৬ মার্চ ২০০৮
মেয়েশিশুদের জন্য নিরাপদ স্কুলের জন্য আবেদন
আন্তর্জাতিক নারী দিবস হচ্ছে নারীরা যে অধিকার অর্জন করতে পারলো তার উদযাপন এবং নারীদের জন্য যে আকর্ষণীয় সুযোগগুলো অপেক্ষা করছে সেগুলোর দিকে তাকানোর জন্য একটি সময়৷ একটি উজ্জল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হচ্ছে নিজের পছন্দ৷ নারীদের অবশ্যই সেই সঠিক পথ বেছে নেয়ার জন্য স্বাধীন হতে হবে, যা ক্ষতির পথের বাইরে এবং তাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ও তাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়৷
এই অভিযানে শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ৷
দারিদ্রতা, সহিংসতা ও রোগের দুষ্টচক্রগুলো ভেঙ্গে দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ শিক্ষা একটি মানবাধিকার, এবং তাই প্রতিটি মেয়েশিশুরও অধিকার৷
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে, এবং মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় মানবাধিকার সন্নিবেশিত করার ৬০ বছর পর, সারা বিশ্বজুড়ে মেয়েশিশুরা শিক্ষার পথে একরাশ বাধা দেখতে পাচ্ছেঃ
• মেয়েশিশুরা স্কুলে যাওয়ার পথে লাহামলার শিকার হয়, স্কুলের মাঠে আক্রান্ত হয় এবং তাদের সহপাঠীদের দ্বারা ঠাট্টার শিকার হয়৷ কেউ কেউ অন্য শিক্ষার্থীদের দ্বারা যৌন হামলার হুমকির শিকার হয়, শিক্ষকদের সাথে যৌনকর্ম করতে বাধ্য হয়, এমনকি শিক্ষকদের কক্ষে ধর্ষিত হয়৷
• যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশগুলোতে, মেয়েশিশুরা সশস্ত্র দলগুলো কর্তৃক এবং তাদের স্কুলের উপর আক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে থাকে৷ শরণার্থী শিবির বা বাস্তুচ্যুত মানুষদের শিবিরে বসবাসকারী মেয়েশিশুদের জন্য সমস্যা হচ্ছে যৌন নির্যাতন এবং শোষণ৷
• কিছু কিছু মেয়েশিশু স্কুলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে থাকে৷ মেয়েশিশুদের পরিচয়ের কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, যেমন তাদের যৌনতা, অভিবাসী, অনাথ বা শরণার্থী অবস্থা, জাত, জাতিগত ও গোষ্ঠীগত পরিচয়, এগুলো তাদের নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে৷
• যদিও বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা সব শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত তবুও, সারা বিশ্বজুড়ে স্কুলগুলো সাধারণত ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বেতন গ্রহণ করে থাকে৷ পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকার অভাব পড়লে ছেলেশিশুদের তুলনায় মেয়েশিশুদের স্কুল থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে৷
সহিংসতার কারণে অসংখ্য মেয়েশিশু স্কুলের বাইরে থাকে, স্কুল ছেড়ে চলে যায়, অথবা স্কুলজীবনে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে না৷ এর প্রভাবের মধ্যে রয়েছে যন্ত্রণা ও ভয়, আত্ম-বিশ্বাস কমে যাওয়া, যৌন সংক্রমণ, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ ও বিষন্নতা৷ অনেক ক্ষেত্রেই, নির্যাতনের ঘটনা অপ্রকাশিত থাকে৷
মেয়েশিশুরা প্রায়শই ঘটনাগুলো প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার কারনে সমস্যাটি আরো প্রকট হয়ে দাঁড়ায় এবং এটি করার কারণ কিছু সমাজে এই বিষয়গুলো এখনো অপ্রকাশযোগ্য হিসেবে রয়ে গেছে, অথবা প্রতিশোধের ভয়৷ এর ফলে এই ধরনের কর্মকান্ডগুলো কম প্রকাশিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা শাস্তির হাত থেকে বেঁচে যায়৷
ব্যবস্থা না নেয়ার পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি নেই৷ বিষয়টি সম্পদের অভাব সম্পর্কিত নয় বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব সম্পর্কিত৷ সরকারগুলো, শিক্ষকবৃন্দ ও স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্যই স্কুলে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করবে, অবশ্যই নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে অবিলম্বে তদন্ত করবে, অপরাধীদের জন্য যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করবে, সহিংসতার শিকার হওয়া মেয়েশিশুদেরকে নিরাময়ের জন্য সহায়তা করবে এবং এই ধরনের নির্যাতনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করবে৷
মেয়েশিশুদের নিরাপত্তা, সমতা ও শিক্ষার অধিকার রক্ষা করার জন্য এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রচারাভিযানে যোগ দিন৷
মেয়েশিশুদের জন্য স্কুলকে নিরাপদ করুন৷
www.amnesty.org/en/appeals-for-action/petition-for-safe-schools-for-girls
আপনি উপরের লিংকটিতে ক্লিক করলে আপনাকে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বব্যাপী সাইটে নিয়ে যাওয়া হবে যেটি ইংরেজিতে রয়েছে৷ আপনি ইংরেজিতে যে লেখাগুলো দেখবেন তার অনুবাদ নিচে দেয়া হলো৷ আপনি এই সাইটে বা বিশ্বব্যাপী সাইটে একজন আন্তর্জাতিক সদস্য হিসেবে নিবন্ধন করার সুযোগও গ্রহণ করতে পারেন৷ যদি আপনি ইতিমধ্যেই নিবন্ধন করে থাকেন তাহলে আপনি লগ-ইন করতে পারেন এবং আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন৷
মেয়েশিশুদের জন্য নিরাপদ স্কুলের জন্য আবেদনপত্র
এই ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার আগ্রহের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ৷ আপনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আগে, আমাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার যে আপনি যে ই-মেইল ঠিকানাটি ব্যবহার করছেন সেটি আপনার নিজের৷
যদি ইতিমধ্যেই আপনার একটি একাউন্ট থেকে থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে লগ-ইন করুন
যদি আপনি ইতিমধ্যে নিবন্ধন না করে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন করুন
amnesty.org-এর সাথে নিবন্ধন করলে আমরা আমাদের কাজের ফলাফল সম্পর্কে আপনাকে অবহিত রাখতে পারবো৷
স্কুল হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা ও বৃদ্ধির জায়গা৷ কিন্তু সারা বিশ্বজুড়ে অনেক মেয়েশিশুই তাদের নিরাপত্তার ভয় নিয়ে স্কুলে যায়৷ যদিও স্কুলবয়সী মেয়েরা ও ছেলেরা উভয়েই সহিংসতার শিকার হতে পারে, কিন্তু মেয়েশিশুদের লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, বিশেষকরে যৌন নির্যাতন ও সহিংসতা৷
সাধারণত মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংসতার ঘটনা প্রকাশ করা হয় না, অপরাধীরা শাস্তি পায় না এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না৷ এর ফলে, অসংখ্য মেয়েশিশু স্কুলের বাইরে থাকে, স্কুল ছেড়ে চলে যায়, অথবা স্কুলে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করে না৷ স্কুলের মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করার জন্য ৬টি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সব সরকারগুলোর কাছে দাবি জানায়ঃ
১ম পদক্ষেপঃ মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা নিষিদ্ধ করা
২য় পদক্ষেপঃ মেয়েশিশুদের জন্য স্কুলকে নিরাপদ করার পরিকল্পনা করা
৩য় পদক্ষেপঃ মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা মোকাবেলা করা
৪র্থ পদক্ষেপঃ সহিংসতার শিকার হওয়া মেয়েশিশুদের জন্য সহায়তা পরিষেবা প্রদান করা
৫ম পদক্ষেপঃ মেয়েশিশুদের শিক্ষা লাভের পথে বাধাগুলো দূর করা
৬ষ্ঠ পদক্ষেপঃ মেয়েশিশুদেরকে নির্যাতনের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা
মেয়েশিশুদের জন্য নিরাপদ স্কুলের জন্য আপনার সমর্থন প্রদর্শন, এবং স্কুলের মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে ৬টি পদক্ষেপ অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে এই দাবী করার জন্য আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করুন৷ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্বাক্ষরগুলো জাতিসংঘের মহাসচিবের শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিনিধির কাছে যথাসময়ে হস্তান্তর করবে৷