অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচারাভিযান
বিশ্বজুড়ে অনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবসার ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত, জখম ও ধর্ষিত হচ্ছে এবং তাদের বাড়ীঘর থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে৷
অস্ত্র নিয়ন্ত্রন প্রচারাভিযান এই দায়িত্বহীনভাবে অস্ত্র হস্তান্তরের ফলে সৃষ্ট দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে একটা আন্তর্জাতিক এবং আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতাপূর্ণ অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির জন্যে আহ্বান জানাচ্ছে৷
২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার পর থেকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচারাভিযান সারা পৃথিবীতে দশলাখের বেশী মানুষের সমর্থন যোগাড় করেছে৷ ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসঙ্ঘে ১৫৩টি সরকার একটা আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করার পক্ষে ভোট দিয়েছে৷
বিশ্বজুড়ে কর্মসূচী দিবস, ২৩শে এপ্রিল ২০০৭
সারা পৃথিবীর আন্দোলনকারীরা একটা আন্তর্জাতিক অস্ত্র চুক্তি সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের বিশেষ পরামর্শে সাড়া দেওয়ার জন্যে তাদের সরকারগুলির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আর নিউ ইয়র্কে মানবাধিকার বিষয়ক সাবেক জাতিসঙ্ঘ হাই কমিশনার মেরি রবিনসন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের সঙ্গে যোগ দিয়ে একটা কার্যকর আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন৷
আরো
সীমানাবিহীন অস্ত্রশস্ত্র: বিশ্বজোড়া বাণিজ্যের বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন কেন
অস্ত্র শিল্পের বিশ্বায়ন সমস্ত বর্তমান অস্ত্র রপ্তানী নিয়মকানুনের মধ্যে বড় ধরনের ফাঁক সৃষ্টি করেছে যার ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলির কাছে অবাধে অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি হচ্ছে৷
জনগণের সঙ্গে পরামর্শ সম্পর্কে
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব একটা অস্ত্র ব্যবসা চুক্তি বা এটিটি (ATT)র সম্ভাব্যতা, পরিধি ও মাপকাঠি সম্পর্কে মতামত দেওয়ার জন্যে সরকারগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ, যারা প্রতিদিন সশস্ত্র সহিংসতার ভুক্তভোগী হচ্ছেন, তাঁদের মতামতও যাতে সরকারগুলির বক্তব্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যাতে সরকারী শলাপরামর্শের প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে একটা দৃঢ় চুক্তি করার পক্ষে, তাদের কথা শোনা হয়৷
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সারা বিশ্বের ৪০টির বেশী দেশে জনগণের সঙ্গে শলাপরামর্শের আয়োজন করেছে যাতে সরকারগুলি কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্যে পদক্ষেপ নেয় এবং সেজন্যে দাবী তোলার উদ্দেশ্যে জনসাধারণ ও বিভিন্ন গোষ্ঠি গুলিকে একটা আলোচনা মঞ্চ দিতে চায়৷ এই শলাপরামর্শ গোষ্ঠি এবং জাতীয় ও বিশ্ব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়৷ চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সামিল হবে যখন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে সরকারী কর্মকর্তাদের জাতীয় পর্যায়ে মতামত দাখিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলি তাদের প্রস্তাবগুলি ঐ সচিবের কাছে পেশ করবে৷
আপনিও জনগণের সঙ্গে শলাপরামর্শে সামিল হতে পারেন – ব্যক্তিগতভাবে, কোন ছোট গোষ্ঠির অংশ হিসাবে কিংবা আপনার দেশে একটা সংগঠিত জনগণের সঙ্গে শলাপরামর্শের অংশ হিসাবে যোগ দিয়ে৷ [আপনারা কীভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারেন তার ভাবধারা পাওয়ার জন্যে আমাদের এই ওয়েবসাইট দেখুনঃ পদক্ষেপ নিন ]
একটা অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে জনগণের সঙ্গে শলাপরামর্শ
জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বর্তমানে একটা অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে সব সরকারগুলির সঙ্গে শলাপরামর্শ করছেন৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের ভিত্তিতে একটা দৃঢ় ও ব্যাপক চুক্তি তৈরীর মধ্য দিয়ে তারা এই কাজ যে সঠিকভাবে করছে সেটা আমাদের নিশ্চিত করার এখনই সুযোগ৷
আরো জানতে ক্লিক করুন এই ওয়েব সাইটগুলিতেঃ
http://www.controlarms.org/peoples-consultation/about.htm
http://www.controlarms.org/peoples-consultation/action.htm
এবং http://www.controlarms.org/peoples-consultation/submissions.htm
Control Arms 100 day Bangladesh © IANSA
মেরি রবিনসন, মানবাধিকার বিষয়ক সাবেক জাতিসঙ্ঘ হাই কমিশনার, নিউ ইয়র্কে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের এক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন একটা আইনগত বাধ্যবাধকতাপূর্ণ অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির জন্যে আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্যে যার আওতায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বিরোধে উস্কানি সৃষ্টি কিংবা উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন অস্ত্র হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হবে৷
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি প্রস্তাব সংক্ষেপে এটিটি-র সহ-রচয়িতারা (গতবছর জাতিসঙ্ঘের ভোটে এই প্রস্তাব পাশ হয়) বিশ্বব্যাপী একটি কার্যদিবস পালনের উদ্দেশ্যে এবং এটিটি সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘ মহাসচীবের বিশেষ শলাপরামর্শে সকল রাষ্ট্রকে মতামত দাখিলে উৎসাহিত করার জন্যে ২৩শে এপ্রিল নিউ ইয়র্কে দুটো অনুষ্ঠান করে৷
এই দিবস পালন শুরু হয় একটা সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে যেখানে মানবাধিকার বিষয়ক সাবেক জাতিসঙ্ঘ হাই কমিশনার এবং অক্সফ্যাম ইন্টারন্যাশনালের (OXFAM INTERNATIONAL) অনারারি প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, কস্টারিকা, কেনিয়া, ফিনল্যান্ড আর যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতেরা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের জোসেফ ডিউক বক্তৃতা দেন এবং হলিউড অভিনেত্রী ডেম হেলেন মিরেন রাষ্ট্রগুলির প্রতি এক বিশেষ ভিডিও বার্তা দেন৷ সবাই অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব এবং এর ভিত্তি যাতে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং টেঁকসই উন্নয়নের উপর হয় তার প্রয়োজনের উপর জোর দেন৷ এই অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের প্রচুর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং জাপান থেকে সেনেগাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে বিভিন্ন প্রবন্ধ ছাপা হয়৷
মধ্যাহ্নভোজের সময়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্দোলন এবং সহ-রচয়িতারা রাষ্ট্রসমূহের শলাপরামর্শের এক সভার আয়োজন করে৷ সাতজন সহ-রচয়িতা সবাই ৭০টির বেশী দেশের শ্রোতাদের সামনে এটিটি (ATT) সম্পর্কে তাদের মতামত পেশ করে৷ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের প্রতিনিধিরা সুশীল সমাজ সম্বন্ধে তাদের মতামত দেন এবং সারা বিশ্বে যে জনগণের শলাপরামর্শ অনুষ্ঠিত হয় সে সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করেন৷
অস্ত্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ