শ্রীলংকা: সরকারি তদন্ত কমিশন জনগণের দাবী পূরণে ব্যর্থ হয়েছে

১৭ জুন ২০০৯
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাগুলো তদন্তে গঠিত শ্রীলংকান সরকারের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অতি সত্বর জনসাধারণের জন্যে উম্মুক্ত করার দাবী জানিয়েছে।

শ্রীলংকার মারাত্মক ধরনের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার তদন্ত করতে শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি ২০০৬ সালে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেন। গত ১৪ জুন তারিখে এই কমিশন ভেঙ্গে দেয়া হয়। বর্ধিত সময় অনুমোদিত না হওয়ার কারণে কমিশন তাদের উপর অর্পিত তদন্তের দায়িত্ব পূরণে ব্যর্থ হয়। গঠন করার পর থেকে তদন্ত কমিশনের কাছে যে ১৬টি কেস পাঠানো হয়, তার মধ্যে মাত্র সাতটি কেস তারা তদন্ত করতে পেরেছে এবং এর মধ্যে পাঁচটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে একটি মামলার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

এপ্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শ্রীলংকা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এলেন্দা ফস্টার বলেন, ‘ঘটনার শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং যারা বেঁচে আছেন তারা সবাই ন্যায়বিচার চান। তারা শ্রীলংকান সরকারের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ন্যায়বিচার পায়নি। বিচারবিভাগ কিংবা তদন্ত কমিশন কেউই তাদেরকে ন্যায়বিচার দেয়নি।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত সপ্তাহে এই বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায় মারাত্মক ধরনের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার প্রতিবিধানে গঠিত বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিশন তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
গত ১৬ জুন হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মহানামা তিলকরত্নে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, তদন্ত কমিশন তদন্ত করেছে এমন কয়েকটি মামলা পুলিশ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দেখেনি।

এপ্রসঙ্গে এলেন্দা ফস্টার বলেন, ‘তদন্ত কমিশনের ব্যর্থতা থেকে একথা সুস্পষ্ট যে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করানোর ক্ষেত্রে শ্রীলংকান সরকারের সম্পদ ও ইচ্ছার অভাব রয়েছে। এই অবস্থায় এটি প্রমাণিত হয় যে তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সর্বশেষ সামরিক অভিযানে উভয় পক্ষের তরফ থেকে যে যুদ্ধাপরাধ ও মারাত্মক ধরনের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে তার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্যে প্রকৃতপক্ষে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা দরকার।

পটভূমি
শ্রীলংকার তদন্ত কমিশন সংক্রান্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন, ‘২০ বছরের কপটতা: শ্রীলংকার তদন্ত কমিশন’ (টুয়েন্টি ইয়ারস অফ মেক-বিলিভ: শ্রীলংকানস কমিশনস অফ ইনকোয়েরি) নিচের ওয়েব লিংক থেকে ডাউনলোড করা যেতে পারে:
http://www.amnesty.org/en/library/asset/ASA37/005/2009/en/c41db308-7612-4ca7-946d-03ad209aa900/asa370052009eng.pdf