১৬ জানুয়ারি ২০০৮
আরো তথ্য: জাহাঙ্গীর আলম আকাশ (পুরুষ), সাংবাদিক, মানবাধিকার রক্ষাকারী কর্মী
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর আলম আকাশ দীর্ঘ একমাসেরও বেশি সময় কারাগারে বিনা বিচারে আটক থাকার পরে গত নভেম্বর, ২০০৭ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন৷ মুক্তি পাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন যে, আটক থাকা অবস্থায় তিনি Rapid Action Battalion (RAB) কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছেন৷ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করেছে৷ গ্রেফতার হলে, তার আবারো নির্যাতিত হবার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে৷
জাহাঙ্গীর আলম আকাশকে গত ২৪ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে রাত ২টার সময় গ্রেফতার করা হয়৷ RAB সদস্যরা রাজশাহীর নর্থ-ওয়েস্টার্ণ সিটিতে অবস্থিত তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে৷ তার তৈরি করা ও ৩ মে ২০০৭ তারিখে প্রচারিত এক টেলিভিশন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয় যে, ব্যাব সদস্যরা নিরস্ত্র ও প্রতিরোধহীন এক ব্যক্তিকে তার নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সামনে গুলি করে হত্যা করে৷ জাহাঙ্গীর আলম আকাশকে জোরপূর্বক ঘুষ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, যা বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন মিথ্যা ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ প্রকাশ্যে বিবৃতি দেন যে, তাকে ৠাব সদস্যরা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করেছে, যার মধ্যে ছিলো ইলেকট্রিক শক দেয়া, লাঠি দিয়ে পায়ের পাতায় পেটানো এবং দুই হাত বেঁধে ছাদ থেকে ঝুলিয়ে রাখা৷
২০০৭ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে তার মুক্তির পরপরই রাজশাহী RAB এজেন্টদের অব্যাহত প্ররোচণায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ বিভাগকে জরুরি ক্ষমতা আইন ২০০৭ এর অধীনে জাহাঙ্গীর আলম আকাশের মামলাটি দেখার জন্যে নির্দেশ দেয়৷ সাধারণত যেসকল আটক বন্দীদের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণে জামিনে মুক্তি দেয়া থেকে বিরত থাকতে চায় তাদের বেলায় এই আইনটি প্রয়োগ করা হয়৷ জরুরি ক্ষমতা আইনের অধীনে করা মামলাগুলো জামিন অযোগ্য৷ এর মানে হলো জাহাঙ্গীর আলম আকাশের জামিন বাতিল করে তাকে পুনরায় আটকাদেশ দেয়া হবে৷ যদিও তার আইনজীবিরা হাইকোর্টের এক আদেশে জয়ী হয়েছেন৷ যেখানে বলা হয়েছে যে, তার মামলাটির ক্ষেত্রে জরুরি ক্ষমতা আইন প্রযোজ্য হবে না৷ এদিকে ৭ জানুয়ারি কর্তৃপক্ষ জাহাঙ্গীর আলম আকাশকে গ্রেফতারের জন্যে এক নতুন গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করেছে৷
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ দুটি এনজিও’র স্থানীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ একটি এনজিও-র নাম- টাস্কফোর্স এগেইনস্ট টর্চার এবং অন্যটি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ হিউম্যান রাইটস৷ মানবাধিকার বিষয়ে তার উদ্বেগ, স্বশাসিত টেলিভিশন কেন্দ্র সিএসবি নিউজের রাজশাহী অফিসের প্রধান হিসেবে তার কাজকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে৷
পটভূমি
২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়৷ এরপর পরই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ, ২০০৭ এবং জরুরি ক্ষমতা আইন, ২০০৭ জারি করেন৷ জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ জরুরি আইন জারির আইনী ভিত্তি দিয়েছে এবং জরুরি ক্ষমতা আইন জরুরি আইনের অধীনে দেশ পরিচালনার ভিত্তি দিয়েছে৷
এই দুটি অধ্যাদেশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সুদূর প্রসারী ক্ষমতা দিয়েছে যার মধ্যে রয়েছে গ্রেফতারি পরওয়ানা ছাড়াই আইন অমান্য করার সন্দেহে ‘প্রি-জুডিশিয়াল অ্যাক্ট’-এ কাউকে গ্রেফতার করা, জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ ভঙ্গ করা কিংবা কোনো ক্রিমিনাল অপরাধ৷
এই আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক মিছিল, সভা সমাবেশ বা বিক্ষোভ কিংবা এসবে অংশগ্রহণ অনুমোদিত নয় যদি না সেটি ধর্মীয়, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কর্মসূচি হয়, যা অনুমোদিত৷ কয়েকটি রাজনৈতিক সভার অনুমতি দেয়ার জন্যে বিধিনিষেধগুলো আংশিকভাবে ঢাকাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো কিন্তু দেশের বাকি অংশে জরুরি আইন এখনো বহাল আছে৷
জরুরি ক্ষমতা আইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা চাইলেই এটি লংঘন করতে পারেন৷ এই আইন যারা সামরিক বাহিনী কিংবা ব্যাবের কর্মকান্ডের সমালোচনা করেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে প্রায়শ ব্যবহার করা হয়৷
সুপারিশকৃত পদক্ষেপ: যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলা, ইংরেজি কিংবা আপনার নিজের ভাষায় বিচার পুনর্বিচারের জন্যে সনির্বন্ধ আবেদন লিখে পাঠান:
- হাইকোর্ট জাহাঙ্গীর আলম আকাশের জামিনের আদেশ দেয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা বিষয়ে আপনার উদ্বেগ প্রকাশ করুন;
- আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখুন যে, গ্রেফতার হলে ৠাবের হেফাজতে তার নির্যাতিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে;
- তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান;
- জাহাঙ্গীর আলম আকাশকে ৠাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন কিংবা অন্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষাআ করার জন্যে কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান;
- একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং দক্ষ কমিটি কর্তৃক জাহাঙ্গীর আলম আকাশকে নির্যাতনের তদন্ত করানো এবং দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায় বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্যে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান৷
আবেদন করুন:
প্রধানমন্ত্রীর সমকক্ষ
ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ
প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
বাংলাদেশ৷
ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮১১৩২৪৩
ইমেইল: info@pmo.gov.bd
সম্বোধন: প্রিয় প্রধান উপদেষ্টা
অনুলিপি: আপনার দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি
অনুগ্রহ করে অতি সত্বর আবেদন পাঠান, আবেদনপত্র যদি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখের পরে পাঠান তাহলে আন্তর্জাতিক সচিবালয় কিংবা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আপনার নিকটস্থ সেকশন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন৷