ভূপালে দীর্ঘদিনের প্রতিক্রিয়া মোকাবেলার জন্য রাসায়নিক কোম্পানিকে আহ্বান
১৬ অক্টোবর ২০০৯
ভূপালের জনগণের ওপর বছরের পর বছর ধরে প্রহসনের অবসান ঘটানোর জন্য রাসায়নিক কোম্পানিকে আহ্বান করুন
১৯৮৪ সালের ২রা ডিসেম্বর মধ্যরাতের সামান্য কিছুক্ষণ আগে মধ্য ভারতের ভূপালে অবস্থিত ইউনিয়ন কার্বাইডের কীটনাশক কারখানা থেকে কয়েক হাজার টন বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য দুর্ঘটনাক্রমে বেরিয়ে যায়৷ প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ এর সংস্পর্শে আসে৷ তাৎক্ষণিক পরিণাম হিসেবে ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ মানুষ মারা যায় এবং পরবর্তী ২০ বছর ধরে আরো ১৫,০০০ লোক মারা যায়৷
২০০৯ সালের ২রা ডিসেম্বর ভূপালের জনগণ এই ভয়ঙ্কর নির্গমনের ২৫তম বার্ষিকী পালন করবে৷ মানবাধিকারের ওপর ১৯৮৪ সালের এই নির্গমনের অব্যাহত প্রভাব তুলে ধরার জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের সাথে যোগ দেবে৷
ইউনিয়ন কার্বাইড - এখন সম্পূর্ণভাবে দি ডাও কেমিক্যাল কোম্পানীর (The Dow Chemical Company) স্বত্ত্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান - ভূপাল থেকে নিশ্চিন্তে চলে যায়, এমনকি জায়গাটি যথাযথভাবে দূষণমুক্ত না করেই৷
সিকি শতাব্দী পার হয়ে যাওয়ার পরেও কারখানার জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়নি৷ ১০০,০০০-এরও বেশি মানুষ এখনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন৷ পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা - চিকিৎসা সেবা এবং নির্গমনের আর্থ-সামাজিক প্রভাবগুলো মোকাবেলা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ উভয়ই - প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম ছিল৷
ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই এখনো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং নির্গমনের সম্পূর্ণ কারণ ও এর প্রভাব কখনোই যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি৷ ভূপালে যা ঘটেছে তার জন্য কাউকে কখনো দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সংগঠন কর্তৃক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ভারতীয় ও মার্কিন আদালত ব্যবহারের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি৷
ভূপাল কেবল গত শতাব্দীর একটি মানবাধিকার বিপর্যয়ই নয় - এটি আজকের দিনে মানবাধিকারের একটি প্রহসন৷
আরো পড়ুন
ভূপাল ইউরোপীয় বাস ভ্রমণ (লাইভওয়্যার ব্লগ)

Delicious
Digg
Facebook
Technorati