নাইজেরিয়াতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীরা মুক্তি পেলো

২৬ আগস্ট ২০০৯

নাইজেরিয়ার সর্বাধিক প্রভাবশালী রাজ্যগুলোর একটি মৃত্যুদণ্ড বিলোপের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন বন্দীকে ক্ষমা করে তাদের মুক্তি দিয়েছে। লাগোসে আরো ৩৭ জন মৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দীর সাজা কমানো হয়েছে। এদের মধ্যে ২৯ জন এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

Disused execution posts outside Kirikiri prison, Lagos, Abuja, Nigeria, July 2008

‘এই ঘটনা লাগোসে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক ধাপ অগ্রসর হওয়া’- বলেছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাইজেরিয়া বিষয়ক গবেষক আস্টার ভ্যান ক্রেগটেন।

তিনি আরো বলেন, ‘রাজ্যের গভর্নর তার অনুসারী নাগরিকদের উপর খড়গের মতো ঝুলে থাকা মৃত্যু দণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার রক্ষায় গভর্নরের বড় ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় এবং আশা করে এই বিষয়ে তিনি নেতৃত্ব দেবেন। আমরা তাকে অনুসরণ করতে অন্যদের উৎসাহিত করি।’

‘আমরা আরো আশা করি লাগোস রাজ্যের নেতৃবৃন্দ গভর্নরের সাহসী পদক্ষেপ অনুসরণ করে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ঘোষণা করবে এবং শেষ পর্যন্ত অপরাধের কারণে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের আইন বিলোপ করবে। এভাবে লাগোস নাইজেরিয়া থেকে মৃত্যুদণ্ড বিলোপে উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।’

লাগোস রাজ্য গভর্নর বাবাতুন্দে ফাসহোলা বলেছেন যে, তিনি ‘মানবিক কারণে’ সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করেছেন। তিনি আরো বলেন যে, তিনি বন্দীদের তাদের আচরণ পরিবর্তন এবং সমাজে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ দিতে চান।’

লাগোসে দশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর রয়েছে, যদিও বিচারে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হচ্ছে। রাজ্য এ বছরের শেষ নাগাদ দণ্ডবিধি পর্যালোচনা করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নাইজেরিয়াতে প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। নাইজেরিয়াতে সামরিক সরকারের শাসনামলে ১৯৭০ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে ২৬০০ এরও বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় দেয়া হয়েছে। সামরিক শাসনকাল শেষে ১৯৯৯ সালের মে মাসে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর মৃত্যুদণ্ডের জন্যে অপেক্ষমান বন্দীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ওবাসানজো কর্তৃক গঠিত দুটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গবেষণা শেষে মৃত্যুদণ্ডাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে। কমিটি দুটি ছিলো মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক জাতীয় গবেষণা গ্রুপ (২০০৪) এবং ন্যায়বিচার সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার বিষয়ক প্রেসিডেনসিয়াল কমিশন (২০০৭)।

নাইজেরিয়াতে ২০০৮ সালে কমপক্ষে ৪০ জন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং মৃত্যুদণ্ডের জন্যে অপেক্ষমান ছিলো প্রায় ৭৩৫ জন, যাদের মধ্যে ১১ জন নারী। তাদের মধ্যে কয়েকশত মানুষ ন্যায্য বিচার পাননি।

বর্তমানে বিশ্বের ১৩৯টি দেশ আইন করে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে কিংবা মৃত্যুদণ্ড চর্চা বন্ধ রেখেছে। আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশেই মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করা হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত ৫৩টি দেশের মধ্যে মাত্র দুটি দেশ ২০০৮ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।