আন্তর্জাতিক সদস্য হওয়ার জন্যে যা করতে হবে

ছবির ক্যাপশন: অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন সক্রিয় কর্মী একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করছেন
আপনি যে দেশটি নির্বাচিত করেছেন, সেখানে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এখনো কোনো নিজস্ব দপ্তর নেই৷ অর্থাত্ আপনার দেশে এ্যামনেস্টির আনুষ্ঠানিক কোনো উপস্থিতি নেই৷ এরকম অবস্থায় আপনি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্য পদ পেতে পারেন৷
আন্তর্জাতিক সদস্য মানে কি?
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্য তিনিই হতে পারবেন যিনি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের লক্ষ্য অর্জনের জন্যে অবদান রেখেছেন, যিনি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মূল মূল্যবোধ এবং নীতিমালা মেনে চলবেন এবং যিনি এমন কোনো দেশে বাস করেন যেখানে সংস্থার কোনো স্বীকৃত শাখা কিংবা অবকাঠামো নেই৷ এমন ধরনের পরিস্থিততে একজন ব্যক্তি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সচিবালয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সদস্য পদ লাভ করতে পারবেন৷ এক্ষেত্রে তিনি বার্ষিক চাদা দেবেন কিংবা তার বার্ষিক চাঁদা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সচিবালয় মওকুফও করতে পারে৷’
একজন আন্তর্জাতিক সদস্য হিসেবে আপনি কি করতে পারেন!!!
মানবাধিকারের মারাত্মক লংঘনের ঘটনা বন্ধে আপনি আপনার দিক থেকে কিছু একটা অবশ্যই করতে পারেন৷ আপনি কি করতে পারেন তার একটি ছোটো তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো:
মানবাধিকার লংঘনের শিকার ব্যক্তি এবং বিনা বিচারে আটক বন্দির পক্ষে আপনি আবেদন জানাতে পারেন৷
আপনি ওয়েবসাইটে ডায়রি লেখা শুরু করতে পারেন৷ একে ব্লগ বলে৷ এই ধরনের ডায়রি লেখার মাধ্যমে আপনি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্তা অন্যদের কাছে পৌঁছাতে পারেন৷
বন্ধুদের সঙ্গে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা নিয়ে আলাপ করতে পারেন৷
আপনি আপনার নিজের ভাষায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উপকরণসমূহ অনুবাদ করতে পারেন৷
মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা মোকাবেলায় আপনি স্থানীয়ভাবে মানুষদের সংঘবদ্ধ করতে পারেন৷
মানবাধিকার বিষয়ক পোস্টার এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারেন এবং সেগুলো আপনার এলাকায় লাগাতে পারেন৷
আপনি আপনার দক্ষতাকে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্যভিত্তিক অনলাইন কমিউনিটিতে কাজে লাগাতে পারেন৷
সদস্যপদ চাঁদা কী?
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হলো একটি সদস্যভিত্তিক সংস্থা৷ এর মানে হলো এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তহবিল নির্ভর করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সদস্যদের চাঁদা ও সাধারণ মানুষের অনুদানের উপর৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার স্বাধীনতা বজায় রাখার স্বার্থে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা তুলে ধরতে এবং এর প্রতিরোধে প্রচারিভিযানমূলক কোনো কাজের জন্যে সরকারসমূহ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কোনো তহবিল চায় না কিংবা তাদের কোনো অর্থ গ্রহণ করে না৷
আমরা আমাদের সদস্যদের সহায়তায় তাদের শক্তিতে বলিয়ান, সেটি হতে পারে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে, তাদের অনুদান কিংবা সদস্য চাঁদার মাধ্যমে৷
প্রবেশগম্যতা এবং স্বচ্ছতা তুলে ধরার জন্যে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সদস্যপদ চাঁদার হার নির্ধারণ করেছে প্রতিিটি দেশের মানব উন্নয়ন সূচকের উপর ভিত্তি করে৷
সদস্যপদের জন্যে বার্ষিক কোনো চাঁদা নেই৷
আন্তর্জাতিক সদস্যদের যে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্যপদ লাভের আগে একজনকে আন্তর্জাতিক সদস্যপদের আচরণবিধি ভালোভাবে পড়া ও অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ৷
আন্তর্জাতিক সদস্যপদের জন্যে আচরণবিধি
মানবাধিকারের জন্যে যে সংগ্রাম সেটি অবশ্যই সত্যিকারভাবে একটি আন্তর্জাতিক বিষয়৷ কারণ মানবাধিকার একটি সার্বজনীন বিষয় এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হলে কার্যকরভাবে মানবাধিকার রক্ষা করা সম্ভব হয়৷ এই ধরনের দায়িত্ব এবং আচরণবিধিগুলো এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে করে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা এবং কাজের সামঞ্জস্যতা বজায় থাকে, যার উপর কার্যকারিতাও নির্ভর করে৷ এছাড়াও এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রণয়নের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সদস্যদের নিরাপত্তা দেয়া, কারণ আন্তর্জাতিক সংহতির মাধ্যমে আমরা একে অন্যকে রক্ষা করতে সক্ষম হবো৷
একটি কার্যকর মানবাধিকার আন্দোলন প্রতিষ্ঠার জন্যে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদস্যরা তিনটি মৌলিক দায়িত্ব কঠোরভাবে মেনে চলার ব্যাপারে একমত হয়ে কাজ করবেন৷ এগুলো হলো:
আন্তর্জাতিক সদস্যরা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে প্রতিনিধিত্ব করবেন না৷
আন্তর্জাতিক সদস্যরা অফিসিয়াল প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করবেন না, কিংবা তারা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে কিংবা তাদের হয়ে কোনো কথা বলবেন না৷ এই ধরনের কঠোরতা অনুসরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে যেমন নিপীড়ন কিংবা নির্যাতন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে তেমনি এর ফলে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর বার্তাগুলো সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ ও কার্যকর হবে৷
আন্তর্জাতিক সদস্যরা শুধুমাত্র এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সচিবালয় কর্তৃক প্রণীত উপকরণ নিয়ে কাজ করবেন
কোনো ইস্যুতে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তৈরি করা আন্তর্জাতিক চাপ সত্যিকারের অর্থে কার্যকর হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সেগুলো ভালোভাবে সমন্বয় না করা হবে এবং সেগুলো সংস্থার নির্ভুল গবেষণার প্রতিফলন না ঘটাবে৷ এই ধরনের কাজ যাত েসাফল্যের সঙ্গে করা সম্ভব হয় সেজন্যে আন্তর্জাতিক সদস্যরা আন্তর্জাতিক সচিবালয়কে দায়িত্ব দিয়েছে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানের এবং কার্যকর কাজের কৌশল প্রণয়নের৷ আন্তর্জাতিক সচিবালয় কর্তৃক প্রণীত উপকরণের উপর কাজ করার মাধ্যমে সদস্যরা জানতে পারবেন যে তারা একটি বৈশ্বিক প্রচারাভিযানের কার্যকারিতার জন্যে কাজ করছেন৷
আন্তর্জাতিক সদস্যরা নিজেরাই নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করবেন এবং তারা কোনো ধরনের আক্রমণমূলক কাজে কিংবা লেখায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন না৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আন্তর্জাতিক সচিবালয় সকল ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করার জন্যে অঙ্গীকারাবদ্ধ৷ আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতিমালা জানার জন্যে এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক সচিবালয় এই আচরণবিধি বজায় রাখার জন্যে দায়িত্বশীল৷
আপনার যেকোনো প্রশ্ন আপনি পাঠাতে পারেন: International.Membership@amnesty.org
অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে যোগ দেয়ার জন্যে যা করতে হবে
নিচের ‘Join’ লেখা লিঙ্কে ক্লিক করুন এবং আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন৷
জয়েন লেখা বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে আপনি আন্তর্জাতিক সদস্যদের আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে একমত হলেন৷