এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইতিহাস
এখন বিশ্বের ১৫০ টিরও বেশি দেশে আমাদের ২২ লাখেরও বেশি সদস্য, সমর্থক ও গ্রাহক রয়েছে৷ বিশ্বের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে আমাদের সদস্য, সমর্থক বা গ্রাহক নেই৷
আমাদের সংস্থার শুরুর দিককার ইতিহাসের বর্ণনায় সেসময়ে গৃহীত কয়েকটি প্রচারণা ও কর্মকান্ড এবং অর্জিত সাফল্যের মাইলফলকগুলোর উপর আলোকপাত করা হবে৷
ষাটের দশক
১৯৬১ সালে ব্রিটিশ আইনজীবি মি. পিটার বেনেনসন দি অবজারভার পত্রিকায় ‘দি ফরগটেন প্রিজনারস’ শিরোণামে এক আলোচিত প্রবন্ধ লেখার মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ‘এ্যামনেস্টি ১৯৬১ এর জন্যে আবেদন‘ শীর্ষক প্রচারণা কার্যক্রম সূচনা করেন৷ বেনেনসনের এই লেখার অনুপ্রেরণা ছিলো দুই পতুর্গীজ ছাত্র, যারা তাদের মুক্তির জন্যে শুভকামনা করে মদ পান করেছিলো৷ মি. পিটার বেনেনসনের এ্যামনেস্টির জন্যে আবেদনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পত্রিকায় পুনর্মুদ্রিত হয়েছিলো যা শেষপর্যন্ত এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে৷
প্রথম আন্তর্জাতিক সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালের জুলাই মাসে, এতে বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী, আয়ারল্যান্ডপ, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধিগণ অংশ নেন৷ তারা ‘‘মানুষের মত প্রকাশ ও ধর্মের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন৷’
লন্ডনের মিত্রি কোর্টে অবস্থিত র্পিটার বেনেনসনের চেম্বারে একটি ছোট দফতর ও গ্রন্থাগার চালু করা হয়৷ সেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা কর্মী হিসেবে যোগ দেয়৷ এখানে ‘থ্রিজ নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ যার মাধ্যমে প্রতিটি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক এলাকা থেকে তিনজন করে বন্দী বাছাই করে নেয়, যাতে করে গ্রুপের কাজের নিরেপক্ষতা বজায় থাকে৷
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে লন্ডনের সেন্ট-মার্টিন-ইন-দি-ফিল্ডস চার্চে এ্যামনেস্টির মোমবাতি প্রথমবারের মতো জ্বালানো হয়৷
১৯৬২ সালের জানুয়ারি মাসে ঘানাতে প্রথম গবেষণার কাজ শুরু হয়৷ এখানে একটি গবেষক দল যায়৷ এরপর ফ্রেব্রুয়ারি মাসে গবেষণার কাজ করা হয় চেকোস্লাভাকিয়াতে ফ্রেব্রুয়ারি মাসে (সন্দেহের বশবর্তী হয়ে গ্রেফতারকৃত আর্কবিশপ জোসেফ বেরানের পক্ষে), এবং এরপর পর্তুগাল ও জার্মানীতে গবেষক দল যায়৷
সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বন্দী ও তাদের পরিবারকে ত্রাণ দেয়ার লক্ষ্যে ‘প্রিজনার অফ কনসায়েন্স ফান্ড’ গঠন করা হয়৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়৷ সেখানে সাতটি দেশের ৭০টি এ্যামনেস্টি গ্রুপের বাছাই করা ২১০ জন বন্দীর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়৷ এছাড়াও ‘প্রিজনার অফ কনসায়েন্স লাইব্রেরি’-তে ১২০০ মামলার বিবরণ নথিবদ্ধ করা হয়৷
বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত এক কনফারেন্সে একটি স্থায়ী সংগঠন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হিসেবে পরিচিত হবে৷
একজন পর্যবেক্ষক নেলসন ম্যান্ডেলার বিচার কার্য পর্যবেক্ষন করেন৷
১৯৬৩ সালের মধ্যে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ৩৫০টি গ্রুপের বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়৷ দুই বছরের মধ্যে ৭৭০ জন বন্দীর কেস এ্যামনেস্টি হাতে নেয়৷ যাদের মধ্যে ১৪০ জন মুক্তি পায়৷
লন্ডনে আন্তর্জাতিক সচিবালয় (এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদর দপ্তর) স্থাপন করা হয়৷
পিটার বেনেনসন ১৯৬৪ সালে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন৷ ততোদিনে ১৪টি দেশে ৩৬০টি গ্রুপ সংগঠিত হয়েছে৷ এই বছর আগস্ট মাসে জাতিসংঘ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে কনসালটেটিভ মর্যাদা দেয়৷
১৯৬৫ সালে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রোমানিয়ার কারাগার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ জাতিসংঘে একটি রেজুলেশন আনার ব্যবস্থা করে এবং শেষ পর্যন্ত শান্তিময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অপরাধে মৃত্যুদন্ড ব্যবস্থা বিলোপ করতে সক্ষম হয়৷
মাসিক ‘পোস্টকার্ড ফর প্রিজনারস’ প্রচারণা শুরু করে৷
১৯৬৭ সালের মধ্যে ১৮টি দেশে ৫৫০ টি গ্রুপ সংগঠিত হয় এবং এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ৬৩টি দেশে প্রায় ২ হাজার বন্দির মুক্তির জন্যে কাজ করে৷ ২৯৩ জন বন্দী মুক্তি পায়৷
১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ‘প্রিজনার অফ কনসায়েন্স’ সপ্তাহ পালিত হয়৷
১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে ইউনেস্কো এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের আরেকটি বড় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কনসালটেটিভ মর্যাদা দেয়৷ এসময়ে সংস্থাটি ২ হাজার সন্দেহভাজন বন্দীর মুক্তির ব্যবস্থা করতে পেরেছিলো৷
সত্তর এর দশক
১৯৭০
২৭টি দেশে তখন ৮৫০টি সংগঠন ছিল; এই বছর ৫২০জন বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয়৷
১৯৭১
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ব্যাপক প্রচার পায়, এমন একটি বছরে যখন ৭০০জন বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয়৷
১৯৭২
নির্যাতন বন্ধ করার জন্য এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বব্যাপী তার প্রথম প্রচারাভিযান শুরু করে৷
১৯৭৩
প্রথম পূর্ণাঙ্গ জরুরি কার্যক্রম (আর্জেন্ট অ্যাকশন) ইস্যু করা হয়, প্রফেসর লুইস বাসিলো রোসির পক্ষে, তিনি একজন ব্রাজিলিয়ান যাকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করা হয়৷ লুইস নিজে বিশ্বাস করেছিলেন যে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আপিল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণঃ “আমি জানতাম যে আমার বিষয়টি জনসম্মুখে চলে এসেছে, আমি জানতাম তারা আর আমাকে হত্যা করতে পারবে না৷ তারপর আমার উপর চাপ কমে গেল এবং অবস্থার উন্নতি ঘটলো৷”
মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করার জন্য চিলির নতুন সরকার এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি তিন-ব্যক্তির মিশনকে অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুপ্রেরণায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব পাস করে৷
১৯৭৪
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সীন ম্যাকব্রাইড, আন্তর্জাতিক নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, মানবাধিকারের জন্য তার আজীবন কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল চিলির সামরিক অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে, প্রেসিডেন্ট অগাস্টো পিনোচেটের শাসনামলে রাজনৈতিক নিপীড়ন, হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশকারী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷
তুর্কীর মুমতাজ সয়সাল প্রাক্তন বিবেকের বন্দীদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক নির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত হন, যা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সর্বোচ্চ পরিচালনা পরিষদ৷
১৯৭৫
জাতিসংঘ নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বসম্মতভাবে একটি ঘোষণা গ্রহণ করে৷
৩৩টি দেশে তখন ১,৫৯২টি সংগঠন ছিল এবং ৬৫টি দেশে ৭০,০০০-এরও বেশি সদস্য ছিল৷
১৯৭৬
লন্ডনে প্রথমবারের মত ‘সিক্রেট পুলিশম্যানস্ বল’ তহবিল সংগ্রহকারী কার্যক্রম জন ক্লিস ও মন্টি পাইথন, পিটার কুক এবং ‘বিয়ন্ড দ্য ফ্রিঞ্জ’-এর অন্য কৌতুকাভিনেতাগণ, নট দ্য নাইন ও’ক্লক নিউজ, ফল্টি টাওয়ার্স ও দ্য গুডিজকে লক্ষ্যণীয়ভাবে তুলে ধরে৷ ধারাবাহিকটি পরবর্তী বছরগুলিতে চালু ছিল এবং মুখ্য কৌতুকাভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী যেমন পিটার গ্যাব্রিয়েল, ডুরান ডুরান, মার্ক নফলার, বব জেলডফ, এরিক ক্ল্যাপটন ও ফিল কলিন্স লাইভ এইডের মত দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পথ তৈরি করে দেয়৷
নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস, আইসিসিপিআর) এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি (ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন ইকোনমিক, সোস্যাল অ্যান্ড কালচারাল রাইটস, আইসিইএসসিআর) কার্যকর হয়৷ এই দু’টি একত্রে আন্তর্জাতিক অধিকারের সনদ (ইন্টারন্যাশনাল বিল অব রাইটস্) হিসেবে পরিচিত৷
১৯৭৭
“স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, এবং তার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি অর্জনের ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখার জন্য” এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে৷
১৯৭৮
“মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান”-এর জন্য এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জাতিসংঘের মানবাধিকার পুরস্কার লাভ করে৷
১৯৭৯
জর্জ রাফায়েল ভিদেলা কর্তৃক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আর্জেন্টিনায় “অন্তর্ধান” হওয়া ২,৬৬৫ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশিত হয়৷
‘নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য বর্জন সম্পর্কে সমঝোতার সনদ’ (কনভেনশন অন দি এলিমিনেশন অব অল ফর্মস অব ডিসক্রিমিনেশন অ্যাগেইনস্ট উওম্যান’, সিইডিএডব্লিউ) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়৷
১৯৮০’র দশক
১৯৮০
মার্টিন ইনালস-এর কাছ থেকে সুইডেনের থমাস হ্যামারবার্গ মহাসচিবের দায়িত্ব বুঝে নেন৷
১৯৮১
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০তম বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য লন্ডনে একটি মোমবাতি-প্রজ্জ্বলন উৎসবের আয়োজন করা হয়৷
১৯৮২
১০ ডিসেম্বর, মানবাধিকার দিবসে, সকল বিবেকের বন্দীদের প্রতি সর্বজনীন সাধারন ক্ষমা প্রদর্শনের জন্য একটি সনির্বন্ধ আহ্বান শুরু করা হয়৷ পিটিশনগুলোতে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন, যেগুলো এক বছর পরে জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হয়৷
১৯৮৩
সরকারগুলো কর্তৃক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি বিশেষ প্রতিবেদন চালু করে৷
১৯৮৪
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একটি প্রচারাভিযান শুরু করে, যাতে নির্যাতন বিলুপ্ত করার জন্য একটি ১২-পয়েন্টের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল৷
১৯৮৫
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার প্রথম শিক্ষামূলক প্যাকেজ প্রকাশ করেঃ মানবাধিকার সম্পর্কে পাঠদান ও শিক্ষণ৷
ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে আন্তর্জাতিক কাউন্সিলের সভায় শরণার্থীদের জন্য কাজকেও অন্তর্ভুক্ত করতে সংবিধিকে বিস্তৃত করার একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়৷ তখন অর্ধ-মিলিয়নেরও বেশি সদস্য, সমর্থক ও চাঁদা প্রদানকারী ছিলেন৷
১৯৮৬
ইউটু, স্টিং, পিটার গ্যাব্রিয়েল, ব্রায়ান অ্যাডামস্, লো রিড, নেভিল ব্রাদার্স ও অন্যান্যদের সাথে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ ‘কন্সপিরেসি অব হোপ’ নামক রক কনসার্ট শুরু করে৷
আয়ান মার্টিন মহাসচিব হন৷
১৯৮৭
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে বলা হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতুদণ্ড জাতিগতভাবে বৈষম্যপূর্ণ ও স্বেচ্ছাচারমূলক এবং বিভিন্ন চুক্তিকে লঙ্ঘন করে, যেমন নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস)-এর দ্বিতীয় ঐচ্ছিক খসড়া চুক্তি৷
নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে সমঝোতা (কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার অ্যান্ড আদার ক্রুয়েল, ইনহিউম্যান অর ডেগ্রেডিং ট্রিটমেন্ট অর পানিশমেন্ট) কার্যকর হয়৷
১৯৮৮
হিউম্যান রাইটস্ নাউ! কনসার্ট ট্যুর, যাতে অন্যান্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল স্টিং ও ব্রুস স্প্রিংস্টেন, ১৫টি দেশের ১৯টি শহর ভ্রমণ করে এবং মানবাধিকার দিবসে সম্প্রচারিত হলে কয়েক মিলিয়ন লোক তা উপভোগ করে৷ ট্যুরের পর অনেকগুলো দেশে সদস্য সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়৷
১৯৮৯
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে একটি বড় মাপের নতুন গবেষণা প্রকাশ করে, ‘যখন রাষ্ট্র হত্যা করে’ (হোয়েন দি স্টেট কিলস্)৷
৯০ এর দশক
১৯৯০
সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০টি দেশে ৭ লাখ হয়, এসময়ে ৭০টি দেশে স্বেচ্ছাসেবী দলের সংখ্যাও ৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
১৯৯১
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেখলো যে তাদের কাজের পরিধি বেড়েছে। সশস্ত্র বিরোধী দলগুলোর নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহার, মানুষকে জিম্মি করা এবং ভিন্নতর সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন বা যৌনজীবনে বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে আটক/বন্দী হওয়ার বিষয়গুলো এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাজের অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৯২
সদস্য সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
পিয়েরে সানে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব নিযুক্ত হন।
জোরপূর্বক অন্তর্ধান/নিরুদ্দেশ থেকে সকলকে সুরক্ষা প্রদান সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণা গৃহীত হয়।
১৯৯৩
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মী/আন্দোলনকারীরা ভিয়েনাতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশ্ব সম্মেলন স্থলের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং বিশ্বব্যাপী জরুরি ভিত্তিতে করণীয়গুলো কি হতে পারে তা প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরে।
১৯৯৪
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নারী অধিকার, জোরপূর্বক অন্তর্ধান/নিরুদ্দেশ হওয়া এবং রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু করে।
১৯৯৫
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নির্যাতনের পন্থা হিসেবে বাণিজ্যকে ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রচারাভিযান পরিচালনা করে।
১৯৯৬
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত স্থাপনের লক্ষ্যে প্রচারাভিযান শুরু করে।
১৯৯৭
শরনার্থীদের মানবাধিকার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী একটি বড় ধরনের প্রচারণায় পরিণত হয়।
১৯৯৮
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত স্থাপনের লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে রোম চুক্তি গৃহীত/অনুমোদিত হয়।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গেট আপ, সাইন আপ (জানুন ও যোগ দিন!) শীর্ষক এক প্রচারণা পরিচালনা করে। ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের কাছ থেকে এই কার্যক্রমের সমর্থনে অঙ্গীকারনামা সংগ্রহ করা হয়।
বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে প্যারিসে এক কনসার্টের আয়োজন করা হয়। সেখানে রেডিওহেড, এশিয়ান ডাব ফাউন্ডেশন, ব্রুস স্প্রিংসটিন, ট্রেসি চ্যাপম্যান, এলানিস মরিসিত্তে, ইউসোউ এনডুর, পিটার গ্যাব্রিয়েল-কে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং সেসঙ্গে মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে দালাইলামা ও আরো মানবাধিকার কর্মী ও আন্দোলনকারীকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
১৯৯৯
মানবাধিকার রক্ষাকারী সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণা ১৯৯৯ সালের মার্চে গৃহীত হয়।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক কাউন্সিল এক সভায় মিলিত হয়ে সংস্থার কর্মকাণ্ড/অর্থব্যয়খাত সম্প্রসারণে সম্মত হয়। এরফলে যে নতুন বিষয়গুলো এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাজের অন্তর্ভুক্ত হয় সেগুলো হলো: মানবাধিকারের উপর আর্থিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব; মানবাধিকার রক্ষাকারীদের ক্ষমতায়ন; (ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায়) অপরাধ করেও দণ্ড থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যে সংস্কৃতি তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো; শরনার্থীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম জোরদার করা; এবং তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন শক্তিশালী করা।
নারীর বিরুদ্ধে সকল ধরনের বৈষম্য নির্মূল সনদ-এ ঐচ্ছিক প্রটোকল সংযুক্ত করা হয়। ফলে, নারীর বিরুদ্ধে সকল ধরনের বৈষম্য নির্মূল সংক্রান্ত কমিটি কোনো ব্যক্তি কিংবা কোনো গ্রুপ/দলের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ ও বিবেচনা করতে পারবেন।
২০০০- বর্তমান সময়
২০০০
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের প্রচারণার তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করে।
২০০১
আইরিন খান এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব নিযুক্ত হন।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংস্থার গঠনতন্ত্র/আইন সংশোধন করে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিয়ে কাজ করার বিষয়টি সংস্থার মিশন বা লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্য দিয়ে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার উল্লেখিত মানুষের সর্বজনীন ও সকল অংশে কাজ করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে পারে।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নির্যাতন বন্ধ করা সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ‘স্টপ টর্চার’ ওয়েবসাইট সেরা ডিজিটাল মার্কেটিং পুরস্কার হিসেবে পরিচিত রেভুলেশন এওয়ার্ড লাভ করে।
২০০২
শিশু অধিকার সনদে সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের সম্পৃক্ত করা সংক্রান্ত ঐচ্ছিক চুক্তি-ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয় (শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হয়েছে ১৯৫৯ সালে)।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত স্থাপনের লক্ষ্যে রোম চুক্তির ৬০তম অনুসমর্থন স্বাক্ষরিত হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ১ জুলাই ২০০২ তারিখে চালু করা হয়। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সরকারের ছত্রছায়ায় ব্যাপক মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে রাশিয়ান ফেডারেশনে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে।
২০০৩
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অক্সফাম ও ইন্টারন্যাশনাল একশন নেটওয়ার্ক অন স্মল আর্মস (আইএএনএসএ) এর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বব্যাপী অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচারাভিযান শুরু করে।
২০০৪
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে প্রচারাভিযান শুরু করে।
২০০৫
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের কাজের সমর্থনে মেক সাম নয়েজ ক্যাম্পেইন নামে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। এই প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য হলো গান, উদযাপন ও বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাজের প্রতি মানুষের সমর্থন তৈরি করা। (জন লেননের স্ত্রী) ইওকো অনো (Yoko Ono) এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে ইমেজিন এবং জন লেননের একক (সলো) গানের পুরো রেকর্ডিং স্বত্ব উপহার দেয়।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক, সকলের জন্যে অমর্যাদার - সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার বন্ধ করো‘ শীর্ষক প্রতিবেদনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদের একটি দাবীকে চ্যালেঞ্জ করে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরতরা দাবী করে যে সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে মানবাধিকারের পূর্বসম্মত আদর্শকে মেনে চলার দরকার নেই। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই দাবীর অযৌক্তিকতা ও অসারতার বিষয়টি প্রতিবেদনে তুলে ধরে।
২০০৬
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ‘অপরাধের অংশীদার: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধ নেয়ার কাজে ইওরোপের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ব্যতিরিকে গোপনে সম্পদ জব্দ ও সন্ত্রাসী আটক করার অভিযানে ইওরোপীয় দেশগুলোর সম্পৃক্ততার বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
কন্ট্রোল আর্মস মিলিয়ন ফেসেস অর্থাৎ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে হাজারো মুখের দাবী শীর্ষক ওয়েবভিত্তিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে ১০ লাখ মানুষ আবেদনপত্র পূরণ করে, তাদের আবেদনপত্রটি জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানকে হস্তান্তর করা হয়। বছর শেষ হওয়ার আগে আরো প্রায় আড়াই লাখ মানুষ এই আবেদনে স্বাক্ষর করেন।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং সহযোগীদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচারাভিযানে ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির সপক্ষে বিপুল উদ্দীপনার সঙ্গে ভোট দেয়। এটি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও সহযোগীদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচারাভিযানেরই সাফল্য।
জাতিসংঘে জোরপূর্বক নিরুদ্দেশ থেকে সকল মানুষকে রক্ষা করা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ গৃহীত হয়।
২০০৭
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দারফুরে বেসামরিক লোকদের রক্ষায় সুদান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি বৈশ্বিক আবেদন চালু করে এবং এর সমর্থনে ৩০ জন বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞের একটি সিডি প্রকাশ করে, যার শিরোণাম ‘মেক সাম নয়েজ: দি ক্যাম্পেইন টু সেভ দারফুর’।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আদিবাসীদের অধিকার শীর্ষক ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও সহযোগী ওয়ার্ল্ড কোয়ালিশন এগেইনস্ট দি ডেথ পেনাল্টির ব্যাপক প্রচারণার ফলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটি এর ৬২ তম অধিবেশনে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড সাময়িকভাবে রহিত করার আহ্বান সম্বলিত এল২৯ শীর্ষক এক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিশ্বের সকল অংশের ১৫০টিরও বেশি দেশে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রায় ২২ লাখ সদস্য, সমর্থক ও গ্রাহক রয়েছে।
Delicious
Digg
Facebook
Technorati