ইরান অবশ্যই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে
২৩ জুন ২০০৯
প্রতিবাদকারীদের প্রতিবাদ করার অধিকার রক্ষায় ইরানী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান
ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১২ জুন। বৈষম্য, ভিন্ন মতালম্বীদের উপর নিকৃষ্ট ধরনের নির্যাতন আর সহিংসতাপূর্ণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
নির্বাচন পরবর্তী দিনগুলোতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও ফলাফলের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ ইরান জুড়ে মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভে অংশ নেয়।
ইরানের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ মিলিশিয়াসহ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে অত্যধিক বল প্রয়োগের আশ্রয় নেয় এমনকি তারা বিক্ষোভকারীদের মুগুড় বেদড়ক পেটায়। কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভ দমনে তাজা গুলি বর্ষণ করা হয়। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
ইরান এখন টেলিফোন, স্যাটেলাইট সম্প্রচার, ইন্টারনেট ব্যবহারসহ সকল ধরনের যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর ঢালাও বিধিনিষেধ আরোপ করছে। সেসঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের সশস্ত্র আক্রমণ চালানো হচ্ছে, রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার রক্ষাকারী কর্মীদের ইচ্ছেমাফিক গ্রেফতার করা হচ্ছে। এদের সবাই না হলেও অনেকেই বিবেক বন্দী।
আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইরান এই সনদে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। তাছাড়া এই ধরনের সমাবেশের অধিকার ইরানের সংবিধান দ্বারাও সুরক্ষা করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি দিতে ইরানী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, এই ধরনের বিক্ষোভে পুলিশী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকা দরকার এবং পুলিশী কর্মকান্ডে বাসিজ মিলিশিয়াদের ব্যবহার বন্ধ করা দরকার এবং শুধুমাত্র জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে শেষ উপায় হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে, নতুবা নয়।
এছাড়াও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরান সরকারের প্রতি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে বাধা দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তথ্য ও ধারণার সন্ধান, কারো কাছ থেকে তথ্য ও ধারণা লাভ করা এবং অন্যকে জানানো; সমাবেশের স্বাধীনতা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, নির্বাচনের ফলাফল বিষয়ে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্যে কাউকে গ্রেফতার করা হয়ে থাকলে তাকে অতি সত্বর নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়া উচিৎ।
শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার রক্ষায় ইরানী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান
শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ সমাবেশের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনীকে লিখুন
ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতাকে চিঠি লিখুন
মহামান্য
আমি আমার গভীর উদ্বেগের কথা জানাতে আপনাকে লিখছি। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরবর্তী দিনগুলোতে ইরানের জনগণের উপর স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ মিলিশিয়াসহ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস দমনপীড়ন নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করা অনুমোদিত এবং ইরান এই সনদে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ এবং এই ধরনের সমাবেশ ইরানের সংবিধান দ্বারাও সুরক্ষিত। এই অবস্থায় যারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে তাদের অধিকার চর্চা করছে তাদের ইচ্ছামাফিক গ্রেফতার ও হয়রানি করা কিংবা তাদের উপর অত্যধিক শক্তি ও বল প্রয়োগ করা, তাদের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সশস্ত্র আক্রমণ চালানো কোনো মতেই উচিৎ নয়।
এই অবস্থায় আমি ইরানী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে,
• সকল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ ও সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা দিন এমনকি তারা যখন ইরানী কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে তখনও।
• নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যদি আরো বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়, তবে সেসব বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তি প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকা নিশ্চিত করুন এবং শুধুমাত্র জীবন রক্ষার্থে অপরিহার্য হলে শেষ উপায় হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা করুন, নতুবা নয়।
• নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে এমন বিবেক বন্দীদের ত্বরিতগতিতে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিন।

Delicious
Digg
Facebook
Technorati