আমেরিকা কর্তৃক বেআইনি বন্দী : ঘটনাবলী ও সংখ্যাগত তথ্য
• ১১ জানুয়ারি ২০০৮ গুয়ানতানামো-তে প্রথম বন্দী স্থানান্তরের (পাঠানোর) ৬ বছর পূর্তি হয়েছে৷
• গুয়ানতানামো-তে প্রায় ৮০০ বন্দী আটক রয়েছে৷
• গুয়ানতানামো-তে ২০০৭ সালের নভেম্বরে প্রায় ৩০ টি দেশের প্রায় ৩০০ জন বন্দী বিনা অভিযোগ কিংবা বিনা বিচারে আটক ছিলো৷ এদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ছিলো ইয়েমেনী৷
• প্রায় এক-চতুর্থাংশ বন্দী আমেরিকান কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মুক্তি পাওয়া কিংবা স্থানান্তরের জন্যে উপযুক্ত হলেও এখনো তারা গুয়ানতানামো-তেই আটক আছে।
• গুয়ানতানামোর বন্দীদের মধ্যে মাত্র একজন সামরিক কমিশন কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন৷ তার নাম ডেভিড হিকস৷ তিনি ২০০৭ সালের মার্চ মাসে দোষী সাব্যস্ত হন। বিচারপূর্ব এক সমঝোতার অধীনে তিনি ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমে উপকরণগত সহায়তা’ দেয়ার অপরাধ স্বীকার করেন এবং সমঝোতা অনুযায়ী আমেরিকান হাজত থেকে তিনি পাঁচ বছর পরে মুক্তি পাবেন এবং নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে ফিরে গিয়ে আরো ৯ মাস কারাগারে থাকবেন।
• ২০০৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত, ৩ জন বন্দী সামরিক কমিশনের বিচারের মুখোমুখি হন।
• ২০০২ সাল থেকে ২০০৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪৭০ জন বন্দীকে গুয়ানতানামো থেকে মুক্তি দিয়ে অন্য দেশে পাঠানো হয়। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, ইরান, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, রাশিয়া, সৌদি আরব, স্পেন, সুদান, সুইডেন, তাজাকিস্তান, তুর্কি, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য এবং ইয়েমেন।
• একথা বিশ্বাস করা হয় যে, প্রায় ৮০ শতাংশ বন্দীকে ক্যাম্প ৫, ক্যাম্প ৬ কিংবা ইকো ক্যাম্পে নিসঙ্গ অবস্থায় আটকে রাখা হয়।
• ক্যাম্প ৬ তৈরি করা হয়েছিল ১৭৮ জন বন্দী থাকার উপযোগী করে। এই ক্যাম্পের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এখানকার বন্দীরা দিনে কমপক্ষে ২২ ঘণ্টা একটি স্টিলের তৈরি ক্ষুদ্র কুটিরে নিসঙ্গ অবস্থায় একাকী থাকে, এমনকি এখানে বাইরের আলো-বাতাস ঢোকার জন্যে জানালা পর্যন্ত নেই।
• অন্তত ৪ জন বন্দী আছেন যাদের বয়স হাজতে নেয়ার সময় ১৮ বছরের কম ছিলো।
• অন্ততপক্ষে ৪ জন আত্মহ্ত্যা করেছেন। আরো কয়েক ডজন আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন।
• গুয়ানতানামো-তে স্থানান্তর করার আগে বন্দীদের ১০টির বেশি দেশের হাজতে কোনো ধরনের বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছিলো।
• এখানে আটক ৫০০ বন্দীর উপর পরিচালিত এক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় মাত্র ৫ শতাংশ আমেরিকান সামরিক বাহিনী আটক করেছে; ৮৬ শতাংশ আটক হয়েছে পাকিস্তানী কিংবা আফগানিস্তানভিত্তিক নর্দান এলায়েন্স ফোর্স দ্বারা এবং তাদেরকে আমেরিকান হাজতে পাঠানো হয়েছে, মাত্র কয়েক হাজার আমেরিকান ডলার পুরস্কারের বিনিময়ে।
• ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪ জন বন্দীকে গুয়ানতানামো-তে স্থানান্তর করা হয়, এই বন্দীদের এখানে স্থানান্তরের আগে সাড়ে ৪ বছর পর্যন্ত সিআইএ-এর একটি গোপন হাজতে বন্দী রাখা হয়েছিলো; এরপর আরো ৪ জন ব্যক্তিকে গুয়ানতানামোতে স্থানান্তর করা হয়।
• সিআইএ-এর গোপন হাজতে অজানা সংখ্যক ব্যক্তি বন্দী আছেন। কমপক্ষে তিন ডজন ব্যক্তিকে গোপনে বিনা কারণে আটক রাখা হয়েছে, তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে ও তাদেরকে কোথায় রাখা হয়েছে তা অজানা।
• শত শত ব্যক্তিকে বিনা দোষে, বিচার কিংবা তাদের আটকের আইনগত কারণ পর্যালোচনা ছাড়া আফগানিস্তানের বাগরামে অবস্থিত আমেরিকান বিমান বন্দরে আটক রাখা হয়েছে।
হাইলাইটস:
মাত্র একজন গুয়ানতানামোর বন্দী সামরিক কমিশন দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
আটক বন্দীদের মধ্যে অন্ততপক্ষে ৪ জন ব্যক্তি আত্মহ্ত্যা করেছেন।
ডিসেম্বর ২০০৭
এআই ইনডেক্স: এএমআর ৫১/১৬৫/২০০৭
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আন্তর্জাতিক সচিবালয়, পিটার বেনেনসন হাউজ
১ ইসটন স্ট্রিট, লন্ডন ডব্লিউসি১এক্স০ডিডব্লিউ
যুক্তরাজ্য।
ওয়েব: www.amnesty.org/counter-terror-with-justice