১৮ এপ্রিল
কাশ্মীর ও জম্মুতে বলপূর্বক অন্তর্ধান ও গণকবর সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান
শত শত নামচিহ্নহীন সমাধি- বেআইনী হত্যাকান্ড, বলপূর্বক অন্তর্ধান, নির্যাতন ও অন্যান্য অনাচারের শিকারদেরকে ধারণ করে আছে বলে বিশ্বাস করা হয় - যা পাওয়া গেছে ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে গণসমাধি সম্পর্কে জরুরিভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার জন্য, যেগুলোতে ১৯৮৯ সাল থেকে অঞ্চলটির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সশস্ত্র সংঘাতের পটভূমিতে মানবাধিকারের অপব্যবহারের শিকারদের অবশিষ্টাংশ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়৷
Facts under Ground (ফ্যাক্টস আন্ডারগ্রাউন্ড) শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া যায়, যা ২৯ মার্চ তারিখে শ্রীনগর-ভিত্তিক ‘অন্তর্হিত হওয়া ব্যক্তিদের পিতা-মাতাদের সংগঠন’ (অ্যাসোসিয়েশন অব দি প্যারেন্টস অব ডিসঅ্যাপিয়ারড পার্সন্স, এপিডিপি) কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে৷ প্রতিবেদনটি অনেকগুলো কবরের অস্তিত্বের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে যেগুলো, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর নিকটবর্তী স্থান হওয়ার কারণে, এমন এলাকার মধ্যে অবস্থিত যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয়৷ ২০০৬ সাল থেকে, শুধুমাত্র উরি জেলার ১৮টি গ্রামে কমপক্ষে ৯৪০ জন ব্যক্তির কবর আবিষ্কৃত হয়েছে বলে প্রকাশিত হয়েছে৷
ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে যাদের কবর পাওয়া গেছে তারা ছিল সশস্ত্র বিদ্রোহী এবং “বিদেশি জঙ্গি” যাদেরকে সেনাবাহিনীর সাথে সশস্ত্র সংঘাতের সময় আইনসম্মতভাবে হত্যা করা হয়েছে৷ তবে, প্রতিবেদনটিতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাক্ষ্যের বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে যাতে বলা হয়েছে যে কবর দেয়া অধিকাংশ ব্যক্তিই ছিল স্থানীয় অধিবাসী যারা এই দেশেরই নাগরিক৷
এই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয় যে ১৯৮৯ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে ৮,০০০-এরও বেশি ব্যক্তি অন্তর্হিত হয়েছেন৷ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যাকে ৪০০০-এর কম বলে জানায়, এবং এদের অধিকাংশই সশস্ত্র বিরোধী দলগুলোতে যোগ দেয়ার জন্য পাকিস্তানে গিয়েছে বলে দাবি করে৷
২০০৬ সালে, একটি রাষ্ট্রীয় পুলিশ প্রতিবেদনে ১৯৮৯ সাল থেকে পুলিশ হেফাজতে ৩৩১ জন ব্যক্তির মৃত্যু, এবং এছাড়াও আটক করার পর ১১১ জনের বলপূর্বক অন্তর্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়৷
বেআইনী হত্যাকান্ড, বলপূর্বক অন্তর্ধান ও নির্যাতন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন উভয়টিরই লঙ্ঘন, যেগুলো আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে বর্ণিত রয়েছে যেখানে ভারত একটি রাষ্ট্রপক্ষ৷ এছাড়াও এগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত করে৷
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জম্মু ও কাশ্মীরে বলপূর্বক অন্তর্ধানকে সুস্পষ্টভাবে নিন্দা করার জন্য এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মডেল প্রটোকলের সাথে সঙ্গতি রেখে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দ্বারা ঐ অঞ্চলে গণকবরের সবগুলো স্থানে অবিলম্বে, পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে৷
বলপূর্বক অন্তর্ধানের সকল অতীত ও সাম্প্রতিক অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করতে হবে এবং, যে সব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেসব ক্ষেত্রে এই সকল অপরাধের দায়-দায়িত্বের জন্য সন্দেহভাজনদেরকে ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে, এবং সকল ভিকটিমকে পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷
আপনি উপরের লিংকটিতে ক্লিক করলে আপনাকে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বব্যাপী সাইটে নিয়ে যাওয়া হবে যেটি ইংরেজিতে রয়েছে৷ আপনি ইংরেজিতে যে লেখাগুলো দেখবেন তার অনুবাদ নিচে দেয়া হলো৷ আপনি এই সাইটে বা বিশ্বব্যাপী সাইটে একজন আন্তর্জাতিক সদস্য হিসেবে নিবন্ধন করার সুযোগও গ্রহণ করতে পারেন৷ যদি আপনি ইতিমধ্যেই নিবন্ধন করে থাকেন তাহলে আপনি লগ-ইন করতে পারেন এবং আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন৷
কাশ্মীর ও জম্মুতে বলপূর্বক অন্তর্ধান ও গণকবর সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান
এই ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার আগ্রহের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ৷ আপনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আগে, আমাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার যে আপনি যে ই-মেইল ঠিকানাটি ব্যবহার করছেন সেটি আপনার নিজের৷
যদি ইতিমধ্যেই আপনার একটি একাউন্ট থেকে থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে লগ-ইন করুন
যদি আপনি ইতিমধ্যে নিবন্ধন না করে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন করুন
amnesty.org-এর সাথে নিবন্ধন করলে আমরা আমাদের কাজের ফলাফল সম্পর্কে আপনাকে অবহিত রাখতে পারবো৷
কাশ্মীর ও জম্মুতে বলপূর্বক অন্তর্ধান ও গণকবর সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান
প্রিয় প্রধান মন্ত্রী মহোদয়
২০০৬ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে আবিষ্কৃত শত শত নামচিহ্নহীন কবর সম্পর্কে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাতে আমি লিখছি৷ এই তদন্তগুলো অবশ্যই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসরণ করে তা করতে হবে৷
কবরের স্থানগুলো বেআইনী হত্যাকান্ড, বলপূর্বক অন্তর্ধান, নির্যাতন ও অন্যান্য অনাচারের শিকারদের অবশিষ্টাংশ ধারণ করে আছে বলে ধারণা করা হয় যা ১৯৮৯ সাল থেকে অঞ্চলটির উপর দিয়ে চলতে থাকা সশস্ত্র সংঘাতের পটভূমিতে সংঘটিত হয়েছে৷ শুধুমাত্র উরি জেলার ১৮টি গ্রামে কমপক্ষে ৯৪০ জন ব্যক্তির কবর আবিষ্কৃত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷
বেআইনী হত্যাকান্ড, বলপূর্বক অন্তর্ধান ও নির্যাতন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন উভয়টিরই লঙ্ঘন, যেগুলো প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনে ও আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে বর্ণিত আছে এবং যেখানে ভারত একটি রাষ্ট্রপক্ষ৷ এছাড়াও এগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত করে৷
তাই আমি আপনাদেরকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছিঃ
• কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ কবর থেকে উত্তোলন ও বিশ্লেষণের জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মডেল প্রটোকলের সাথে সঙ্গতি রেখে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দ্বারা জম্মু ও কাশ্মীরের গণকবরের সবগুলো স্থানে অবিলম্বে, পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা নিশ্চিত করুন; পর্যাপ্ত উপকরণ লভ্য করুন; এবং কাজটি সরাসরি পরিচালনা, এবং কাজটির সাথে জড়িত স্থানীয় ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য ও সহযোগিতা চান ও তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করুন৷ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে, প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য কবরের স্থানগুলো অবশ্যই সুরক্ষিত করতে হবে;
• বলপূর্বক অন্তর্ধানের সকল অতীত ও সাম্প্রতিক অভিযোগের অবিলম্বে, পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করুন এবং, যে সব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেসব ক্ষেত্রে এই সকল অপরাধের দায়-দায়িত্বের জন্য সন্দেহভাজনদেরকে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে যা আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারের মানদন্ড পূরণ করে;
• বেআইনী হত্যাকান্ড, বলপূর্বক অন্তর্ধান ও নির্যাতনের শিকার সকল ব্যক্তি যাতে পুরোপুরি ক্ষতিপূরণ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ফেরত প্রদান, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, সন্তুষ্টি এবং পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা৷
Delicious
Digg
Facebook
Technorati