বাংলাদেশ: ইউএ- আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব (পুরুষ), সাংবাদিক, নিরাপত্তার জন্য আশঙ্কা / মৃত্যুর হুমকি
০৮ মে ২০০৯
সর্বসাধারণের জন্য এআই সূচী: এএসএ ১৩/০০৩/২০০৯ ইউএ ১২২/০৯ নিরাপত্তার জন্য আশঙ্কা/মৃত্যুর হুমকি
সাংবাদিক আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব ১১ এপ্রিল তারিখে এমন কয়েকজন ব্যক্তি দ্বারা আক্রান্ত হন যারা নিজেদেরকে একজন স্থানীয় সাংসদের (এমপি) সমর্থক বলে পরিচয় দেয়৷ বাংলা সংবাদপত্র সমকাল¬-এ তিনি ওই সাংসদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে কয়েকটি লেখা প্রকাশ করার পর এই ঘটনা ঘটে৷
আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল দুপুর ১.৩০টায়, গফরগাঁও শহরের নিকটবর্তী মাইজবাড়ি চৌরাস্তায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সাংসদ তার দিকে এগিয়ে আসেন৷ সাংসদ তাকে বলেন যে তিনি পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, এবং এই সময়ে তার বিরুদ্ধে কেউ লিখলে তাকে তিনি সহ্য করবেন না৷ তিনি আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবকে হুমকি দেন যে তিনি সাংসদের বিরুদ্ধে আর একটি বাক্যও লিখলে তাকে “একটা শিক্ষা” দেয়া হবে৷
ওই দিন সন্ধ্যা ৭.৩০টায়, আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব তার সংবাদপত্রে একটি লেখা পাঠানোর জন্য গফরগাঁয়ের একটি কম্পিউটারের দোকানে যান৷ তিনি লেখাটি পাঠাতে পারার আগেই, দুইজন লোক দোকানটিতে প্রবেশ করে এবং তার দিকে এগিয়ে যায়৷ তারা তাদের শার্টের ভেতর লুকানো চাপাতি বের করে৷ ছুরি ও লোহার রড সহ আরো কয়েকজন লোক তাদের সাথে যোগ দেয়৷ একজন লোক আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবকে জানায় যে স্থানীয় সাংসদ তাদেরকে বলেছে সাংসদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় লেখার জন্য তিনি বিপ্লবের মাথা কেটে ফেলার জন্য তাদেরকে বলেছেন৷ তারপর লোকটি আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবের মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ মারার চেষ্টা করে৷ সৌভাগ্যক্রমে আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব সময়মত সরে যেতে পেরেছিলেন, কিন্তু তার হাতের অনেকগুলো জায়গা কেটে যায়৷ তারপর লোকটি তার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে৷ আবারো আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব আঘাতটি লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে সক্ষম হন, কিন্তু তার হাতের আরো কয়েকটি জায়গা কেটে যায়৷ তার মাথায় আঘাত করার জন্য আরেকবার চেষ্টা করা হয়, যেটি তিনি তার বাম হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন৷ যার ফলে, তার কনুই গভীরভাবে কেটে যায়৷
আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব কম্পিউটারের দোকানটি থেকে কোনোমতে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং বাইরে বেরিয়ে এসে দেখতে পান যে তার সহকর্মী সাংবাদিকরা এখানে কী হচ্ছে তা দেখতে এসেছেন৷ তবে তারা তাকে সাহায্য করতে পারেননি, কারণ তাকে আক্রমণকারী লোকদের সাথে যোগদানকারী বড় একদল লোককে অতিক্রম করে যেতে তারা ভয় পাচ্ছিলেন৷ তিনি চারজন পুলিশকেও দেখতে পান যারা তার জীবন বিপন্নকারী লোকগুলোকে থামানোর জন্য কিছুই করেনি, যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি পুলিশদের কাছে সরাসরি সাহায্য চান৷ তারপর আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবকে রিকশায় করে গফরগাঁও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তাকে একজন ডাক্তার দেখেন এবং তার বাম কনুইয়ের গভীর ক্ষতসহ অন্যান্য ক্ষতগুলোর জন্য চিকিৎসা দেন৷ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে একটি জরুরি অপারেশন করা হয়৷ আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব মোট ১৭ দিন হাসপাতালে ছিলেন৷
১২ এপ্রিল তারিখে, একজন বন্ধু আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবের পক্ষে স্থানীয় থানায় আক্রমণের বিষয়টি অবহিত করেন৷ আক্রমণের সাথে জড়িত ছয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয় এবং তাদেরকে সাহায্যকারী আরো দশজন পর্যন্ত ব্যক্তি ছিল বলে জানানো হয়৷ পুলিশ যদিও অভিযোগটি নথিভুক্ত করে, তারা অভিযুক্ত কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ব্যর্থ হয়৷ চ্যালেঞ্জ করা হলে, তারা মামলাটি তদন্ত না করার জন্য কোনো কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়৷ আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব এবং তার সহকর্মী সাংবাদিকরা সন্দেহ করছেন যে তদন্ত না করার জন্য স্থানীয় সাংসদ হয়তো তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেছেন৷ তবে, আক্রমণকারীদের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি সাংসদ অস্বীকার করেছেন৷
অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জন, পরবর্তীতে অগ্রিম জামিন (গ্রেপ্তারের আগেই জামিন) পেয়েছেন৷ তিনজন জামিন পেয়েছেন ময়মনসিংহ আদালত থেকে এবং অন্য তিনজন পেয়েছেন হাইকোর্ট থেকে৷ ৩০ এপ্রিল তারিখে, অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন, আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবের মোবাইলে একটি এসএমএস পাঠায় যাতে লেখা ছিলঃ
“বিপ্লব, কুত্তার বাচ্চা, আমরা তোরে মাইরা ফালামু৷ আজকে আমরা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাইছি৷ যদি বাঁচতে চাস, মামলা তুইলা নে৷ [স্বাক্ষর] এফ ফখরুল, সায়ত, বিপ্লব [আরেকজন ব্যক্তি], শফিক”
আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন৷ পুলিশ কেবল এটা নথিভুক্ত করার মাধ্যমেই তাদের দায়িত্ব শেষ করে, যার ফলে তিনি ভয়ে আছেন যে তাকে আবারো যে কোনো সময় আক্রমণ করা হতে পারে৷ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবের উপর আক্রমণই এই ধরনের প্রথম আক্রমণ৷ গফরগাঁয়ের অন্য সাংবাদিকরা আশঙ্কা করছেন সরকার যদি আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না নেয় এবং আক্রমণকারীদের বিচার না করে, তাহলে তারাও হুমকির সম্মুখীন হবেন৷
পটভূমি
সশস্ত্র গুণ্ডাবাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় রাজনীতিবিদদের জন্য কাজ করার অভিযোগ রয়েছে এবং এরা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে পত্রিকায় লেখার জন্য সাংবাদিকদের ওপর প্রায়ই আক্রমণ করে থাকে৷ ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে আক্রমণের পরিমাণ বেড়ে যায় বলে জানা যায় কারণ তৎকালীন আওয়ামী লীগ (১৯৯৬-২০০১) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) (২০০১-২০০৬) সরকার এদেরকে থামাতে ব্যর্থ হয়৷ এই সময়ে কমপক্ষে আটজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়৷ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে, ২০০৫ সালের শেষদিক থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়, কিন্তু আক্রমণ বা হত্যাকাণ্ডের জন্য কাউকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়নি৷
সুপারিশকৃত পদক্ষেপঃ
অনুগ্রহ করে যত দ্রুত সম্ভব আপিল পাঠান, ইংরেজিতে বা আপনার নিজের ভাষায়ঃ বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানান
- আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লবের ওপর আক্রমণ এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি সম্পর্কে অবিলম্বে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা এবং দায়ী ব্যক্তিদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা নিশ্চিত করার জন্য;
- আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার চাওয়ার প্রচেষ্টায় আবদুল্লাহ্ আল-আমিন বিপ্লব, তার পরিবার ও সব সাক্ষীরা যাতে আইনের অধীনে পূর্ণ সুরক্ষা পায় তা নিশ্চিত করার জন্য;
- ক্ষমতাসীন দলের, বা তার সহযোগী দলগুলোর কোনো সদস্যের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সকল অভিযোগ যাতে একটি স্বাধীন ও যোগ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবিলম্বে তদন্ত করা হয়, এবং দায়ী ব্যক্তিদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য, এইসব দলগুলোতে তাদের অবস্থান যাই হোক না কেন, অথবা সরকারের সাথে তাদের যে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতাই থাকুক না কেন৷
আপিল পাঠানোর ঠিকানাঃ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
Prime Minister Sheikh Hasina
Prime Minister's Office
Old Sangsad Bhaban
Tejgaon, Dhaka-1215
Bangladesh
ফ্যাক্সঃ + 88028113244
ই-মেইলঃ info@pmo.gov.bd
সম্বোধনঃ Dear Prime Minister
অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন
Minister of Home Affairs
Bangladesh Secretariat
Dhaka-1000
Bangladesh
ফ্যাক্সঃ + 88027164788
ই-মেইলঃ sobhansikder@yahoo.com
সম্বোধনঃ Dear Home Minister
এবং আপনার দেশে বাংলাদেশের স্বীকৃত কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দের কাছে৷
অনুগ্রহ করে অবিলম্বে আপিল পাঠান৷ ১৯ জুন ২০০৯ তারিখের পর আপিল পাঠালে আন্তর্জাতিক সচিবালয়, বা আপনার সেকশন অফিসের সাথে যোগাযোগ করুন৷