জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলা করার সময় মানবাধিকারকে তুলে ধরা

২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৯

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো মোকাবেলা করার জন্য রাষ্ট্রগুলো অবিলম্বে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এটি মানবাধিকার বাস্তবায়নের একটি প্রধান ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে, কারণ যারা ইতিমধ্যেই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে তারা দ্রুত ও বেশি তীব্রভাবে এর প্রভাব উপলব্ধি করছে৷

ডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনার আসন্ন বৈঠকের দিকে বিশ্ব মনোযোগ নিপতিত হওয়ার সময়, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন মানবাধিকারকে আলোচনার টেবিলে আনা বেশি অপরিহার্য৷

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত যে পরিবর্তনগুলো লক্ষ করা গেছে এবং যেগুলোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বরফাবৃত এলাকাগুলোর সংকোচন; সাগরে বরফের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং মেরু অঞ্চলের বরফের টুপি গলে যাওয়া; সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি; ঘন ঘন অত্যন্ত গরম আবহাওয়া ও তাপ প্রবাহের আগমন; খরায় আক্রান্ত এলাকার সংখ্যা বৃদ্ধি; এবং নিরক্ষীয় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি৷

এই ধরনের পরিবেশগত প্রভাব ও মানবাধিকার বাস্তবায়নের সক্ষমতার মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত সংযোগ রয়েছে৷ জলবায়ুর পরিবর্তন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা জীবনের অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, পানির অধিকার, খাদ্যের অধিকার, এবং বাসস্থানের অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে৷ বিশ্বের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে তীব্র পানির অভাব ও খাদ্য উৎপাদন হ্রাস, কেবল দুইটি উদাহরণ হিসেবে নেওয়া হলে, লক্ষ লক্ষ লোকের অধিকারকে খর্ব করবে৷

জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির প্রতি রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে মানবাধিকার সুরক্ষিত রয়েছে৷ অভিযোজন (জলবায়ু পরিবর্তনের অনুধাবনযোগ্য বিরূপ প্রতিক্রিয়াগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকা) ও উপশমের (জলবায়ু পরিবর্তনকে ধীর করে দেওয়া এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবকে কমিয়ে আনা) কৌশলগুলো রাষ্ট্রের মানবাধিকার সম্পর্কিত আইনী বাধ্যবাধকার বিশ্লেষণের মধ্যে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত থাকতে হবে৷ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে নিচে উল্লিখিত অধিকার ও মূলনীতিগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার প্রচেষ্টার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবেঃ
• বৈষম্যহীনতাঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো তাদের উপরই প্রবলভাবে অনুভূত হবে যারা মানবাধিকারের অপব্যবহারের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এর কারণ হচ্ছে তাদের দারিদ্র্য, বয়স, লিঙ্গ, জাতি, জাতিগত উৎপত্তি, অক্ষমতা ও অন্যান্য বিষয়সমূহ৷ জলবায়ু পরিবর্তনের নীতিগুলোতে বৈষম্য করা যাবে না এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি অসহায় গোষ্ঠীগুলোর জন্য৷
• তথ্যের স্বাধীনতাঃ জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য তথ্যের সহজলভ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই জলবায়ুর পরিবর্তন ও এর মোকাবেলা করার জন্য গৃহীত ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কিত তথ্যের প্রবাহকে প্রবর্ধন ও সহায়তা করতে হবে৷ পরিবেশগত হুমকি সম্পর্কে তথ্য প্রচার করার জন্য রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব রয়েছে৷
• সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার অধিকারঃ রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সাথে পর্যাপ্ত ও অর্থবহ আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে, তাদের জীবনের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণকারী নীতিমালা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে৷ রাষ্ট্রগুলোকে জাতীয় অভিযোজন ও উপশম কৌশলগুলোর পরিকল্পনায় অসহায় গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিত্ব সহ সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে৷
• মত প্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশ করার স্বাধীনতাঃ জলবায়ু পরবর্তন সম্পর্কে সরকারের কর্মকাণ্ড বা নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার হচ্ছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ যার প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে ও সুরক্ষিত রাখতে হবে৷ সবাই তথ্য ও ধারণা চাওয়ার, পাওয়ার ও দেওয়ার অধিকার অবশ্যই উপভোগ করতে হবে, এবং এই সব মানবাধিকার অনুশীলনের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কোনো ভাবে হয়রানি করা যাবে না৷
• দায়বদ্ধতা ও কার্যকর প্রতিকারের অধিকারঃ যখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড বা নিষ্ক্রিয়তার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, তখন এর শিকারদের কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত৷

জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলা করার সময় মানবাধিকারকে তুলে ধরা