বাংলাদেশ: সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের সিদ্ধান্ত সুষ্ঠু বিচারে সহায়তা করবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল  জনবিবৃতি

১৭ সেপ্টেম্বর  এআই ইনডেক্স: এএসএ ১৩/০০৫/২০০৯

বাংলাদেশ: সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের সিদ্ধান্ত সুষ্ঠু বিচারে সহায়তা করবে

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে গণহত্যা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদস্যদের সামরিক আদালতে বিচার না হওয়া সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বিডিআর ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের বিচার সামরিক আদালতে করা যাবে কিনা সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়ে পাঠালে সুপ্রিম কোর্ট গত ১১ সেপ্টেম্বর এর উত্তর জানায়। সুপ্রিম কোর্ট তার ব্যাখ্যায় জানায় যে, বিডিআর ঘটনায় সন্দেহভাজনদের সামরিক আদালতে বিচার করা যাবে না। কারণ তারা বেসামরিক পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

সুপ্রিম কোর্টের মতামত মেনে চলা বিচার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্যে বাধ্যতামূলক কিংবা কোনো শর্ত নয়, তবে বাংলাদেশের সরকার সুপ্রিম কোর্টের এই মতামত মেনে চলার কথা জানিয়েছে এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দিয়েছে যে, বিদ্রোহের সময় সংঘটিত হত্যা, হ্ত্যার চেষ্টা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগসহ সকল অপরাধের বিচার দেশের দণ্ডবিধি-র আওতায় বেসামরিক আদালতে সম্পন্ন করা হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘটিত বিদ্রোহের শিকার ও সেই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সকলের ন্যায়বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি যেন সরকারের দিক থেকে নিশ্চিত করা হয়। সরকার বেসামরিক আদালতে এই বিচার কার্য পরিচালনার মাধ্যমে এতো বড় একটি বিদ্রোহ-সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনার উপযুক্ত বিচার যথাপোযুক্তভাবে নিশ্চিত করার মাধ্যমে বেসামরিক আদালতের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বস্ততা ফিরিয়ে আনার সুযোগ পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিচার কার্যক্রমে কয়েক হাজার বিবাদীর সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন বেসামরিক আদালতের (সিভিলিয়ন কোর্ট) উপর বিশেষ মনোযোগ দেয়া দরকার যাতে করে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের মানদণ্ড বজায় রেখে, সকল ধরনের বহিরাগত চাপ মোকাবেলা করে, জোরোলো ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে মানবাধিকার লংঘনের শিকার ব্যক্তি ও সেই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের আদালত থেকে ন্যায্য বিচার পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়।

পটভূমি
ঢাকার বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ৩৩ ঘণ্টাব্যাপী বিদ্রোহের ঘটনায় বেআইনী হত্যা ও জিম্মি করার অপরাধে প্রায় ৩০০০ বিডিআর সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে যারা এখন বিচারের অপেক্ষায় আছে। এই বিদ্রোহের ঘটনায় সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক আবেগের সঞ্চার ঘটে এবং তারা বিডিআর-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামরিক আদালতে বিচারের দাবী জানায়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিডিআর ঘটনার সন্দেহভজানদের সামরিক আদালতে বিচারের বিরোধীতা করে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিনাবিচারে আটক বিডিআর সদস্যদের নির্যাতন করা ও তাদের সঙ্গে অন্যান্য ধরনের দুর্ব্যবহারের কথা জানতে পেরেছে এবং এ পর্যন্ত হাজতে বন্দী থাকা অবস্থায় অন্ততপক্ষে ৪০ জন বিডিআর সদস্য মারা গিয়েছে।

জনসাধারণের জন্যে
আরো জানতে দয়া করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যুক্তরাজ্যের লন্ডনস্থ প্রেস অফিসে যোগাযোগ করুন। ফোন: +৪৪ ২০ ৭৪১৩ ৫৫৬৬ কিংবা ই-মেইল: press@amnesty.org

কিংবা লিখতে পারেন এই ঠিকানায়: International Secretariat, Amnesty International, 1 Easton St., London WC1X 0DW, UK

এছাড়াও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন: www.amnesty.org