ইসরাইলকে অবশ্যই গাজা বিষয়ক স্বাধীন সত্যানুসন্ধান মিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে

২ জুলাই ২০০৯

গাজা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে (গাজা বিষয়ক স্বাধীন সত্যানুসন্ধান মিশন) পূর্ণ সহযোগিতা করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানান

 

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১১:৩০ মিনিটে ইসরাইলী বাহিনী কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কীকরণ ছাড়াই গাজা উপত্যকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে।

ইসরাইল এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘কাস্ট লিড’। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিলো হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গ্রুপগুলো কর্তৃক ইসরাইলে রকেট হামলার অবসান ঘটানো। ফিলিস্তিনী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে ইসরাইলী সামরিক বাহিনীর অভিযান চলাকালীন সময়ে ইসরাইলী বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে বাছবিচারহীনভাবে বোমা বর্ষণ/আক্রমণ অব্যাহত ছিলো।

এই অবস্থায় ইসরাইল ও হামাস গত ১৮ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। কিন্তু ততোদিনে প্রায় ১৪০০ ফিলিস্তিনী মারা গেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৩০০ শিশু ও কয়েকশত নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এসময়ে গাজার একটি বড় অংশ গুড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়া মানুষগুলো বাস্তুহারা হয়ে আরো কঠিন বিপদে পড়ে। এই ঘটনায় তিনজন ইসরাইলী বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন এবং দক্ষিণ ইসরাইলের অনেক বসতবাড়ি ধ্বংস হয়।

গাজা উপত্যকায় সংঘটিত বেশিরভাগ ধ্বংসযজ্ঞই অবিবেচনাপ্রসূত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাসমূহের মধ্যে পার্থক্য না করতে পারার ফল হিসেবে বাছবিচারহীনভাবে সবকিছুর উপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক ধারার মারাত্মক লংঘন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক ব্যক্তি ও স্থাপনার উপর (পার্থক্যের নীতি অনুসরণ ব্যতিরিকে) সরাসরি আক্রমণের যে বিধিনিষেধ রয়েছে তার বড় ধরনের লংঘন ঘটানো হয়েছে। এছাড়াও এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনে বাছবিচারহীনভাবে বা নিয়মনীতি ছাড়াই শত্রুপক্ষের উপর আক্রমণ চালানোর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তার লংঘন এবং বাছবিচারবিহীনভাবে দলগতভাবে সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তারও লংঘন।

‘কাস্ট লিড’ অভিযান শেষ হয়েছে পাঁচ মাসের বেশি হলো। অথচ এখন পর্যন্ত ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনায় তাদের সামরিক বাহিনীর আচরণ তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা এই ধরনের তদন্ত কার্যক্রমের সক্রিয়ভাবে বিরোধীতা করে আসছে।

তারা জাতিসংঘের একটি তদন্ত দলের সত্যানুসন্ধান ফলাফলকে প্রত্যাখান করেছে। ইউএন বোর্ড অফ এনকোয়েরি ‘কাস্ট লিড’ অভিযানকালে জাতিসংঘের স্থাপনা ও ব্যক্তিদের উপর পরিচালিত নয়টি আক্রমণের তদন্তের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। তাছাড়া ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক জাস্টিজ রিচার্ড গোল্ডস্টোনের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক স্বাধীন সত্যানুসন্ধান মিশনকে সহযোগিতা করতে এবং তদন্ত উপলক্ষ্যে ইসরাইলে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে এই মিশনের কাজের সুযোগ কমেছে।

হামাস সত্যানুসন্ধান মিশনকে গাজা উপত্যকায় মাঠ পর্যায়ের কাজের সুযোগ করে দিয়েছে এবং তারা মিশনের সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। মিশনের সদস্যরা মিশর থেকে গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক রিচার্ড গোল্ডস্টোনের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক স্বাধীন সত্যানুসন্ধান মিশন ও অন্য সকল আন্তর্জাতিক তদন্ত দলকে পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্যে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষসহ সংঘাতে জড়িত আন্তর্জাতিক আইন লংঘনকারী সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।