আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার প্রতি চেক প্রজাতন্ত্রের সংহতি ঘোষণা
২২ জুলাই ২০০৯
অবশেষে গত মঙ্গলবার চেক প্রজাতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সংক্রান্ত রোম আইন অনুসমর্থন করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও সুশীল সমাজের অন্যান্য সংগঠনগুলোর দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময়ের প্রচারণা সূত্রে এই অনুসমর্থনের ঘটনা ঘটলো।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক বিচার বিষয়ক ‘সিনিয়র লিগাল এডভাইজর’ ক্রিস্টোফার কিথ হল তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার প্রতি চেক প্রজাতন্ত্রের এই যে অঙ্গীকার তা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি চেক প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রের সুরক্ষায় গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মতো ঘটনার অবসানে ভূমিকা রাখবে।’
চেক প্রজাতন্ত্র রোম আইন স্বাক্ষরকারী ১১০তম দেশ। এই আইনের অনুসমর্থনের অন্যতম গুরুত্ব হলো এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ২৭টি রাষ্ট্রের সব কয়টি রোম আইনে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র পক্ষ। এর আগে গত ২৯ জুন চিলির অনুসমর্থনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার সবকয়টি দেশ রোম আইনে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র পক্ষ হয়েছে। এভাবেই দক্ষিণ আমেরিকার পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি তাদের আঞ্চলিক সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করলো।
ক্রিস্টোফার কিথ হল বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে এক দেশের পর অন্য দেশ রোম আইন অনুসমর্থনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধ সুরক্ষা দেয়ার প্রচলিত যে ধারা তার পরিমাণ কমে আসছে, এতে করে ভয়াবহ অপরাধের শিকার হওয়া অগণিত মানুষের ন্যায্য বিচার পাওয়া যেভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল সেটি দূর হবে।’
তবে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে যে, ইতোমধ্যে রোম আইন অনুসমর্থন করেছে এমন কয়েকটি দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি তাদের যে অঙ্গীকার তা এখনো পূরণ করেনি। অনেক দেশ এখনো রোম আইনের সঙ্গে মিল রেখে তাদের নিজ দেশের জাতীয় আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনেনি কিংবা এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে ও দায়মুক্তির জন্যে এবং ক্ষতিগ্রস্তকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে ও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক আদালতের সঙ্গে পৃথকভাবে সম্পূরক চুক্তি সম্পাদন করছে।
এই অবস্থা তুলে ধরে ক্রিস্টোফার কিথ হল বলেন, ‘(আন্তর্জাতিক আদালত বিষয়ক রোম আইন-এর) অনুসমর্থন একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ হলেও এটি কিন্তু প্রথম পদক্ষেপ। আইনটি বাস্তবায়নের জন্যে জাতীয় আইনের সংস্কার হওয়া দরকার। এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে চেক প্রজাতন্ত্র আন্তর্জাতিক আদালতকে সহযোগিতা করা নিশ্চিত করতে পারবে এবং জাতীয় আদালতগুলো গণহত্যাসহ মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার সংক্রান্ত দায়দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে।’

Delicious
Digg
Facebook
Technorati