অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ
শত শত কোটি নারী, পুরুষ ও শিশু বিভিন্ন পর্যায়ের বঞ্চনার শিকার হচ্ছে যা তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারকে খর্ব করছে। ক্ষুধা, গৃহহীনতা ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ আদতে কোনো অপরিহার্য সামাজিক সমস্যা নয় কিংবা এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলও নয়। এসবই মানবাধিকার লংঘনের ফলাফল বা কলঙ্ক।
এমনকি ধনী দেশগুলোতে পর্যন্ত এমন মানুষ রয়েছে যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সুবিধা বঞ্চিত। এর জন্যে সরকারসমূহ সম্পদের অভাবকে দায়ী করলেও বাস্তবতা হলো অনেক মানুষ প্রচলিত ব্যবস্থার বা পদ্ধতিগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এদের মধ্যে আবার যারা সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের বিষয়গুলো একত্রিতভাবে প্রায়শ উপেক্ষিত হয়।
একটি দেশের সরকার কর্তৃক যখন দেশটির লক্ষ লক্ষ মানুষের মানবাধিকারের বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয় তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক আরোপিত শর্তাবলী দেশগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি হ্রাস করে।
অনেক দেশে বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবর্জিত থাকে। এই ধরনের প্রকল্পের কারণে অনেক মানুষ গৃহহারা হয়। আবার অনেক দেশে সরকারসমূহ বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন ক্ষেত্রে নিশ্চিত করণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তারা নির্বিচারে পরিবেশ দূষণ করে এবং তাদের এই ধরনের শোষন দেখার কেউ নেই।
ক্ষুধা, গৃহহীনতা ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ কোনো অপরিহার্য সামাজিক সমস্যা নয় কিংবা এটি পুরোপুরি সম্পদের অভাব থেকে সৃষ্ট কোনো সমস্যাও নয়, এটি হলো আইনসমূহ, নীতিমালা ও সম্পাদিত কাজের ফলাফল যা মানুষের অধিকারগুলোকে খর্ব করে।
অর্থনৈতিক, সমাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহের লংঘন অপর্যাপ্ত সম্পদের কারণে সৃষ্ট কোনো বিষয় নয়। এটি পুরোপুরিই ন্যায় বিচারের বিষয়। সকল ধরনের মানবাধিকার পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একটি মানবাধিকার অগ্রাহ্য করা মানে অন্য সকল মানবাধিকারসমূহ অগ্রাহ্য করা। যেমন: যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে শিক্ষা লাভের কোনো অধিকার নেই।
মানুষের চেষ্টার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারগুলো অর্জন অনেকখানি সম্ভব হলেও প্রতিটি মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যে আরো অনেক কিছুই করতে হবে।
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন:
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ লংঘনের শিকার ব্যক্তিদের জন্যে সুবিচার দাবী করুন! এনিমেশন দেখুন ও পদক্ষেপ নিন!
২০০৮ সালে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার লংঘনের শিকার মানুষের জন্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপনি নিজ দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন যাতে করে সরকার ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত প্রথম আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নিজ দেশে মানবাধিকার লংঘনের শিকার প্রতিটি ব্যক্তি ও দলের জন্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহের আন্তর্জাতিক চুক্তির ঐচ্ছিক বিষয়াবলী নিয়ে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিও কোয়ালিশনের সদস্য। বিস্তারিত জানতে দেখুন
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কি করছে?
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও এর লাখ লাখ সমর্থক গত প্রায় ৫০ বছরে ধরে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।
একুশ শতকে অর্থনেতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম বড় কারণ।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বব্যাপী স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীদের যুক্ত করার মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি করা, রক্ষা করা ও অধিকারসমূহ আদায় করার প্রচারাভিযান পরিচালনা করছে। সংস্থাটি এই ধরনের মানবাধিকার লংঘন অবসানের লক্ষ্যে এবং যারা মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছে তাদের জন্যে ন্যায়বিচার আদায়ে ও দায়ীদের শাস্তির দাবীতে গবেষণা ও প্রচারাভিযান পরিচালনা করছে।
মানবাধিকারের বিষয়গুলো একটি অন্যটির সঙ্গে যুক্ত। মানবিক মর্যাদা রক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই সকল মানুষের জন্যে সকল ধরনের মানবাধিকার নিশ্চিত করার প্রচারাভিযান পরিচালনা করতে হবে।
অর্থনেতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহের জন্যে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কী করছে সে সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন