চিলি কমপক্ষে ১২০ জন পিনোচেট দোসরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে

৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯

চিলির একজন বিচারক কমপক্ষে ১২০ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে। তাদের সবাই একসময় সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গত বুধবার বলেছে যে, এই আদেশ (চিলিতে) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে অতীতে দেশটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পর্যাপ্ত মনোযোগ দেয়নি।

Former Chilean leader Augusto Pinochet.

চিলির বিচারক ভিক্টোর মনটিগলিও যাদের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন তারা ১৯৭০ এর দশকে অগাস্টো পিনোচেটের এজেন্ট বা দোসর হিসেবে বিরোধীদের টার্গেট করে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করেছিলো। ঠিক কতোজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এখনো সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে ধারণা করা হয় সংখ্যাটি ১৬৫ জনের মতো হতে পারে।

পিনোচেটের আমলে পরিচালিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‍অভিযানগুলো বিতর্কিত ছিলো। এই ধরনের একটি অভিযানের নাম ছিলো অপারেশন কনডর। এই অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে সামরিক শাসনের বিরোধীতাকারীদের বিনাবিচারে আটক করতে ও বলপূর্বক অন্তর্ধানের লক্ষ্যে দেশগুলো এক সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছিলো। এরই এক পর্যায়ে চিলিতে বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার সরকার বিরোধী ১১৯ জন আন্দোলনকারীকে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের শিকার বলে প্রচারের জন্যে অপারেশন কলম্বো নামে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এবার এমন অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে যাদেরকে ইতোপূর্বে মানবিধকার লংঘনের দায়ে কখনোই বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। এরা সবাই সামরিক শাসনামলে মানবাধিকার লংঘনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আমেরিকার পরিচালক সুসান লী বলেন, ‘চিলি এর সমস্যাপূর্ণ অতীতের জন্যে সকলের কাছে পরিচিত। এখন সরকারের দিক থেকে আরো পদক্ষেপ নেয়া দরকার। যেমন: পিনোচেট আমলে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লংঘনের সকল ঘটনা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশের জন্যে সামরিক বাহিনীকে সরকারের দিক থেকে চাপ প্রয়োগ করা উচিৎ, যাতে করে পিনোচেট শাসনামলে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।’

অপারেশন কনডর ছিলো আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের সামরিক সরকারগুলোর সমন্বিত পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে ৭০ ও ৮০ এর দশকে সরকার ‘বিরোধী’-দের নিশ্চিহ্ন করার পদক্ষেপ নেয়া হয়। ওই অভিযানের প্রেক্ষাপটে হত্যা ও বলপূর্বক অন্তর্ধানসহ ব্যাপকভিত্তিক মানবাধিকার লংঘনের জন্যে দায়ী বেশিরভাগ ব্যক্তিকে এখনো চিহ্নিত করা হয়নি কিংবা বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

সুসান লী বলেন, ‘অপারেশন কনডরের কারণে নির্যাতন, হ্ত্যা ও বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা এখনো ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্যে অপেক্ষা করছেন। এখন এই অঞ্চলের সরকারগুলোর দায়িত্ব আর একদিনও দেরী না করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।’

চিলিতে গত বুধবার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরেকটি ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। চিলির সিনেট বলপূর্বক অন্তর্ধান থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ অনুমোদন করেছে। এখন চিলির রাষ্ট্রপতি মিশেল বেচেলেট বিলটি অনুমোদন করলে এটি আইনে পরিণত হবে। যদিও এই সনদের আওতায় অতীতে সংঘটিত অপরাধের বিচার করা যাবে না। তবে ভবিষ্যতে সংঘটিত হতে পারে এমন অপরাধ থেকে সুরক্ষা পেতে এই আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।