নিরাপদ স্কুল প্রত্যেক মেয়েশিশুর অধিকার
অপহৃত শৈশব, হারানো শিক্ষা
নিরাপদ স্কুল প্রত্যেক মেয়েশিশুর অধিকার
স্কুল হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা ও বৃদ্ধির জায়গা৷ কিন্তু সারা বিশ্বজুড়ে অনেক মেয়েশিশুই তাদের নিরাপত্তাহীনতার ভয়, অবমাননাকর ও সহিংস ব্যবহারের আতঙ্ক নিয়ে, শুধু কোনোমতে আরেকটি দিন পার করার আশা নিয়ে স্কুলে যায়৷
স্কুল বিস্তীর্ণ সমাজকে প্রতিফলিত করে৷ নারীরা তাদের সারা জীবনজুড়ে যে ধরনের সহিংসতার শিকার হন - শারীরিক, যৌন ও মানসিক - ঠিক সেই ধরনের সহিংসতা অনেক মেয়েশিশুর জীবনে তাদের স্কুলের ভিতরে এবং আশেপাশে উপস্থিত থাকে৷
প্রতি দিন, মেয়েশিশুরা তাদের স্কুলে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয়, স্কুলের মাঠে ধাক্কা খায় ও আঘাত দেয়া হয়, তাদের সহপাঠীদের দ্বারা ঠাট্টা ও অপমানের শিকার হয়, তাদের সম্পর্কে জনে জনে, মোবাইল ফোনে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচারিত গুজবের দ্বারা অপদস্থ হয়৷ কেউ কেউ অন্য শিক্ষার্থীদের দ্বারা যৌন হামলার হুমকির শিকার হয়, শিক্ষকদের কাছ থেকে যৌন সুযোগের বিনিময়ে বেশি নম্বরের প্রস্তাব পায়, এমনকি শিক্ষকদের কক্ষে ধর্ষিত হয়৷ কেউ কেউ শৃঙ্খলার নামে স্কুলে বেতের বাড়ি বা পিটুনির শিকার হয়৷
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশগুলোতে, কোনো কোনো মেয়েশিশুকে সশস্ত্র গ্রুপগুলো ধরে নিয়ে যায়, কেউ কেউ স্কুলে যাওয়ার পথে বা স্কুল আক্রান্ত হলে আহত বা নিহত হয়৷ শরণার্থী বা বাস্তুচ্যুত মানুষদের ক্যাম্পে বসবাসকারী মেয়েশিশুদের জন্য যৌন নির্যাতন এবং শোষণ হচ্ছে সুনির্দিষ্ট সমস্যা৷
প্রত্যেকটি মেয়েশিশুর একটি
নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা
লাভের অধিকার রয়েছে
সারা বিশ্বজুড়ে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এবং আশেপাশে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ঘটে থাকে৷ এটি শুধুমাত্র শিক্ষকবৃন্দের দ্বারাই নয়, বরং সেইসাথে প্রশাসকবৃন্দ, স্কুলের অন্যান্য কর্মী, সহপাঠী শিক্ষার্থী এবং বাহিরের লোকদের দ্বারাও সংঘটিত হয়৷ এর ফলে অসংখ্য মেয়েশিশু স্কুলের বাইরে থাকে, স্কুল ছেড়ে চলে যায়, অথবা স্কুলে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করে না৷
কর্মকর্তারা ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়
প্রায়ই, স্কুলে সংঘটিত সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ নির্বিকার থাকার সিদ্ধান্ত নেয়৷ অনেক ক্ষেত্রেই, তারা জাতীয় আইন ও স্কুলের নীতিকে লঙ্ঘন করে এটি করে থাকে৷ যখন একটি মেয়েশিশু সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কে রিপোর্ট করে, বিশেষ করে যৌন সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েশিশুটি যে ব্যক্তিকে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করে তার পরিবর্তে সেই মেয়েশিশুটির আচরণকেই বিচার করা হয়৷
কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি নেই৷ রাষ্ট্র, এবং সম্প্রসারিতভাবে এর সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ - শিক্ষকবৃন্দ ও স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ - অবশ্যই নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে অবিলম্বে তদন্ত করবে, অপরাধীদের জন্য যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করবে, সহিংসতার শিকার হওয়া মেয়েশিশুদেরকে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য সহায়তা করবে, এবং এই ধরনের নির্যাতনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে৷
শিক্ষা একটি মানবাধিকার, এবং সহিংসতামুক্ত শিক্ষা লাভ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব৷ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্র অবশ্যই, ন্যূনতমভাবে, প্রাথমিক শিক্ষার সর্বজনীন অধিকার নিশ্চিত করবে৷ যদি মেয়েশিশুরা স্কুলে নিরাপদ বোধ না করে তাহলে এই বাধ্যবাধকতা পূরণ হবে না৷
সম্পদের অভাব দেখিয়ে এই সকল বাধ্যবাধকতা পূরণের ব্যর্থতা ঢাকা যাবে না৷ যখন রাষ্ট্র স্কুলে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়, তারা তা করে থাকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ব্যর্থতার মাধ্যমে৷
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াতে দুইটি মেয়েশিশু প্রাথমিক স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে৷ সহিংসতার ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্কুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে যেমন ক্যামেরা, পুলিশ কর্মকর্তা ও মেটাল ডিটেকটর৷
© এপি মার্ক স্টেলি/এপি/পিএ ছবি
বৈষম্য ও সহিংসতা
কিছু কিছু মেয়েশিশু তাদের বৈশিষ্ট্যের কারণে স্কুলে অধিক সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে থাকে৷ উদাহরণস্বরূপ, সমকামী মেয়েশিশুরা যৌনবৈষম্য ও যৌন ঘৃণা উভয়টির শিকার হয়, এবং তাদের বিষমগামী সহপাঠীদের তুলনায় অধিক পরিমাণে যৌন হয়রানি ও যৌন সহিংসতার হুমকির সম্মুখীন হয়৷ প্রতিবন্ধী মেয়েশিশুরা যৌনবৈষম্য ও প্রতিবন্ধী বৈষম্য উভয়টির সম্মুখীন হয় যা তাদেরকে ঠাট্টা, শারীরিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে৷ তারা অপ্রতিবন্ধী মেয়েশিশুদের তুলনায় বেশি পরিমাণে সহিংসতার সম্মুখীন হয়, এবং তারা যে ধরনের সহিংসতার সম্মুখীন হয় সেগুলো আরো বেশি তীব্র এবং দুঃসহ হতে পারে৷ মেয়েশিশুদের পরিচয়ের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য, যেমন তাদের অভিবাসী, অনাথ বা শরণার্থী অবস্থা, তাদের এইচআইভি’র অবস্থা, জাত, বিশেষ কোন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং জাতিগত পরিচয়ও তাদের নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে এবং তারা যে সহিংসতার সম্মুখীন হয় তার প্রকৃতি নির্ধারণ করে৷
স্কুলে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা হচ্ছে বৈষম্যমূলক মনোভাব ও কম গুরুতর আচরণকে শোধরানোর চেষ্টা না করার পরিণতি৷ এ বিষয়ে প্রারম্ভিক হস্তক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ শিক্ষকরা অবশ্যই মৌখিক অপমানের দ্বারা সৃষ্ট বৈরী পরিবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কারন এটি এমন একটি পরিবেশ যা প্রায়ই শারীরিক আক্রমণে পর্যবসিত হয়৷
সহিংসতা মেয়েশিশুদের
স্কুলে যাওয়া বন্ধ
করে দেয়
সহিংসতার শিকার ও বেঁচে যাওয়া মেয়েশিশুরা, বিশেষকরে যারা যৌন সহিংসতার শিকার, তাদের পরিবার, বন্ধু ও সমাজ দ্বারা বিচ্ছিন্ন বা একঘরে হতে পারে৷ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য, যারা দরিদ্র, সমকামী বা প্রতিবন্ধী, এবং যাদের বিশেষ কিছু সাহায্য দরকার সেসব মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে অভিযোগ করা বা সহায়তা পরিষেবা পাওয়া অন্য মেয়েশিশুদের তুলনায় আরো বেশি কঠিন হতে পারে৷
দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিমূলক ফলাফল
মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুধুমাত্র ভয় বা যন্ত্রণারই কারণ হয় না, বরং সেইসাথে আত্ম-বিশ্বাস কমানো, স্কুলে খারাপ ফলাফল, যৌন সংক্রমণ, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ ও বিষন্নতার কারণ ঘটায়৷ এটি সহিংসতার শিকার ও বেঁচে যাওয়া, উভয়দেরই মানসিক ও শারীরিক দুই প্রকার স্বাস্থ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে৷
যখন সহিংসতা একটি মেয়েশিশুর শিক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ করে দেয়, তা শিশুটির পরবর্তী জীবনে কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বাধীনতার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে৷ শিক্ষার অভাব মেয়েশিশুদের দ্রুত বিয়ের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে ঝুঁকিগ্রস্ত করে তোলে; তারা নারী পাচারের জন্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়; এবং প্রতিরোধযোগ্য কারণেও শিশুজন্মের সময় তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে৷
শিরোনাম
বাংলাদেশের ঢাকায় একটি তরুণী তার স্কুলে একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় জয়লাভের সময় ফিতা অতিক্রম করছে৷
© ২০০৪ রুবন/দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ, ফটোশেয়ার-এর সৌজন্যে
ব্যাপক সংখ্যক মেয়েশিশুর শিক্ষা ব্যাহত হওয়া শুধুমাত্র সেই সকল শিক্ষার্থীদের জন্যই নয় বরং সমাজের জন্যও আরো ব্যাপক ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনে৷
সহিংসতা ও দারিদ্রের দুষ্টচক্র ভাঙ্গার জন্য চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা৷ কিন্তু স্কুলের ভিতরে এবং আশেপাশে নিরাপত্তার অভাব মেয়েশিশুদের ক্ষমতায়নের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য হচ্ছে যাতে তারা সহিংস পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং দারিদ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ করে নিতে পারে৷ স্কুলে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা লিঙ্গভিত্তিক বিভক্তিকে জোরদার করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করে৷ এটি শিক্ষা দেয় যে মেয়েশিশু ও নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অনিবার্য, এবং মেয়েশিশুদের জন্য মানসম্মত, নিরাপদ শিক্ষা কোনো অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নয়৷
সরকার ও স্কুলের
আইনগত
বাধ্যবাধকতা রয়েছে
মেয়েশিশুদের জন্য
একটি নিরাপদ
শিক্ষার পরিবেশ
প্রদান করার জন্য
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে৷ এছাড়াও বিনামূল্যে মাধ্যমিক শিক্ষার পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আইন রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করে৷ তারপরও, সারা বিশ্বজুড়ে স্কুলগুলো সাধারণভাবে ফি নিয়ে থাকে এবং পরিবারদেরকে পরিবহন, ইউনিফর্ম ও স্কুলের উপকরণের জন্য অর্থপ্রদানে বাধ্য করে৷ স্কুলের ফি এবং সংশ্লিষ্ট খরচ শিক্ষার প্রতি একটি অনতিক্রম্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকার অভাব পড়লে ছেলেদের তুলনায় মেয়েশিশুদের স্কুল থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে৷
এইচআইভি/এইডস মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সমস্যাকে জটিল করে তুলছে৷ যৌন লাঞ্ছনা এইচআইভি সংক্রমণের বাড়তি ঝুঁকি বহন করে, এইচআইভি আক্রান্ত মেয়েশিশুরা বৈষম্যের মুখোমুখি হয়, এবং পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের যত্ন নেয়ার জন্য স্কুল থেকে প্রথমে মেয়েশিশুদেরকেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এইডস-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতার ভারী মাশুলের কারণে অনেক দেশেই প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব রয়েছে৷ এইচআইভি সংক্রমণ বন্ধ করার অভিযানে শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান৷ ‘বিশ্বব্যাপী শিক্ষার প্রচারাভিযান’ (‘গ্লোবাল ক্যাম্পেইন ফর এডুকেশন’) একটি আনুমানিক হিসাব করেছে যে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতি বছর এইচআইভি সংক্রমণের ৭০০,০০০ নতুন ঘটনা প্রতিহত করতে পারে৷
শিরোনাম
‘অল্টারনেটিভ রাইটস অব প্যাসেজ’ নামক প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান শেষে কেনিয়ার সাদার্ণ রিফ্ট ভ্যালিতে মেয়েশিশুদের জন্য একটি নিরাপদ আবাসে নারীদের যৌনাঙ্গ কর্তন এবং জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার হাত থেকে পালিয়ে আসা তিনটি মেয়েশিশু বিশ্রাম নিচ্ছে৷ মেয়েশিশুদেরকে শিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত রাখা, কম ভর্তি হার, উচ্চহারে স্কুল ছেড়ে চলে যাওয়া, বাল্যবিবাহ ও গর্ভধারণ, এবং যৌন পরিবাহিত সংক্রমণের একটি মূল কারণ হচ্ছে সহিংসতা৷ ডিসেম্বর ২০০৫৷ © পাওলা অ্যালেন
কোনো অজুহাত নয়, কোনো ব্যতিক্রম নয় এবং কোনো দেরি নয়
শিক্ষা গ্রহণের জন্য সারা বিশ্বজুড়ে মেয়েশিশুদের দৃঢ়সংকল্পকে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্বীকৃতি দেয়৷ রাষ্ট্রগুলো তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণ করা এবং মেয়েশিশুদের জন্য স্কুলগুলোকে নিরাপদ করার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা দাবি জানাই৷ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সরকারি কর্মকর্তা ও স্কুলগুলোকে, পিতামাতা, সমাযের নেতৃবৃন্দ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তায় নিচে উল্লিখিত ছয়টি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছেঃ
১ম পদক্ষেপঃ শারীরিক শাস্তি, মৌখিক নির্যাতন, হয়রানি, শারীরিক সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন, এবং যৌন সহিংসতা ও শোষণ সহ মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা নিষিদ্ধ করা৷ যথাযথ আইন, নীতি ও প্রক্রিয়াসমূহ প্রবর্তন ও প্রয়োগ৷
২য় পদক্ষেপঃ মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে স্কুল-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা মোকাবেলার জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে স্কুলগুলোকে মেয়েশিশুদের জন্য নিরাপদ করা৷ এর মধ্যে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকবে স্কুলগুলোর জন্য দিকনির্দেশনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মনোনয়ন এবং পর্যাপ্ত পরিমান সরকারি তহবিল৷ স্কুলগুলোতে ছেলে-মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট ও বাথরুম, নিরাপদ আবাস, এবং তত্ত্বাবধানকৃত খেলার মাঠ ও ক্রীড়ার মাঠ৷
৩য় পদক্ষেপঃ গোপনীয় ও স্বাধীন প্রতিবেদন পদ্ধতি, কার্যকর তদন্ত, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিচার, এবং সহিংসতার শিকার ও বেঁচে যাওয়াদের জন্য পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা মোকাবেলা করা৷ মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সকল ঘটনা যাতে গোচরে আনা ও নথিভুক্ত করা হয়, এবং ধর্ষণ, যৌন আক্রমণ বা শিশুদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধে অপরাধীদেরকে যাতে স্কুলে নিয়োগ করা না হয় তা নিশ্চিত করা৷
৪র্থ পদক্ষেপঃ সহিংসতার শিকার মেয়েশিশুদের জন্য সহায়তা পরিষেবা প্রদান করা, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পরামর্শ পরিষেবা; ডাক্তারি পরীক্ষা; এইচআইভি/এইডস সম্পর্কিত তথ্য, ঔষধ এবং সহায়তা পরিষেবা; যৌন ও সন্তান ধারণের অধিকার সম্পর্কে সমন্বিত তথ্য; এবং এইচআইভি আক্রান্ত বা অন্তঃসত্ত্বা, বিবাহিতা বা মা হওয়া মেয়েশিশুদেরকে স্কুল পদ্ধতিতে পুনরায় প্রবেশ করানোর জন্য সহায়তা প্রদান৷
৫ম পদক্ষেপঃ প্রাথমিক স্কুলের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সকল ফি অপসারণ করা, সবার জন্য মাধ্যমিক স্কুলকে সহজলভ্য করা, এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মেয়েশিশুদের জন্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কর্মসূচি তৈরি করার মাধ্যমে মেয়েশিশুদের স্কুলে প্রবেশের পথের সব বাধা দূর করা৷
৬ষ্ঠ পদক্ষেপঃ স্কুলের সব কর্মী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আচরণবিধি তৈরি এবং প্রয়োগের মাধ্যমে মেয়েশিশুদেরকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করা৷ স্কুলে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও সহিংসতা মোকাবেলার জন্য স্কুলকর্মীদেরকে প্রারম্ভিক অনুশাসন কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান৷
শিক্ষা নিজেই একটি অধিকার
এবং সেইসাথে অন্য
অধিকারগুলো উপভোগ করারও
একটি পথ
এই প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তৈরি অন্যান্য তথ্যপত্রসমূহঃ
‘কেন আমার স্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য নেই?’
এআই সূচকঃ এসিটি ৭৭/০১১/২০০৭
বৈষম্য, হয়রানি ও সহিংসতার প্রতি ‘না’
এআই সূচকঃ এসিটি ৭৭/০১২/২০০৭
এইচআইভি মোকাবেলার জন্য চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা
এআই সূচকঃ এসিটি ৭৭/০১৩/২০০৭
আরো তথ্যের জন্য www.amnesty.org ওয়েবসাইট দেখুন
নভেম্বর ২০০৭
এআই সূচকঃ এসিটি ৭৭/০১০/২০০৭
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আন্তর্জাতিক সচিবালয়, পিটার বেনেনসন হাউজ
১ ইস্টন স্ট্রিট, লন্ডন ডব্লিউসি১এক্স০ডিডব্লিউ, যুক্তরাজ্য।
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করুন
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ২.২ মিলিয়ন মানুষের একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন, যা মানবাধিকার সম্পর্কে প্রচারাভিযান চালায়৷ আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেক ব্যক্তি যাতে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণায় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সনদে সন্নিবেশিত তাদের সকল অধিকার ভোগ করতে পারেন৷
আমরা নাগরিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মানবাধিকারের অপব্যবহার বন্ধের জন্য গবেষণা, প্রচারাভিযান, ও পক্ষাবলম্বন করি এবং সমবেত হই৷ মত প্রকাশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতা থেকে শুরু করে শারীরিক ও মানসিক অখন্ডতা, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা থেকে শুরু করে আশ্রয়ের অধিকার পর্যন্ত - এই অধিকারগুলো অবিচ্ছেদ্য৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাথে কোনো সরকার, রাজনৈতিক মতাদর্শ, আর্থিক স্বার্থ বা ধর্মের কোনো সম্পৃক্ততা নেই৷ আমাদের কাজের জন্য অধিকাংশ অর্থ সংস্থান হয় আমাদের সদস্যদের চাঁদা ও দান থেকে৷
এআই সূচকঃ এসিটি ৭৭/০১০/২০০৭ নভেম্বর ২০০৭