচারাভিযান চালাচ্ছিল৷ তিনি বলেছেন যে “সরকারি ও বেসরকারি কুশীলবদের” কাছ থেকে তার জীবনের ওপর সম্ভাব্য হুমকি আসা সত্ত্বেও তিনি ছত্রিশগড়ে মানবাধিকার রক্ষার জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন৷
এই ৫৯ বছর বয়সী ব্যক্তিটি ছত্রিশগড়ের প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একজন অগ্রদূত, যেখানে রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও সশস্ত্র মাওবাদীরা গত ছয় বছর ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে৷
তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি মাওবাদী দলের কারারুদ্ধ একজন নেতার সাথে দেখা করার পর রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে ১৪ মে ২০০৭ তারিখে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল তার মানবাধিকার রক্ষামূলক কর্মকাণ্ডকে থামিয়ে দেয়া৷
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কয়েকটির ভিত্তি ছিল একজন কারারুদ্ধ মাওবাদী নেতার সাথে তার বৈঠক, যার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে কারা কর্তৃপক্ষই করেছিল৷
“ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সক্রিয় কর্মীদেরকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য কীভাবে নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে থাকে তার একটা উজ্জল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ড. সেনকে সুদীর্ঘ সময় ধরে কারারুদ্ধ করে রাখা,” বলেছেন মাধু মালহোত্রা, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের কার্যক্রমের উপ-পরিচালক৷
“এই আইনগুলো অপব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে কারণ এগুলোতে ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’-এর অস্পষ্ট ও ব্যাপক-ভিত্তিক সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে৷ শান্তিপূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সুরক্ষা প্রদান করে এমন কার্যক্রমকে কোনো অবস্থাতেই ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না৷”
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে, ড. সেন বিশেষ নিরাপত্তা আইন - ছত্রিশগড় স্পেশাল পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট, ২০০৫ (সিএসপিএসএ) কার্যকর করার জন্য রাজ্য কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিলেন৷
এছাড়াও তিনি পুলিশ ও সালওয়া জুদুম কর্তৃক বেআইনীভাবে আদিবাসীদের (আদি অধিবাসী) হত্যা করার কথা জানিয়েছিলেন৷ সালওয়া জুদুম হচ্ছে একটি বেসরকারি মিলিশিয়া বাহিনী যারা সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রাজ্য কর্তৃপক্ষের ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়৷
রাজ্য কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই সব বেআইনি হত্যাকাণ্ডের কোনো কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে৷
ড. সেনকে কোনো যথাযথ অভিযোগ ছাড়াই সাত মাস ধরে আটক রাখা হয়, তার জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়, এবং তিন সপ্তাহ ধরে তাকে নির্জন কারাকক্ষে রাখা হয়৷ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অনেকগুলোই এমন আইন থেকে উদ্ভূত যেগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ৷ তার বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বার বার দেরি হওয়ার বিষয়টিও বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহকে বাড়িয়ে দেয়৷ ইতোমধ্যে, ড. বিনায়ক সেনকে তার হৃদযন্ত্রের অসুস্থতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে৷

Delicious
Digg
Facebook
Technorati