এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইতিহাস
এখন বিশ্বের ১৫০ টিরও বেশি দেশে আমাদের ২২ লাখেরও বেশি সদস্য, সমর্থক ও গ্রাহক রয়েছে৷ বিশ্বের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে আমাদের সদস্য, সমর্থক বা গ্রাহক নেই৷
আমাদের সংস্থার শুরুর দিককার ইতিহাসের বর্ণনায় সেসময়ে গৃহীত কয়েকটি প্রচারণা ও কর্মকান্ড এবং অর্জিত সাফল্যের মাইলফলকগুলোর উপর আলোকপাত করা হবে৷
ষাটের দশক
১৯৬১ সালে ব্রিটিশ আইনজীবি মি. পিটার বেনেনসন দি অবজারভার পত্রিকায় ‘দি ফরগটেন প্রিজনারস’ শিরোণামে এক আলোচিত প্রবন্ধ লেখার মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ‘এ্যামনেস্টি ১৯৬১ এর জন্যে আবেদন‘ শীর্ষক প্রচারণা কার্যক্রম সূচনা করেন৷ বেনেনসনের এই লেখার অনুপ্রেরণা ছিলো দুই পতুর্গীজ ছাত্র, যারা তাদের মুক্তির জন্যে শুভকামনা করে মদ পান করেছিলো৷ মি. পিটার বেনেনসনের এ্যামনেস্টির জন্যে আবেদনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পত্রিকায় পুনর্মুদ্রিত হয়েছিলো যা শেষপর্যন্ত এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে৷
প্রথম আন্তর্জাতিক সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালের জুলাই মাসে, এতে বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী, আয়ারল্যান্ডপ, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধিগণ অংশ নেন৷ তারা ‘‘মানুষের মত প্রকাশ ও ধর্মের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন৷’
লন্ডনের মিত্রি কোর্টে অবস্থিত র্পিটার বেনেনসনের চেম্বারে একটি ছোট দফতর ও গ্রন্থাগার চালু করা হয়৷ সেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা কর্মী হিসেবে যোগ দেয়৷ এখানে ‘থ্রিজ নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ যার মাধ্যমে প্রতিটি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক এলাকা থেকে তিনজন করে বন্দী বাছাই করে নেয়, যাতে করে গ্রুপের কাজের নিরেপক্ষতা বজায় থাকে৷
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে লন্ডনের সেন্ট-মার্টিন-ইন-দি-ফিল্ডস চার্চে এ্যামনেস্টির মোমবাতি প্রথমবারের মতো জ্বালানো হয়৷
১৯৬২ সালের জানুয়ারি মাসে ঘানাতে প্রথম গবেষণার কাজ শুরু হয়৷ এখানে একটি গবেষক দল যায়৷ এরপর ফ্রেব্রুয়ারি মাসে গবেষণার কাজ করা হয় চেকোস্লাভাকিয়াতে ফ্রেব্রুয়ারি মাসে (সন্দেহের বশবর্তী হয়ে গ্রেফতারকৃত আর্কবিশপ জোসেফ বেরানের পক্ষে), এবং এরপর পর্তুগাল ও জার্মানীতে গবেষক দল যায়৷
সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বন্দী ও তাদের পরিবারকে ত্রাণ দেয়ার লক্ষ্যে ‘প্রিজনার অফ কনসায়েন্স ফান্ড’ গঠন করা হয়৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়৷ সেখানে সাতটি দেশের ৭০টি এ্যামনেস্টি গ্রুপের বাছাই করা ২১০ জন বন্দীর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়৷ এছাড়াও ‘প্রিজনার অফ কনসায়েন্স লাইব্রেরি’-তে ১২০০ মামলার বিবরণ নথিবদ্ধ করা হয়৷
বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত এক কনফারেন্সে একটি স্থায়ী সংগঠন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হিসেবে পরিচিত হবে৷
একজন পর্যবেক্ষক নেলসন ম্যান্ডেলার বিচার কার্য পর্যবেক্ষন করেন৷
১৯৬৩ সালের মধ্যে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ৩৫০টি গ্রুপের বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়৷ দুই বছরের মধ্যে ৭৭০ জন বন্দীর কেস এ্যামনেস্টি হাতে নেয়৷ যাদের মধ্যে ১৪০ জন মুক্তি পায়৷
লন্ডনে আন্তর্জাতিক সচিবালয় (এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদর দপ্তর) স্থাপন করা হয়৷
পিটার বেনেনসন ১৯৬৪ সালে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন৷ ততোদিনে ১৪টি দেশে ৩৬০টি গ্রুপ সংগঠিত হয়েছে৷ এই বছর আগস্ট মাসে জাতিসংঘ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে কনসালটেটিভ মর্যাদা দেয়৷
১৯৬৫ সালে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রোমানিয়ার কারাগার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ জাতিসংঘে একটি রেজুলেশন আনার ব্যবস্থা করে এবং শেষ পর্যন্ত শান্তিময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অপরাধে মৃত্যুদন্ড ব্যবস্থা বিলোপ করতে সক্ষম হয়৷
মাসিক ‘পোস্টকার্ড ফর প্রিজনারস’ প্রচারণা শুরু করে৷
১৯৬৭ সালের মধ্যে ১৮টি দেশে ৫৫০ টি গ্রুপ সংগঠিত হয় এবং এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ৬৩টি দেশে প্রায় ২ হাজার বন্দির মুক্তির জন্যে কাজ করে৷ ২৯৩ জন বন্দী মুক্তি পায়৷
১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ‘প্রিজনার অফ কনসায়েন্স’ সপ্তাহ পালিত হয়৷
১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে ইউনেস্কো এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের আরেকটি বড় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কনসালটেটিভ মর্যাদা দেয়৷ এসময়ে সংস্থাটি ২ হাজার সন্দেহভাজন বন্দীর মুক্তির ব্যবস্থা করতে পেরেছিলো৷