অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে - বাসস্থানের অধিকার রক্ষাকর্মী কারাগারে

১ এপ্রিল ২০০৮

ইয়ে গুয়োঝুকে মুক্তি দেয়ার জন্য চীনা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান

বেইজিংয়ে বাধ্যতামূলক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করার পর বাসস্থানের অধিকার রক্ষাকর্মী ইয়ে গুয়োঝু চার-বছরের কারাদন্ড ভোগ করছেন৷

 

২০০৪ সালের ডিসেম্বরে, ইয়ে গুয়োঝুকে, তখন তার বয়স ছিল ৪৯, “ঝগড়া বাঁধানো এবং সমস্যা তৈরি করার” জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় কারণ এই বছরের অলিম্পিক গেমসের নতুন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য তার সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ধ্বংস করার বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি৷

 

যখন বেইজিংয়ের গুয়াংঝু জেলার কর্মকর্তারা নির্মান কর্মকর্তাদের সাথে ষড়যন্ত্র করে শহরের বিপুল সংখ্যক বাসিন্দাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করে তখন অধিগ্রহণ করা অনেক বাড়ি-ঘরের মধ্যে ইয়ে গুয়োঝু’র রেস্টুরেন্ট ও বাসস্থান ও ছিল৷ তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি৷

 

আটকাবস্থায় থাকাকালীন তার উপর নির্যাতন করা হয় বলে জানা যায়৷ তার বিচারের আগে তাকে ছাদের সাথে হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং পুলিশ তাকে বারংবার পেটায়, এবং ২০০৬ সালের শেষের দিকে বেইজিংয়ের চাওবাই কারাগারে তাকে বৈদ্যুতিক-শক প্রদানকারী লাঠি দিয়েও পেটানো হয়৷

 

তারপর তাকে “নিয়মানুবর্তী” করার জন্য দুইবার কুইংগুয়ান কারাগারে পাঠানো হয়, সর্বশেষ পাঠানো হয় ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১০ মাসের জন্য, কারণ সম্ভবত তিনি তার শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার চেষ্টা করেছিলেন৷

 

চীনা কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনগুলো সুনিশ্চিত বা প্রত্যাখ্যান করতে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু সরকারি কর্তৃপক্ষ সুনিশ্চিত করেছে যে তিনি ‘হাইপারটেনশন’-এর জন্য চিকিৎসা লাভ করছিলেন৷ তারা আরও সুনিশ্চিত করেছেন যে তাকে চাওবাই কারাগারে রাখা হয়েছিল এবং তাকে ২৬ জুলাই ২০০৮ তারিখে ছেড়ে দেয়ার কথা৷

 

কারা কর্তৃপক্ষ তাকে উচ্চ রক্তচাপের জন্য শুধুমাত্র প্রাথমিক ঔষধ দিচ্ছে বলে জানা যায় এবং তাকে ঔষধ সরবরাহে তার পরিবারের সদস্যদেরকে বাধা দিচ্ছে৷ কুইংগুয়ান কারাগারে “শাস্তিমূলক” ব্যবস্থার অধীনে থাকাকালীন সময়ে ইয়েকে নির্জন কারাকক্ষে আটক রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়৷    

 

ইয়ে গুয়োঝু’র ছেলে ইয়ে মিংজুয়ান এবং ভাই ইয়ে গুয়োকিয়াংকে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে “নাশকতামূলক কাজে প্ররোচনা” প্রদানের সন্দেহে বেইজিং পুলিশ আটক করে রাখে৷ বেইজিং অলিম্পিকের নির্মাণ কাজের জন্য জায়গা মুক্ত করতে গিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করেছিলেন বলে জানা যায়৷

 

ইয়ে মিংজুয়ানকে ২০০৭ সালের অক্টোবরে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়, কিন্তু প্রচারমাধ্যমের সাথে কথা না বলার জন্য তাকে সতর্ক করে দেয়া হয় কারণ এর ফলে তার ও তার বাবার অবস্থার উপর “নেতিবাচক প্রভাব” পড়তে পারে৷ ইয়ে গুয়োকিয়াংকে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়, কিন্তু এই শর্তে যে তিনি বিদেশে কারো সাথে যোগাযোগ করবেন না অথবা তার পিটিশনের কর্মকান্ড চালিয়ে যাবেন না৷

 

অলিম্পিকের প্রস্তুতির জন্য বেইজিংয়ের উন্নয়নে অনেক বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে৷ জিয়াং ইউ, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন যে, ২০০৭ সালের জুন পর্যন্ত, অলিম্পিক সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কারণে ২০০২ সাল থেকে শুরু করে ৬,০৩৭টি পরিবারকে স্থানচ্যুত করা হয়েছে৷

 

জেনেভা-ভিত্তিক বাসস্থানের অধিকার ও উচ্ছেদ কেন্দ্রের (সেন্টার অন হাউজিং রাইটস অ্যান্ড এভিকশন) অনুমান অনুযায়ী নগর পুনঃউন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বেইজিংয়ে ১.২৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, এর কিছু কিছু বেইজিং অলিম্পিকের জন্য নির্মাণ প্রকল্পের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট, এবং ২০০৮ সালের অগাস্টের মধ্যে এই সংখ্যা ১.৫ মিলিয়নে দাঁড়াবে৷ অনেককেই সম্পূর্ণ ক্রিয়াবিধিগত সুরক্ষা ছাড়া অথবা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানা যায়৷

 

অধিকাংশ অধিবাসীকেই বেইজিংয়ের উপকন্ঠে নিম্নমানের বাসস্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷ রিয়েল স্টেট কোম্পানিগুলো - অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন বা তাদের অধিভুক্ত - তারপর লাভের বিনিময়ে জমিগুলো নির্মান কর্মকর্তাদের কাছে বিক্রি করতে পারে৷

 

জোরপূর্বক উচ্ছেদ মানবাধিকারের লঙ্ঘন যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পর্যাপ্ত বাসস্থানের অধিকার যা অর্থনৈতিক সামাজিক, ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুচ্ছেদ ১১তে সন্নিবেশিত আছে, যাতে চীন স্বাক্ষরও করেছে৷ যদিও চীন সরকার লোকজনকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তবুও এই সব আইন ও বিধির প্রয়োগ এখনো দুর্বল রয়ে গেছে৷

 

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইয়ে গুয়োঝুকে বিবেকের বন্দী হিসাবে বিবেচনা করে, যাকে শুধুমাত্র তার শান্তিপূর্ণ বিশ্বাসের কারণে কারাবন্দী করা হয়েছে৷ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে৷

 

এছাড়াও সম্পূর্ণ ক্রিয়াবিধিগত সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ, যারা নিজেদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে অক্ষম সরকার তাদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, এবং ক্ষতিগ্রস্ত যে কোনো সম্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা ছাড়া লোকজনকে তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ করার জন্য সংগঠনটি চীনা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে৷ 

 Take Action