ফিলিস্তিনী বন্দীর লেবাননে মুক্তিলাভ
১৫ জুলাই ২০০৯
হ্ত্যাকান্ডে সহযোগিতার অভিযোগে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লেবাননের কারাগারে আটক এক ফিলিস্তিনী নাগরিককে গত ১৩ জুলাই রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দেয়া হয়েছে। যদিও তিনি সবসময়ই দাবী করে আসছেন যে, ওই হত্যকান্ডের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিলো না।
লেবাননে বসবাসকারী ফিলিস্তিনী নাগরিক ইউসুফ ছাবানকে ১৯৯৪ সালে কারাগারে আটক করা হয়। ওই সময়ে বৈরুতে কর্মরত জর্ডানীয় কূটনৈতিক নায়েব ওমরান আল-মাইতাকে হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে লেবাননের জাস্টিজ কাউন্সিল এক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।
বিগত দিনগুলোতে ইউসুফ ছাবান সবসময়ই নিজেকে নির্দোষ দাবী করে আসছিলেন। তিনি লেবানীজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও ডিটেশনরত অবস্থায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এদিকে কূটনৈতিক হত্যার ঘটনায় জর্ডানের আদালতে এক মামলা দায়ের করা হয়। ২০০২ সালে ওই মামলার রায়ে অন্যদের দোষী সাব্যস্ত করা হলেও ইউসুফ ছাবানকে দোষী করা হয়নি। কিন্তু তারপরও লেবানীজ সরকার তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। কারণ লেবাননের আইন অনুযায়ী জাস্টিজ কাউন্সিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না এবং এই রায় বাতিলও হয় না। যেকারণে বিচার-বিভ্রাটের মতো ঘটনা ঘটলে অর্থাৎ আদালত সুষ্ঠ বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সেটির প্রয়োজনীয় সংশোধন দ্রুত আনা সম্ভব হয় না।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর ইউসুফ ছাবানের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের বিচার-বিভ্রাটের বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল সুলাইমান তাকে বিশেষ ক্ষমা প্রদর্শন করেন। যার প্রেক্ষিতে তিনি মুক্তি পেলেন।
ইতোপূর্বে প্রেসিডেন্ট সুলাইমানের পূর্বসূরিরা কেন একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন তা সুস্পষ্ট নয়। ইচ্ছেমাফিক বিনাবিচারে আটক সংক্রান্ত জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপে ২০০৭ সালের জুন মাসে ইউসুফ ছাবানের আটকাদেশকে ইচ্ছেমাফিক উল্লেখ করে বিষয়টি সুরাহা করতে লেবানীজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। মুক্তি পাওয়ার পর দক্ষিণ বৈরুতের বুরুজ আল-বারাজনেহ শরনার্থী শিবিরে ফিরে এলে ইউসুফ ছাবানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তাকে বরণ করে নিতে অনেক মানুষ জমায়েত হন, মহিলারা চাল ও ফুল দিয়ে আনন্দ ও উল্লাসের মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করেন আর পুরুষদের কেউ কেউ তাকে কাঁধে তুলে নেন।
‘আমি তাকে এক মিনিটের জন্যেও ছাড়বো না, সে আমার নতুন বন্ধু।’- এভাবেই উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানায় ইউসুফ ছাবানের কিশোরী কন্যা হানিন। বাবাকে কারা অভ্যন্তরে লোহার বারের পিছনে দেখতে দেখতে হানিন বড় হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউসুফ ছাবানের মুক্তিকে বিপুলভাবে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি ২০০৭ সালের ডিসেম্বর থেকে লেবানীজ কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিষয়টিকে জরুরিভিত্তিতে পর্যালোচনার দাবী জানিয়ে আসছিল।
তাছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিজ কাউন্সিলের পুনর্গঠন কিংবা বিলুপ্তির আহ্বানও জানিয়ে আসছে। কারণ কাউন্সিল আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সুষ্ঠু বিচার কার্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বেশিরভাগ সময় কাউন্সিল রাজনৈতিক বিবেচনা দ্বারা প্রভাবিত হয়, এখানকার শুনানী প্রায়শ দীর্ঘ হয়, যা সুষ্ঠু বিচারের অধিকার খর্ব করে এবং এখানে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আবদেন করার অধিকারও কারো নেই, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করার কোনো সুযোগ এখানে রাখা হয়নি।
Delicious
Digg
Facebook
Technorati