অদম্য প্রচারাভিযান

বিশেষণ ১) দমন বা নিয়ন্তণ করা অসম্ভব

 

চ্যাট রুমগুলির ‍উপর নজরদারি৷ ব্লগগুলি নষ্ঠ করা বা মুছে ফেলা৷ ওয়েবসাইটগুলি ‍আটকে দেওয়া৷ সার্চ ‍এঞ্জিনগুলির ‍উপর বিধিনিষেধ৷ শুধুমাত্র তথ্য ওয়েবসাইটে পাঠানো বা ভাগাভাগি করার জন্যে মানুষজনকে কারাগারে বন্দী রাখা৷ 

 

ইন্ট‍ারনেট মানবাধিকারের জন্যে সংগ্রামে ‍এক নতুন সীমান্ত৷ সরকারগুলি বিশ্বের কতগুলি সবচেয়ে বড় আইটি কোম্পানীর সাহায্যে বাকস্বাধীনতার কন্ঠরোধ করে দিচ্ছে৷ 

 

এ্যামনেস্টি ‍ইন্টারন্যাশনাল, যুক্তরাজ্যের অবজার্ভার পত্রিকার সহায়তায় ‍একটা প্রচারাভিযান শুরু করেছে ‍এটা দেখানোর জন্যে যে অনলাইন কিংবা অফলাইন যেকোনভাবেই মানুষের কন্ঠ ‍আর মানুষের অধিকার দমন করা অসম্ভব৷ 

এই প্রচারভিযান সম্বন্ধে ‍আরো জানুন

 

এ্যামনেস্টি ‍ইন্টারন্যাশনালের ‍একটি প্রতিনিধি দল এই অঙ্গীকার নিয়ে ৫০,০০০ স্বাক্ষরসহ ‍একটি দরখাস্ত নভেম্বর ২০০৬ সালে এথেন্সে ‍ইন্টারনেট পরিচালনা ফোরাম আইজিএফ ‍এ পেশ করে যেখানে সারা বিশ্বের সরকার ও কোম্পানীগুলি উপস্থিত ছিলো৷

 

আইজিএফ ‍এর ‍এই কাজ অব্যাহত রয়েছে ‍এবং সেইসাথে ‍এ্যামনেস্টির অনলাইনে বাকস্বাধীনতার জন্যে লড়াই চালু ‍আছে৷

 

“… অঙ সান সূ চী কে ১৭ ‍বছর আগে গ্রেফতার করার পর থেকে কূটনৈতিক পদক্ষেপ কোন ফল‍ই ‍আনতে পারেনি …”

 

এই কথাগুলি ‍এই ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া www.irrawaddy.org এই ওয়েবসাইট দ্য ‍ইরাবতী পত্রিকার ‍এবং মিয়ানমার ৷ বর্মায় সেন্সর করা হয়েছে৷ `দি ইর্রাওয়াদ্দে' হচ্ছে নির্বাসনে বসবাসকারী বর্মী নাগরিকদের ‍একটা সংবাদ ওয়েবসাইট৷

 

আপনাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সেন্সর করা ‍উপাদানের অদম্য অংশবিশেষ প্রকাশ করে সেন্সরশিপকে খর্ব করুন৷ 

 

আপনাদের ওয়েবসাইটে অদম্য বিষয়বস্তু যোগ করুন
যদি ‍আপনাদের কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকে তাহলে ‍এই কথাগুলি ছড়িয়ে দিতে আমাদের সাহায্য করুন ‍এবং ‍আমাদের ডেটাবেইজ থেকে সেন্সর করা ‍উপাদান ‍আপনাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি প্রকাশ করে অযাচিত সেন্সরশিপকে খর্ব করুন৷  এই প্রচারে যতো বেশী মানুষ অংশ নেবে ততোই ‍আমরা দেখাতে পারবো যে বাক‍্স্বাধীনতকে কখনোই দমন করা যায়না৷

 

এই প্রচারাভিযান সম্পর্কে

ওয়েবসাইটগুলি মনের ভাবধারা ও বাকস্বাধীনতার ভাগাভাগির ‍জন্যে দারুণ কার্যকর মাধ্যম৷  তবে ‍ইন্টারনেটকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বাড়ছে৷  চীন, ভিয়েতনাম, তিউনিশিয়া, ‍ইরান, সৌদি ‍আরব ও সিরিয়া এসব দেশে ইন্টারনেটের ‍উপরে দমনমূলক পদক্ষেপের খবর শোনা যাচ্ছে৷ লোকজনকে শুধু তাদের সরকারের সমালোচনা করা, ‍সংবাদপত্রের আরো বেশী স্বাধীনতা ও গনতন্ত্রের জন্যে ‍আহ্বান জানানো কিংবা মানবাধিকারের অপব্যবহারগুলি অনলাইনে প্রকাশ করার জন্যে নির্যাতন ও কারাবন্দী করা হচ্ছে৷ 
 

তবে ‍ইন্টারনেট দমনে কেবল সরকারগুলিই জড়িত তা নয়৷ তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলি এমন পদ্ধতি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে যা নজরদারি ও সেন্সরশিপ করতে সহায়তা করছে৷ ‍ইয়াহু! চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে ‍ইমেইল ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ‍তথ্য যোগান দিয়েছে যারফলে অন্যায়ভাবে ‍আটক রাখার বিভিন্ন ঘটনায় সাহায্য হয়েছে৷ মাইক্রোসফ্‌ট ও গুগ্‌ল, উভয়েই তাদের ওয়েব সাইটের চীনা ব্যবহারকারীদের সক্রিয়ভাবে সেন্সর করার জন্যে সরকারী দাবি মেনে নিয়েছে৷  

 

বাক‍্স্বাধীনতা ‍একটা মৌলিক মানবাধিকার৷ সমস্ত অধিকারের মধ্যে ‍এটা ‍সবচেয়ে অন্যতম মূল্যবান অধিকার৷ ‍এটা রক্ষা করার জন্যে ‍আমাদের লড়াই করা উচিত৷