ইরান: অত্যধিক বল প্রয়োগ/নির্যাতনের ভয়

১৫ জুন ২০০৯ 

সর্বসাধারণের জন্য       ইউএ ১৫০/০৯    এআই সূচী: এম ডি ই ১৩/০৫৬/২০০৯       

ইরান :   প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পুনঃনির্বাচিত হওয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মীর হোসেন মুসাভির সমর্থকরা, যারা বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ১২ জুন তারিখের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছে তারা তেহরান ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল, কখনো কখনো সহিংসভাবে৷ তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে৷  কয়েক ডজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং রবিবারে পাঁচজন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও সোমবারে বিক্ষোভের সময় একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে জানা যায়৷  অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বাস করে যদি আরো বিক্ষোভ হয়, যা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বল প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং গ্রেপ্তারকৃতরা নির্যাতন বা অন্যান্য দুর্ব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে৷  সংস্থাটি আরো বিশ্বাস করে এসএমএস বার্তা সহ টেলিফোন সেবা, বিদেশি মিডিয়া ও বিভিন্ন ইন্টারনেট সাইট ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ মত ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতাকে বেআইনীভাব নিয়ন্ত্রণ করছে৷

১৩ জুন তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে পুনঃনির্বাচিত ঘোষণা করার পর থেকে তেহরানে বিক্ষোভ চলছে৷  বিক্ষোভকারীরা কখনো কখনো পাথর নিক্ষেপ করেছে এবং ভবন, মোটরবাইক, ও গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে হুমকি দিয়েছে, যারা সহিংসভাবে এর জবাব দিয়েছে, বিক্ষোভকারীদেরকে পিটিয়েছে, এবং কমপক্ষে ১৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে৷  ১৪ জুন তারিখে তেহরানের উপ পুলিশ প্রধান বলেছেন এদের মধ্যে ১০ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাঙ্গার “মূল পরিকল্পনাকারী” হিসেবে, যাদের মধ্যে কয়েকজন রাজনীতিবিদও রয়েছেন, এবং ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাঙ্গার “সংগঠক” হিসেবে৷

পাঁচজন পর্যন্ত শিক্ষার্থী, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাছে যাদের নাম বলা হয়েছে ফাতেমি বারাতি, কাসরা শারাফি, মোবিনা এহতেরামি, কামবিজ শোয়াই ও মোহসেন ঈমানী - ১৪ জুন তারিখে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে জানা যায় যখন নিরাপত্তা বাহিনী তেহরানের একটি ছাত্রাবাস এলাকায় হামলা করে; অন্য - সম্ভবত কয়েক ডজন - ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অনেকে আহত হয় বলে জানা যায়৷  অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ১৩ জন শিক্ষার্থীর নাম পেয়েছে যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা যায়৷  প্রাদেশিক শহর যেমন জাহেদান, তাবরিজ, মাশহাদ, বাবল, ও শিরাজে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকেও লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা যায়৷

নির্বাচনী ফলাফলের বিরুদ্ধে কোনো বিক্ষোভের অনুমোদন নেই এবং যারা জন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে “আইনসঙ্গতভাবে” ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দেয়ার পর নির্বাচনী ফলাফলের বিরুদ্ধে ১৫ জুন তারিখে অনুষ্ঠিতব্য একটি বিক্ষোভ বাতিল করা হয়েছে৷  তবে, শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং মীর হোসেন মুসাভি ও আরেকজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী, মাহদি কাররুবি, বলেছেন যে তারা “জনতাকে শান্ত করার জন্য” সেখানে অংশগ্রহণ করবেন৷  মীর হোসেন মুসাভি ও প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানা গেছে এবং একজন বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷ ১৪ জুন তারিখে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের জয়ের জন্য একটি বিজয় মিছিলের অনুমতি দেয়া হয় যেখানে তার হাজার হাজার সমর্থক অংশগ্রহণ করে৷

কর্তৃপক্ষ এসএমএস নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়ে, ফেসবুক ও মীর হোসেন মুসাভির সমর্থক ওয়েবসাইট সহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, এবং বিদেশি প্রচার মাধ্যম যেমন বিবিসি’র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রচার বন্ধ করে দিয়ে গোলযোগের খবর সীমিত রাখার এবং মীর হোসেন মুসাভির সমর্থকদেরকে বিক্ষোভ সংগঠিত করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে৷  মাঝে মাঝে তেহরানমুখী টেলিফোন লাইনে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়েছে৷

পটভূমি

নির্বাচনের দুই দিন আগে, ১০ জুন তারিখে, মীর হোসেন মুসাভির সমর্থনে ব্যাপক গণমিছিলের পর, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর রাজনৈতিক অফিসের প্রধান মুসাভির সমর্থকদেরকে ইরানে একটি “ভেলভেট বিপ্লবের” অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করেন, যা “সফল হবে না” বলে তিনি দাবি করেন৷

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ জয়ী হয়েছেন বলে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করলে তিনি নিজেকে বিজয়ী বলে দাবি করেন কিন্তু অনেকেই মনে করেন যে ভোটের ব্যবধানটা অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি ছিল৷  তার পুনঃনির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ নেতা, আয়াতুল্লাহ খোমেনি অনুমোদন করেছেন, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর শক্তি৷  মীর হোসেন মুসাভি, যিনি বলেছেন যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে তাকে জানানো হয় যে তিনি জয়লাভ করেছেন, নির্বাচনের ফলাফলকে একটি “বিপজ্জনক ভাঁওতাবাজি” বলে অভিহিত করেন, এবং তিনি ও আরেকজন প্রার্থী, মোহসেন রেযায়ি, গার্ড কাউন্সিলের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন, এই কাউন্সিল নির্বাচনের তত্ত্বাবধান করে থাকে৷ ১০ দিনের মধ্যে তাদের অভিযোগ সম্পর্কে রায় আশা করা হচ্ছে৷  

আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইরানী কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷ তবে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমবেত হওয়ার স্বাধীনতার অধিকারের ওপর যে কোনো নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই অপরিহার্য হতে হবে এবং জাতীয় বা জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য বা নৈতিকতা রক্ষা অথবা অন্যদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার উদ্দেশ্যে ও আইনসঙ্গতভাবে হতে হবে৷  এই ধরনের যে কোনো নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই একটি আইনসঙ্গত উদ্দেশ্যে ও সমানুপাতিকভাবে হতে হবে এবং কোনোভাবেই বৈষম্য করা যাবে না, যেমন রাজনৈতিক মতামতের ভিত্তিতে৷ এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা এমনকি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুক্তিযুক্ত হলেও, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশি কার্যক্রম অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে, যা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদেরকে শুধুমাত্র একেবারেই অপরিহার্য ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের অনুমোদন দেয় এবং তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকুরই অনুমোদন দেয় এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের জন্য শুধুমাত্র তখনই অনুমোদন দেয় যখন জীবন বাঁচানোর জন্য তা একেবারেই অনিবার্য হয়ে পড়ে৷ আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তিদেরকে অবশ্যই সংযম দেখাতে হবে, ক্ষতি বা আঘাতের পরিমাণ সর্বনিম্ন রাখতে হবে এবং মানুষের জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে ও তার সুরক্ষা করতে হবে৷

সুপারিশকৃত পদক্ষেপঃ অনুগ্রহ করে যত দ্রুত সম্ভব আপিল পাঠান, পার্সিয়ান, আরবি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ বা আপনার নিজের ভাষায়ঃ
- নির্বাচনের ফলাফলের সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোনো ভবিষ্যত বিক্ষোভে পুলিশি কার্যক্রমে সংযম প্রদর্শনের জন্য কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, এবং আগ্নেয়াস্ত্রকে শুধুমাত্র শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আহ্বান জানান যখন জীবন বাঁচানোর জন্য তা একেবারেই অনিবার্য হয়ে পড়ে;
- জোর দিয়ে বলুন যাতে আটক সব ব্যক্তিকে নির্যাতন ও অন্যান্য দুর্ব্যবহার থেকে অবশ্যই সুরক্ষিত রাখা হয়, তাদের পরিবার ও আইনজীবীদের সাথে দেখা করতে দেয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়, এবং অবিলম্বে একজন বিচারকের সামনে হাজির করা হয় যাতে তারা তাদের আটকাবস্থার কারণ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন;
- বিক্ষোভের উপর পুলিশি কার্যক্রম সম্পর্কে একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার জন্য সনির্বন্ধভাবে অনুরোধ জানান, বিশেষ করে যে সব মৃত্যু ও আহতের ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে;
- কাউকে শুধুমাত্র নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মত প্রকাশের কারণে আটক করা হলে তাদেরকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়ার জন্য আহ্বান জানান;
- সংগঠন করার, সমবেত হওয়ার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বেআইনীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা বন্ধ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান, যার মধ্যে রয়েছে তথ্য ও ধারণা চাওয়া, পাওয়া ও প্রকাশ করার স্বাধীনতা৷

আপিল পাঠানোর ঠিকানাঃ


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী*
Sadegh Mahsouli
Ministry of the Interior
Dr Fatemi Avenue
Tehran, Islamic Republic of Iran           
ফ্যাক্সঃ         +98 21 8 896 203
        +98 21 8 899 547
        +98 21 6 650 203
Salutation:        Your Excellency

বিচার বিভাগের প্রধান
Ayatollah Mahmoud Hashemi Shahroudi
Howzeh Riyasat-e Qoveh Qazaiyeh (Office of the Head of the Judiciary)
Pasteur St., Vali Asr Ave., south of Serah-e Jomhouri, Tehran 1316814737, Islamic Republic of Iran
ই-মেইলঃ        shahroudi@dadgostary-tehran.ir (বিষয় হিসেবে লিখুনঃ FAO Ayatollah Shahroudi)
Salutation:     Your Excellency

প্রতিলিপি পাঠানঃ
ইসলামিক গণপ্রজাতন্ত্রের নেতা
Ayatollah Sayed ‘Ali Khamenei
The Office of the Supreme Leader
Islamic Republic Street – End of Shahid Keshvar Doust Street, Tehran, Islamic Republic of Iran
ই-মেইলঃ        info_leader@leader.ir
ওয়েবসাইটের মাধ্যমেঃ http://www.leader.ir/langs/en/index.php?p=letter (ইংরেজিতে)
http://www.leader.ir/langs/fa/index.php?p=letter (পার্সিয়ান ভাষায়)
Salutation:         Your Excellency

এবং আপনার দেশে ইরানের স্বীকৃত কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দের কাছে৷

অনুগ্রহ করে অবিলম্বে আপিল পাঠান৷ ২৭ জুলাই ২০০৯ তারিখের পর আপিল পাঠালে আন্তর্জাতিক সচিবালয়, বা আপনার সেকশন অফিসের সাথে যোগাযোগ করুন৷